প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আটটি পাটের গুদাম ও তিনটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গুদামগুলোতে মজুত প্রায় তিন হাজার মণ পাটসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল আগুনের গ্রাসে বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, এ ঘটনায় প্রায় দুই কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজে নামে। প্রায় দুই ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে পুড়ে যায় একাধিক গুদাম ও দোকান। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফলিয়া বাজারের একটি পাটের গুদামে প্রথম আগুনের শিখা দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুন আশপাশের গুদাম ও দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে গুদামে স্তূপ করে রাখা পাট ও অন্যান্য মালামালের অধিকাংশই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় আটটি পাটের গুদাম, একটি চায়ের দোকান ও দুটি কাঁচামালের দোকান পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন মাসুদ মন্ডল, ইমরুল ফকির ও সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ।
তাঁদের ভাষ্য, গুদামগুলোতে মজুত প্রায় তিন হাজার মণ পাট আগুনে পুড়ে গেছে। পাশাপাশি দোকানের মালামাল ও গুদামের অন্যান্য সম্পদ পুড়ে যাওয়ায় সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুই কোটি টাকা।
ফলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা আহমদ শিকদার বলেন, স্থানীয় লোকজন প্রথমে একটি পাটের গুদামে আগুন জ্বলতে দেখেন। পরে মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের গুদাম ও দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিপুল পরিমাণ পাটসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সোহেল রানা বলেন, খবর পাওয়ার পর আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে এর আগেই বেশ কয়েকটি গুদাম ও দোকান পুড়ে যায়। কিছু মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত এখনো শনাক্ত করা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজও করা হচ্ছে।
এদিকে আকস্মিক এ অগ্নিকাণ্ডে ফলিয়া বাজারের পাট ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গুদামে মজুত পাট ও দোকানের মালামাল হারিয়ে অনেক ব্যবসায়ী বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এ বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন