প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিজেদের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একটি অভূতপূর্ব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন কানাডাকে জোটের প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ বা অ্যাসোসিয়েট মেম্বার করার প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। তবে এই ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি ইইউ-কানাডা চুক্তিকে ‘শত্রুতাপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে বিবেচনা করলে ইউরোপের ওপর ভারী শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
বুধবার ফ্রান্সে একটি ভাষণে উরসুলা ভন ডার লিয়েন উল্লেখ করেন, বদলে যাওয়া বিশ্ব পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক জোটগুলোর সম্পর্ককে সর্বোচ্চ উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া অপরিহার্য। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে পাশে রেখে তিনি এই প্রস্তাব দেন। কার্নি এই উদ্যোগকে একটি ‘অনন্য জোট’ হিসেবে বর্ণনা করে ইউরোপের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প পূর্বে একাধিকবার কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ বানানোর প্রস্তাব দিলে কার্নি তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
ভৌগোলিক সীমানার কারণে উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা ইইউর পূর্ণাঙ্গ সদস্য হতে পারবে না। তবে প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় উভয় দেশ মুক্ত বাণিজ্যকে জোরদার করবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং প্রযুক্তি অবকাঠামো নির্মাণে সহযোগিতা করবে, এবং সমরাস্ত্র ও তথ্যপ্রযুক্তিতে একযোগে কাজ করবে। পাশাপাশি, ইউরোপের জ্বালানি ও জরুরি খনিজ পদার্থের চাহিদা পূরণে কানাডা গ্যাস ও ব্যাটারি তৈরিতে ব্যবহৃত খনিজ সরবরাহ নিশ্চিত করবে। কানাডিয়ানদের জন্য ইউরোপে ভিসা-মুক্ত বসবাসের সুযোগ তৈরি করার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে।
নতুন এই অর্থনৈতিক ও কৌশলগত জোটের খবর প্রকাশিত হতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘হাস্যকর’ ও ‘শত্রুতাপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই চুক্তির উদ্দেশ্য যদি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে চলে যায়, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর আরও কঠোর শুল্ক চাপানো হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন