প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সারাতভ অঞ্চলের ইংগেলস শহরে এক রুশ মেজর জেনারেলকে গুলি করার চেষ্টা করা হয়েছে। গুলিতে আহত ওই সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে বেঁচে আছেন।
প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মস্কোয় স্থানান্তরিত করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাশিয়ার তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ইংগেলস শহরে এক সেনাসদস্যকে লক্ষ্য করে কয়েকবার গুলি করার ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে ওই সেনাসদস্যের নাম বা পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
কিছু রাশিয়ান টেলিগ্রাম চ্যানেলে দাবি করা হয়েছে যে, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি মেজর জেনারেল নিকোলাই ভারপাখোভিচ। তিনি রুশ মহাকাশ বাহিনীর দূরপাল্লার বিমান শাখার ২২তম ভারী বোমারু বিমান বিভাগের কমান্ডার। রাশিয়ার তদন্ত কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ইংগেলস শহরে ওই সেনা কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে কয়েকবার গুলি করা হয়, যার ফলে তার মুখ ও শরীরে গুলির আঘাত লাগে।
পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরে তাকে মস্কোয় স্থানান্তরিত করা হয়।
ইংগেলস শহর রাশিয়ার কৌশলগত বোমারু বিমান বহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেখানে টি-৯৫এমএস ও টি-১৬০ ধরনের ভারী বোমারু বিমান রয়েছে। ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাশিয়া এসব বিমান ব্যবহার করে থাকে।
ঘটনাটির বিষয়ে ইউক্রেন সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার নিয়মিত ভাষণে সারাতভের ঘটনার উল্লেখ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, রাশিয়ার কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেন ‘অসম অভিযান’ চালাবে। জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার অপরাধীরা লুকিয়ে থাকতে পারবে না এবং তাদের খুঁজে বের করা হবে। তিনি আরো বলেন, সারাতভ অঞ্চলে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো এর আরেকটি প্রমাণ।
মেজর জেনারেল নিকোলাই ভারপাখোভিচের বিরুদ্ধে ইউক্রেন যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছে। সম্প্রতি ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা ও প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয় তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। ইউক্রেনের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তার অধীনে থাকা রুশ সেনাদের কিয়েভের ওখমাতদিত শিশু হাসপাতালে খ-১০১ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। ওই হামলায় তিনজন নিহত হন, যাদের মধ্যে এক শিশু ছিল। আহত হওয়ার পর শিশুটি মারা যায়। এ ছাড়া হামলায় কয়েক ডজন মানুষ আহত হন এবং হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার মধ্যে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র, ক্যানসার চিকিৎসা বিভাগ ও অস্ত্রোপচার বিভাগ অন্তর্ভুক্ত।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিমান হামলার সতর্কবার্তা পাওয়ার পর শত শত রোগী ও হাসপাতালের কর্মীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে সতর্কবার্তা পাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর ক্ষেপণাস্ত্রটি হাসপাতালে আঘাত হানে। সে সময় কিছু রোগী হাসপাতালে ছিলেন, তাদের মধ্যে হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার চলছিল এমন তিনজন রোগীও ছিলেন। ভারপাখোভিচের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে রাশিয়া কী বলেছে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ওখমাতদিত হাসপাতালে হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ভারপাখোভিচের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ কয়েকটি দেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হামলার শিকার হওয়া রাশিয়ার সর্বশেষ জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের একজন হিসেবে ভারপাখোভিচের নাম সামনে এসেছে। এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার পারমাণবিক, রাসায়নিক ও জৈবিক সুরক্ষা বাহিনীর প্রধান জেনারেল ইগর কিরিলভ নিহত হন। মস্কোয় তার কাছে রাখা একটি স্কুটারে বিস্ফোরক বিস্ফোরণের পর তিনি নিহত হন। এর আগে ও পরে আরো কয়েকজন জ্যেষ্ঠ রুশ সামরিক কর্মকর্তা হামলায় নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়ারোস্লাভ মস্কালিক ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফানিল সারভারভ রয়েছেন, যারা গাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত হন। এ ধরনের কয়েকটি হামলার জন্য রাশিয়া ইউক্রেনকে দায়ী করেছে, তবে এসব হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা ইউক্রেন অনেক ক্ষেত্রেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন