বৃহস্পতিবার, ২২শে জানুয়ারী, ২০২৬ ইং
০৩:১০ পি.এম
সৌদি আরবের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘হিউমেইন’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডিজিটাল অবকাঠামো বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের বিপুল বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছে।
এটি সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এআই খাতে তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।
রিয়াদ থেকে এ প্রসঙ্গে এএফপি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে।
বুধবার একটি প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৌদি ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ডের সাথে হিউমেইন একটি সমঝোতা স্মারক সাইন করেছে। এই চুক্তির অধীনে ২৫০ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিশেষ ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর বড় আকারে বিনিয়োগে মনোনিবেশ করছে, যাতে তারা অর্থনীতিকে তেলের ওপর নির্ভরতা থেকে মুক্তি দিতে পারে। প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সার্বভৌম তহবিলের সাহায্যে গত বছরের মে মাসে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে।
হিউমেইন-এর প্রধান নির্বাহী তারেক আমিন জানিয়েছেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বমানের এআই ডেটা সেন্টার গড়ে তোলা। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ক্রমবর্ধমান কম্পিউটিং চাহিদার জন্য আমাদের প্রযুক্তি নিশ্চিত করবে সহজ অভিগম্যতা।’
সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতও বর্তমানে ডেটা সেন্টার ও এআই ভিত্তিক বিভিন্ন জেনারেটিভ মডেলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, হিউমেইন এবং সৌদি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড একটি ‘ডেটা সেন্টার ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যাটফর্ম’ গঠনের পরিকল্পনা করেছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করে হিউমেইন-এর এআই কৌশলকে বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করতে সহায়তা করবে।
গত নভেম্বরে, হিউমেইন মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া’র সাথে একটি অংশীদারিত্ব ঘোষণা করেছে, যা সৌদি আরবের কাছে উন্নত মানের মাইক্রোচিপ বিক্রিতে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে একটি মহিলা মাদরাসা ও এতিমখানার দুই ছাত্রীকে প্রতারণার মাধ্যমে কক্সবাজারে নিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগে ৪৩ বছর বয়সী আয়াত উল্লাহকে আটক করেছে পুলিশ।
তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি মাদরাসা থেকে দুই ছাত্রীকে বের করে রূপনগর এলাকা হয়ে কক্সবাজারে নিয়ে যান। সেখানে একটি হোটেলে গিয়ে তাদের উপর নির্যাতন করেন।
নির্যাতনের শিকার পূর্ববর্তী দুই বোনের মধ্যে বড় বোন ১৬ পারা হেফজ সম্পন্ন করেছেন এবং ছোট বোন, যিনি নাজেরা বিভাগে অধ্যয়নরত।
অভিযুক্ত আয়াত উল্লাহ স্থানীয় কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের মৌলভীকাটা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অধিবাসী। ভুক্তভোগীদের মা গণমাধ্যমকে জানান, এই ঘটনার পর তার মেয়ে দুটি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছে এবং তিনি দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বাতেন মৃধা জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা এবং চিকিৎসার সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। মামলার কার্যক্রম চলছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর কুড়িল মৃধাবাড়ি এলাকার একটি বাড়ির পানির ট্যাংক থেকে সম্প্রতি উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচ বছরের আরিফা নামে এক শিশুর মরদেহ। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তার ভাবি ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং মরদেহটি পানির ট্যাংকে ফেলে রেখেছে বলছে পুলিশ।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শিশু আরিফার মরদেহ উদ্ধার করার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে মরদেহের ময়নাতদন্ত হবে। এছাড়া, এ ঘটনায় ঘটনার সাথে জড়িত ভাবি খাদিজা আক্তার (১৬) কে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আরিফা শরীয়তপুরের ডামুড্ডা উপজেলার সিদুলকুড়া গ্রামের রাজিব ও হাবেজা বেগমের মেয়ে। সে দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিল। পরিবারটি ভাটারা থানাধীন কুড়িল মৃধাবাড়ির জহির নামক স্থানে বসবাস করে। সম্প্রতি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছিল আরিফাকে।
ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মওদুদ কামাল ঘটনার সত্যতার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভাড়া বাসাটিতে দিনমজুর রাজিব ও হাবেজা দম্পতি থাকেন, তাদের দুটি ছেলে এবং একটি মেয়ে আছে, শিল্পতত্ত্বে ছাড়াও বড় ছেলের স্ত্রী ও সেখানে অবস্থান করছিল। বুধবার বিকেলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে চলে আসে এবং পানির ট্যাংক থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। জানা যায়, শিশুটির গলায় শ্বাসরোধের দাগ রয়েছে এবং ঠোঁটে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
মওদুদ কামাল আরো জানান, প্রতিবেশীরা জানায়, আরিফার ভাবি খাদিজা আরিফাকে সহ্য করতে পারছিল না। আরিফার ভাই হাসান তাকে বাইরে থেকে কিছু নিয়ে আসলে খাদিজা তার সাথে ঝগড়ায় জড়িয়ে যায়। ঘটনার দিন সকালে, পরিবারের সবাই কাজে চলে গেলে আরিফা একা ছিল। সকালে সাড়ে ৭টার দিকে খাদিজা তাকে গলা চেপে ধরে ৩-৪ মিনিট ধরে শ্বাসরোধ করে। শিশুটি অচেতন হয়ে গেলে, খাদিজা তার মরদেহ কোলে করে ট্যাংকে ফেলে দেয়।
ঘটনার ১০-১৫ মিনিট পরে, আরিফার মা ফিরে এসে তাকে দেখতে পায়নি। এরপর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করার পর কেউ আরিফাকে বের হতে দেখেনি। পরিবারের সদস্যরা আরো খোঁজাখুঁজি করার পর পানির ট্যাংকে মরদেহটি পেয়ে যান। এরপর তারা খাদিজাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি এই হত্যার কথা স্বীকার করেন।
এসআই জানান, খাদিজাকে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে এবং তিনি স্বীকার করেন যে তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ খাদিজা আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে আরিফার মরদেহের ময়নাতদন্ত হবে। খাদিজা ছাড়া অন্য কাউকে জড়িত পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিআইবি (প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ) এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের উদ্যোগে কক্সবাজারে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা’ বৃহষ্পতিবার দুপুরে সমাপ্ত হয়।
কক্সবাজার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালার সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল মন্নান।
কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত শতাধিক সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল মন্নান বলেন, “এটি একটি যথাসময়ে আয়োজন করা গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।”
তিনি এই প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “আমাদের নির্বাচন পরিচালনার প্রক্রিয়া সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল সহযোগিতা পেলে প্রশাসনের কার্যক্রমকে আরও উন্নত এবং সুচারু ভাবে সম্পন্ন করবে।”
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “এই নির্বাচন জনগণের জন্য। আমরা প্রশাসনের সদস্যরা বাইরের হলেও আপনারা এখানকার স্থানীয় জনগণ, এখানেই থাকবেন। তাই এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে আপনাদের ভূমিকা অতিমাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি যোগ করেন, “দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তি কাটিয়ে এখন দেশ একটি সংগঠিত নির্বাচনী পর্যায়ে রয়েছে এবং কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ৫৯৮টি কেন্দ্রে একটি সুষ্ঠু, অবাধ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
সংবাদ পরিবেশন করার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “ছোটোখাটো বা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা অতিরঞ্জিত করে সংবাদ পরিবেশন করলে অনেক সময় এর ফলাফল নেতিবাচক হতে পারে।”
তিনি সাংবাদিকসহ সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সহযোগিতা কামনা করে কক্সবাজারকে একটি ‘মডেল নির্বাচন’ উপহার দেওয়ার আশা ব্যক্ত করেন।
ভুয়া তথ্য এবং গুজব প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক সবাইকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ভুয়া তথ্যের বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। বিভ্রান্তিকর তথ্য পেলে সরাসরি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য আমি অনুরোধ জানাতে চাই।”
আরও বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ সচিব আল মারুফ, কোর্সকোঅর্ডিনেটর শাহীন, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী এবং কক্সবাজার প্রেসক্লাব সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী।
কর্মশালার সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা নির্বাচনকালীন দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা সম্পর্কে নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং মতামত তুলে ধরেন এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশের হাত থেকে পালাতে উদ্যোগী এক মাদকাসক্ত ব্যক্তি নর্দমার পানিতে ঘাড় পর্যন্ত ডুবে গিয়েছিলেন। এই ঘটনা চাঞ্চল্যকর নিদর্শন হিসেবে একটি ভিডিওতে রেকর্ড করা হয়েছে এবং তা সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়েছে।
ভিডিওর মাধ্যমে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি নোংরা কাপড় দিয়ে তার মুখ ঢাকা রেখেছেন এবং নর্দমায় লুকিয়ে আছেন। তার আশেপাশে অবস্থানরত অন্যান্য মাদকাসক্তদের পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। অনেক খোঁজার পর শেষমেশ পুলিশ তাকে খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়। এরপর তাকে উদ্ধার করে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে প্রাপ্ত প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র, কেউ তার সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ মন্তব্য করেছেন যে, মাদকাসক্ত অবস্থায় একজন ব্যক্তি পরিষ্কার ও নোংরা পানির মধ্যে পার্থক্য করতে অক্ষম থাকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ