প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ৩৬ দিনের আন্দোলনের সূচনা ঘটে ১ জুলাই থেকেই। উচ্চ আদালতের এক রায়কে কেন্দ্র করে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। এ আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উৎপত্তি করে ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সড়কে যেমন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও নেমে আসেন।
শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলনকে দমাতে ব্যাপক দমনপীড়ন চালায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ফলে আন্দোলন আরও তীব্রতর হয়ে ওঠে।
শাহবাগে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে থাকেন। সরকারের দমনপীড়ন বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও আন্দোলনে বাড়তে থাকে। আওয়ামী দুঃশাসনে ক্ষুব্ধ মানুষ তাদের সমর্থন যোগায় আন্দোলনে।
১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে পুলিশ। ওইদিন চট্টগ্রামে শহীদ হন ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম। সারাদেশজুড়ে আন্দোলন দাবানলের মতো জ্বলে ওঠে।
জাতিসংঘের হিসেবে এরপরের প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় ১৪০০ এরও বেশি মানুষকে, যাদের মধ্যে শিশুরাও ছিল।
এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সড়কে আসে শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনমুখী লাখো মানুষের ঢল। অবস্থা যখন বেগতিক হয়ে পড়ে, তখন দুপুরে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। এটি ছিল কর্তৃত্ববাদী এক শাসনের পতন। গণভবন ও সংসদভবন দখলে নেয় ছাত্র-জনতা।
পরে জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলার তদন্তে এটি প্রকাশ্যে আসে যে, নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের হত্যা করতে শেখ হাসিনা মারণাস্ত্র ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এমনকি তিনি হেলিকপ্টার থেকে গুলি করার নির্দেশও দিয়েছিলেন। যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে নগ্নভাবে ব্যবহারের প্রমাণও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পেয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন