প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চিলির ৭০ বছর বয়সী ইভোনে ভিলদোসোলা আবারও প্রমাণ করলেন যে বয়স কেবল একটি সংখ্যা। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে অভিষেক করার একটি অনন্য ও অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। চিলির জাতীয় নারী ক্রিকেট দল 'লাস লোইকাস'-এর হয়ে কোস্টারিকার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ওপেনার হিসেবে মাঠে নেমে এই কীর্তি অর্জন করেন তিনি।
এই ঐতিহাসিক ম্যাচের সবচেয়ে চমকপ্রদ এবং আবেগঘন দিকটি ছিল, যখন ইভোনে ভিলদোসোলা দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্যাপ মাথায় নিচ্ছিলেন, তখন তার ১৬ বছর বয়সী নাতনি ক্যামিলা ওয়ারস দলের অধিনায়কত্ব করছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নাতনির অধীনে দাদির খেলার এমন ঘটনা ইতিহাসে এটাই প্রথম।
যেভাবে ক্রিকেটে আগমন
ইভোনের ক্রিকেটীয় যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালে। চিলির নিউবলে অঞ্চলে নারী ক্রিকেট দলের তৎকালীন অধিনায়ক জ্যানেট গার্সেসের উদ্যোগে একটি 'মা-মেয়ে' ক্রিকেট ইভেন্টের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে নাতনি ক্যামিলার বিশেষ অনুরোধে প্রথমবার মাঠে গিয়ে ক্রিকেটের ব্যাট-বলের সাথে পরিচয় ঘটে এই প্রবীণের। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। কঠোর পরিশ্রম এবং খেলার প্রতি ভালোবাসা তাকে ৭০ বছর বয়সে চিলির জাতীয় দলে জায়গা করে দিয়েছে।
রেকর্ড বইয়ে ইভোনে
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে (পুরুষ ও নারী উভয় ক্যাটাগরিতে) সবচেয়ে বেশি বয়সে অভিষেক করার বিশ্বরেকর্ড এখন ইভোনের দখলে। সামগ্রিক পেশাদার ক্রিকেটের ইতিহাসে ১৯৫০-৫১ মৌসুমে ৭২ বছর বয়সে ভারতের রাজা মহারাজ সিংয়ের প্রথম শ্রেণির অভিষেকের পর ভিলদোসোলা সবচেয়ে প্রবীণতম ক্রিকেটার হিসেবে মাঠে নামলেন।
অভিষেক ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমে কোনো রান না করেই সাজঘরে ফিরতে হয়েছে তাকে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও জয়েন্টের সমস্যার কারণে তিনি বল করতে পারেন না, তবে ক্রিকেটীয় টেকনিক মেনে সোজাসুজি শট খেলে ব্যাটিং করতে পছন্দ করেন।
ম্যাচ শেষে চিলির অধিনায়ক ও নাতনি ক্যামিলা ওয়ারস জানিয়েছেন, মাঠে তার দাদির উপস্থিতি পুরো দলের জন্য এক বিশাল শক্তির উৎস ছিল। রানের খাতার চেয়ে বয়সকে জয় করে মাঠে নামার এই মানসিকতা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন