প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একটি বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের আয়োজন করা হচ্ছে। বিজ্ঞান কর্নার, বিজ্ঞান বাগান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কর্নার, আইকিউ কর্নার, ‘জ্ঞানকুঞ্জ’ পাঠাগার, শিক্ষা উপকরণ কর্নার, ফার্স্ট এইড কর্নার, আইসিটি কর্নার এবং রেজিস্টার কর্নার রয়েছে সেখানে।
নাটোরের লালপুর উপজেলার বাহাদীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘শিক্ষার্থীর পরিচয়-ই তার গৌরব’ এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে ব্যতিক্রমী উদ্যোগগুলো গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশে পরিবর্তন এসেছে। শুধু উল্লেখিত কর্নারগুলোই নয়, বিদ্যালয়ে রয়েছে দেয়ালিকা, হেল্প বক্স, হারানো-প্রাপ্তির ঝুড়ি এবং ‘ওয়ান ডে ওয়ান ওয়ার্ড’ কার্যক্রমও।
শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) বিতরণ, মা সমাবেশ এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন কর্নার চালু করার মাধ্যমে বিদ্যালয়টিকে আনন্দময় এবং শিক্ষার্থীবান্ধব করার চেষ্টা চলছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানিয়েছেন, শিক্ষক মো. আব্দুল ওয়াদুদের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার জন্য এই উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে এখানে ৭৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের গড় উপস্থিতি প্রায় ৯০ শতাংশ। মা সমাবেশের মাধ্যমে অভিভাবকদের সচেতন করা হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে তাদের যুক্ত করার চেষ্টা চলছে।
উদ্যোগের বিষয়ে শিক্ষক মো. আব্দুল ওয়াদুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীর পরিচয় শুধু তার নাম বা রোল নম্বরে সীমাবদ্ধ নয়; বিদ্যালয়ের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা, শৃঙ্খলাবোধ এবং শেখার আগ্রহও তার পরিচয়ের অংশ। ‘শিক্ষার্থীর পরিচয়-ই তার গৌরব’—এই ভাবনা থেকেই আইডি কার্ড বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া শিক্ষার্থীরা যেন আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে, নিজেদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ পায় এবং বাস্তব জীবনের সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের মিল খুঁজে পায়, সে জন্য বিভিন্ন কর্নার চালু করা হয়েছে। এ কাজে সহকর্মী শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমাদের লক্ষ্য, প্রত্যেক শিশুকে বিদ্যালয়মুখী করা এবং তাদের জন্য একটি আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা’—এমন মন্তব্য করেন আব্দুল ওয়াদুদ।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. মুরসালিন আহম্মেদ বলেন, ‘আইডি কার্ড পেয়ে আমাদের খুব ভালো লাগছে। নতুন নতুন কর্নার আর শিক্ষা উপকরণের মাধ্যমে আমরা আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারব।’
একই শ্রেণির শিক্ষার্থী মোসা. সামিয়া জান্নাত রুহী জানান, ‘বিজ্ঞান বাগান, পাঠাগার ও বিভিন্ন কর্নার আমাদের নতুন কিছু শিখতে সাহায্য করবে। এতে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়বে, স্কুলে আসতেও ভালো লাগবে।’
অভিভাবক মোসা. শরিফা খাতুন বলেন, ‘শিশুদের পড়াশোনায় ভালো করতে বিদ্যালয় ও পরিবারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মা সমাবেশের মাধ্যমে শিক্ষকদের সঙ্গে সন্তানের পড়াশোনা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পাচ্ছি। এ ধরনের উদ্যোগ শিশুদের শেখার আগ্রহ বাড়াবে।’
অভিভাবক মোসা. লাইলী বেগমের মতে, আনন্দময় পরিবেশে শেখার সুযোগ পেলে শিশুরা পড়াশোনায় আরো মনোযোগী হবে। বিদ্যালয়ের এসব উদ্যোগ তাদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়ক হবে।
সহকর্মী শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদানে মনোযোগ বাড়াতে আব্দুল ওয়াদুদের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি হাতে-কলমে শেখার সুযোগ সৃষ্টি হলে শিক্ষার্থীরা বিষয়গুলো সহজে বুঝতে পারবে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পরিচয়পত্র বিতরণ, মা সমাবেশ ও শিক্ষামূলক কর্নারের মাধ্যমে বিদ্যালয়কে আরো শিক্ষার্থীবান্ধব করার চেষ্টা চলছে। এ কাজে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ঝর্ণা মণ্ডল বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষায় আনন্দময় ও শিশুবান্ধব পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ভিত্তি মজবুত করতে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন