প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাজ্যের লন্ডনের রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছেন আবুধাবির রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত মাহরাহ আল নাহিয়ান। ৩২ বছর বয়সী ওই নারীর পাশে তখন অযত্নে পড়ে ছিল একটি তিন বছর বয়সী শিশু।
মাহরাহ এই ঘটনার জন্য দোষ স্বীকার করেছেন। যুক্তরাজ্যের আদালত তাকে দুই বছরের পুনর্বাসন কর্মসূচি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া, তাকে ৬ হাজার ১১৪ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে। তবে রাজপরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং শিশুটির পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যায়নি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৩ জুন পশ্চিম লন্ডনের একটি ব্যস্ত সড়কে অচেতন অবস্থায় মাহরাহকে পাওয়া যায়। তার সঙ্গে থাকা তিন বছরের শিশুটি তখন জুতা ছাড়াই সড়কের পাশে খেলছিল। কাছাকাছি এক ব্যক্তি অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পথচারীরা শিশুটিকে একা এবং চলন্ত যানবাহনের কাছাকাছি দেখে এগিয়ে আসেন। পুলিশ আসার আগ পর্যন্ত তারাই শিশুটির দেখাশোনা করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোকেন সেবনের পর প্রায় আধা ঘণ্টা মাহরাহ সাড়া দিচ্ছিলেন না। জ্ঞান ফেরার পর তিনি বলেন, “এটি কোনো কসাইখানা নয়। আপনারা এতটা মাথা ঘামাচ্ছেন কেন? এত চিন্তিত কেন?”
পরে তল্লাশির সময় তার কাছে মাদক গ্রহণের সরঞ্জাম পাওয়া গেলেও কোনো অবৈধ মাদক পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর তাকে ইংল্যান্ডের সারেতে ওকিংয়ের প্রিয়রি ক্লিনিকে আসক্তির চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।
গত মঙ্গলবার সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে শিশুর প্রতি অবহেলার অভিযোগ স্বীকার করেন মাহরাহ। তিনি বিয়ের সূত্রে আবুধাবির রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতি মাসে ৮ হাজার পাউন্ড ভাতা পান তিনি। তবে এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
আদালতে সরকারি কৌঁসুলি রিও পাহলাভানপুর বলেন, শিশুটিকে জুতা ছাড়া রাস্তায় একটি স্কুটারের সঙ্গে একা ঘুরতে দেখা যায়। শিশুটি চলন্ত যানবাহনের খুব কাছাকাছি থাকায় পথচারীরা হস্তক্ষেপ করেন।
অন্যদিকে, মাহরাহর আইনজীবী স্টিফেন ভুলো কেসি বলেন, তার মক্কেল ওই দিনের ঘটনাকে ‘গুরুতর ভুল’ হিসেবে স্বীকার করেছেন। তবে আইনজীবীর দাবি, যেদিন তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়, সেদিন তিনি মাদক গ্রহণ করেননি; বরং আগের কয়েক দিনে মাদক গ্রহণের কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন।
আইনজীবী আরও জানান, নিজের আসক্তি কাটিয়ে উঠতে মাহরাহ অনুতপ্ত এবং চিকিৎসা সম্পন্ন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি তিন মাসের পুনর্বাসন কর্মসূচির সব ধাপ শেষ করার পরিকল্পনা করছেন। চলতি মাসের শেষ নাগাদ কর্মসূচিটি শেষ হওয়ার কথা।
ভবিষ্যতে গিল্ডফোর্ড এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সেখান থেকে দিনের বেলায় চিকিৎসা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। আদালত মাহরাহকে দুই বছরের কমিউনিটি পুনর্বাসন কর্মসূচি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি তাকে ৬ হাজার ১১৪ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন