প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের বিশ্বাসপুর গ্রাম উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা এবং যাতায়াতে ন্যূনতম সুযোগের অভাবে গ্রামের মানুষের কাছে আগামীর বাংলাদেশের স্বপ্ন এখনও অধরাই রয়ে গেছে।
গ্রামটি তিন দিকে বিল এবং এক দিকে খালের মাঝে অবস্থিত। পশ্চিম পাড়ায় অবস্থিত বিশ্বাসপুরে বর্ষাকালে পিচ্ছিল এবং কর্দমাক্ত উচুনিচু রাস্তা পারাপার করতে হয়, আর শুকনো মৌসুমে ধুলোবালি মাখা উচুনিচু মেঠো পথে চলাচল করতে হয়।
পশ্চিম পাড়ায় প্রায় শতাধিক পরিবার বসবাস করে। কৃষক, শিক্ষক, সরকারি ও বেসরকারি চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। যাতায়াতের দুরবস্থার কারণে গ্রামের শিশুরা স্কুলে যেতে আগ্রহী নয়।
১৯২০ সালে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য বাকুন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস,কে মানিক শাহীন জানান, "আমার স্কুলের মেইন কেচম্যান এলাকা হলো বিশ্বাসপুর, সেখানকার ছাত্র/ছাত্রীরা ফসলিজমির আইল দিয়ে আমার স্কুলে এসে পড়াশুনা করে।" বর্ষাকালে হাটু পানি পাড়ি দিয়ে স্কুলে আসা ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য বেশ সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি আরও বলেন, "বিশ্বাসপুর গ্রামে আমি দীর্ঘ ১৪ বছর যাবত চাকরি করে আসতেছি। এই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিশেষ করে রাস্তাঘাট খুবই খারাপ, যার কারণে শিক্ষা ও চিকিৎসা থেকে বিশ্বাসপুর ও বাকুন্দা গ্রামের শত শত পরিবার দিনের পর দিন বঞ্চিত হচ্ছে।" বর্তমান সরকার, মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং নবনির্বাচিত এমপি মির্জা ফয়সল আমিন মহোদয়কে বিশ্বাসপুর ও বাকুন্দা গ্রামের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, "আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ জন দুর্ভোগ বিষয় তুলে ধরেছেন, আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আপনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।"
বিশ্বাসপুর গ্রামের মোঃ আবু হেলাল বলেন, "আমার বাবার বাড়ি এই গ্রামে। ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি এই রাস্তাটি পাকাকরণ হবে। আজ অবধি শুধু পাকা কেন, বর্ষায় ভেঙে যাওয়া রাস্তাটিতে সরকারি ভাবে মাটি দিয়েও ঠিক করা হয়নি।" তিনি আরও জানান, "এখন মনে হয় এটি স্বপ্ন বাস্তবে দেখতে পাবো কি না জানিনা।" স্কুলে যাওয়ার জন্য কোন রাস্তা ছিল না, তাই পাড়ার সবাই মিলে জমির আইল দিয়ে হেঁটে স্কুলে যাতায়াত করেছেন। তবে তার বাবা মোরহুম আব্দুল কুদ্দুস জীবিত থাকা অবস্থায় তিনি এবং তার চাচারা মিলে স্বেচ্ছাশ্রমে একটি রাস্তা তৈরি করেছেন, যা দিয়ে বর্তমানে গ্রামের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যাতায়াত করতে পারে।
গ্রামের মেয়ে শিক্ষক সীমা আকতার বলেন, "একটি গ্রাম অথবা একটি এলাকা উন্নয়ন করতে হলে প্রথমেই দরকার যোগাযোগ ব্যবস্থা।" তাই বিশ্বাসপুর গ্রামের মানুষকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও যাতায়াতে ন্যূনতম সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। তিনি আশা করেন, "আপনার মাধ্যমেই স্ব স্ব কর্তৃপক্ষের নজরে এনে গুরুত্বপূর্ণ জন দুর্ভোগ সমাধানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
বিশ্বাসপুর পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদের ইমাম ধন মোহাম্মদ জানান, "বিশ্বাসপুর গ্রামে প্রবেশের কোনো পাকা রাস্তা নেই। কাঁচা রাস্তা সংস্কারে কত টিআর, কাবিটা আসে। কিন্তু এ বিশ্বাসপুর গ্রামের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা, অথচ রাস্তাটি এখনও অযত্নে অবহেলিত হয়ে রয়েছে।" তিনি দাবি করেন, "দ্রুততম সময়ে এই রাস্তাটি পাকা করা হোক।"
বিশ্বাসপুর গ্রামের উদীয়মান ব্যবসায়ী মোঃ হাসান আলী জানান, "যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় উন্নয়ন বঞ্চিত বিশ্বাসপুর। ফুটকিবাড়ি মাদ্রাসা মোড় থেকে ভকদগাজি বাজার পর্যন্ত সেটেলমেন্ট রেকর্ডের ২০ ফিট প্রশস্ত খাস হালট রয়েছে।" তিনি জানান, "এ হালটে মাটি ফেলে রাস্তার দাবি বহুদিনের। রাস্তাটি হলে পটুয়া, ফুটকিবাড়ি, বাকুন্দা, বিশ্বাসপুরসহ আশেপাশের প্রায় ২০/২৫টি গ্রামের মানুষের সহজ যাতায়াত সম্ভব হতো।"
বিশ্বাসপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক মোঃ পাঞ্জাব আলী (মাস্টার) জানান, "এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। শিক্ষা-দীক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতায় আমরা পিছিয়ে।" তিনি উল্লেখ করেন, "স্বাধীনতার ৬৬ বছরে উন্নয়নে দেশের অনেক কিছুই বদলে গেছে। আশপাশের গ্রামও বদলে গেছে। কিন্তু বদলে যায়নি বিশ্বাসপুর পশ্চিম পাড়া।" অশিক্ষা, বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে বিশ্বাসপুর অন্ধকারে ডুবে আছে। তিনি আশা করেন, "আমাদের চলাচলের এই একমাত্র রাস্তাটি পাকা করণ করা হলে আমাদের এলাকাটি উন্নত হবে।"
তবে ২০২৩ সালে স্থানীয়ভাবে নিজ উদ্যোগে মোরহুম কৃষক আব্দুল কুদ্দুস, পান্জাব আলী মাস্টার, মোঃ মোস্তফা সহ স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের চাষাবাদি ফসলি জমি স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিয়ে স্কুল পড়ুয়া ছাত্র/ছাত্রীর যাতায়াত এবং ফসলী জমির ফসল আনা নেওয়া সহজ করতেই স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মাণ করেছেন। তবে সে রাস্তায় এখনও সরকারি ভাবে কোন ধরনের এক মুঠো মাটিও দিয়ে দেখাশুনা করা হয়নি, অভিযোগ স্থানীয়দের।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মাবুদ হোসেনের সাথে আমাদের প্রতিনিধি মাসুদ রানা পলক কথা হলে তিনি জানান, "এই রাস্তাটির অবস্থা সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন।" তিনি বলেন, "বিষয়টি তিনি তার উচ্চতন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে কিভাবে দ্রুততম সময়ে কাঁচা রাস্তাটি পাকা করণ করা যায় সে বিষয়ে জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন