প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকারি কর্মক্ষেত্র এবং স্কুলগুলোতে ধর্মীয় অনুষঙ্গের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে চীন। দেশটির চেংডুর একটি সরকারি হাসপাতাল কর্মীদের তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের এবং তাদের পিতামাতার ধর্মীয় পটভূমি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
সম্প্রতি, নিউ ইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইপোক টাইমস (টিইটি)-এর একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানায় ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই।
টিইটি-এর উদ্ধৃতি অনুসারে, ফাঁস হওয়া অভ্যন্তরীণ নথি এবং এই কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিরা ইঙ্গিত করেছেন যে, একটি সরকারি হাসপাতালের স্থায়ী কর্মী, চুক্তিভিত্তিক কর্মী এবং অস্থায়ী কর্মচারীদের তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে তথ্য প্রদান করতে বলা হয়েছে। হাসপাতালটি একটি অভ্যন্তরীণ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে জানায় যে, ‘মতাদর্শগত, জাতিগত এবং ধর্মীয় কাজের নিয়মিত তদন্ত’-এর প্রয়োজনীয়তা বাস্তবায়নের জন্য তারা কর্মচারীদের ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর একটি ব্যাপক সমীক্ষা পরিচালনা করছে। বিজ্ঞপ্তিতে হাসপাতালকে ‘কাউকে বাদ না দিয়ে প্রত্যেক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার’ নির্দেশ দেওয়া হয়।
টিইটি-এর মতে, সব কর্মচারীকে বাধ্যতামূলকভাবে সব তথ্য দিতে বলা হয়েছিল এবং প্রাসঙ্গিক বিবরণ গোপন করা বা বাদ দেওয়া নিষিদ্ধ ছিল। যেসব কর্মচারীর কোনো ধর্মীয় অনুষঙ্গ ছিল না, তাদেরও নিবন্ধন করে ‘কোনো ধর্মীয় বিশ্বাস নেই’ নির্বাচন করতে বলা হয়েছিল। বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) সদস্যদের কোনো ধর্ম পালনের অনুমতি নেই। ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতা আছে এমন কর্মচারীদের বিষয়ে তাদের পার্টি শাখায় জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষা ব্যবস্থাতেও একই ধরনের চর্চা প্রচলিত রয়েছে। সিচুয়ানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেন নামে পরিচিত একজন প্রশাসনিক কর্মচারী দ্য ইপোক টাইমসকে জানান, স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে তদন্ত করছে এবং উচ্চতর কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য তথ্য সংকলন করছে। এদিকে, চেংডুর শিক্ষা কর্তৃপক্ষের একজন কর্মচারীও টিইটি-কে জানিয়েছেন যে, নতুন শিক্ষার্থীরা স্কুলে প্রবেশের আগে শিক্ষা ব্যবস্থা তাদের পরিবারের ওপর বার্ষিক পটভূমি যাচাই করে এবং সংগৃহীত তথ্যের মধ্যে ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতাও অন্তর্ভুক্ত থাকে।
দ্য ইপোক টাইমসের মতে, এই পদক্ষেপগুলো ধর্মকে রাজনৈতিক ও আদর্শগত ব্যবস্থাপনার একটি বিষয় হিসেবে বিবেচনা করার ক্ষেত্রে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সিসিপি বারবার ধর্মীয় বিষয়ে পার্টির নেতৃত্বকে সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছে এবং একইসঙ্গে ‘ধর্মের চীনাকরণ’ নীতি প্রচার করেছে।
টিইটি-র তথ্যমতে, ২০২৫ সালে চীনা নেতা শি জিনপিং আবারও সব স্তরের পার্টি কর্তৃপক্ষকে ধর্মীয় বিষয়ে তাদের নেতৃত্ব জোরদার করতে এবং ধর্মীয় কাজকে পার্টির সামগ্রিক নেতৃত্ব ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। (এএনআই)
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন