প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে লুইস হ্যামিল্টনের কণ্ঠ বরাবরই সোচ্চার। সম্প্রতি রুয়ান্ডাকে গ্র্যান্ড প্রিক্স আয়োজনের স্বত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তিনি আবারও একই সুর তুলেছেন। ফর্মুলা ওয়ানের সাতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হ্যামিল্টন কঙ্গো, সুদান, সিরিয়া এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেছেন।
৪১ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ তারকা বর্তমানে মোটরস্পোর্টে একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ প্রতিযোগী। তিনি উল্লেখ করেন, আফ্রিকায় একটি ফর্মুলা ওয়ান রেস আয়োজনের ফলে মানুষ মহাদেশটি সম্পর্কে আরও সচেতন হবে। তবে এ নিয়ে যে নানা উদ্বেগ রয়েছে, সেটিও তিনি স্বীকার করেন এবং বিশ্বজুড়ে মানবিক সংকটের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সম্প্রতি ফর্মুলা ওয়ানের সমালোচনা করে বলেছে, রুয়ান্ডাকে গ্র্যান্ড প্রিক্স আয়োজনের সুযোগ দেওয়া আসলে একটি "স্পোর্টসওয়াশিং পুরস্কার"। সাধারণত যেসব দেশ ক্রীড়াকে নিজেদের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলা হয়।
রোববারের যুক্তরাষ্ট্র গ্র্যান্ড প্রিক্সের আগে হ্যামিল্টন রুয়ান্ডা প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে আবারও বিভিন্ন সংঘাত নিয়ে কথা বলেন। গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার বিরুদ্ধে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরব রয়েছেন।
হ্যামিল্টন বলেন, "আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে আমরা কঙ্গোর স্বাধীনতার পক্ষে, সুদানের স্বাধীনতার পক্ষে, সিরিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার হচ্ছি।
"আমি আশা করি একসময় আমরা শান্তির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারব।"
ফর্মুলা ওয়ানের রেস পেয়ে আলোচনায় রুয়ান্ডা। রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামের বিরুদ্ধে ক্ষমতায় টিকে থাকতে দমনমূলক পদ্ধতি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, বিরোধীরা কারাগারে মারা যাচ্ছেন, স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে এবং আরও নানা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে প্রতিবেশী ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি)-ও রুয়ান্ডাকে গ্র্যান্ড প্রিক্স দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। ডিআরসি, যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, রুয়ান্ডা ডিআরসিতে লড়াইরত এম২৩ বিদ্রোহীদের সমর্থন দিচ্ছে।
হ্যামিল্টন আরও বলেন, "অবশ্যই আমরা কোথায় রেস করব, সেই সিদ্ধান্ত আমি নিই না।
"আজ বিশ্বের অনেক জায়গাতেই সমস্যা রয়েছে। আমি এসব বিষয়ে অনেক খবর দেখেছি। তবে আমাদের বিষয়গুলো বিনয়ের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
"কোনো দেশে রেস আয়োজন করার অর্থ এই নয় যে সেখানে যা ঘটছে, তা আমরা উপেক্ষা করছি।
"বরং আশা করি, এতে আরও বেশি মানুষ সেখানে কী ঘটছে এবং শত শত বছর ধরে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে জানতে আগ্রহী হবে। আমি আশা করি এটি আলোচনা শুরু করতে সহায়তা করবে।
"আমি ইংল্যান্ডে বড় হয়েছি। সেখানে আমাদের আফ্রিকা সম্পর্কে প্রায় কিছুই শেখানো হয়নি। অথচ এটি শিক্ষাক্রমের অংশ হওয়া উচিত।
"আফ্রিকার অনেক সমস্যাই এখনো ঔপনিবেশিকতা এবং পশ্চিমা বিশ্বের হস্তক্ষেপের দীর্ঘমেয়াদি ফল।"
আফ্রিকায় গ্র্যান্ড প্রিক্স হ্যামিল্টনের স্বপ্ন, ক্যারিয়ার দীর্ঘ করার ইঙ্গিত। হ্যামিল্টন বলেছেন, আফ্রিকায় একটি ফর্মুলা ওয়ান রেস আয়োজন ছিল তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। ২০৩০-এর দশকের শুরুতে রুয়ান্ডায় গ্র্যান্ড প্রিক্স আয়োজনের চুক্তি হওয়ায় সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবের কাছাকাছি, আর সেটিই তাকে আরও দীর্ঘ সময় খেলায় টিকে থাকার প্রেরণা দিচ্ছে।
ফেরারির এই চালকের বয়স আগামী জানুয়ারিতে ৪২ বছর হবে। তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত। এদিকে বর্তমানে ফর্মুলা ওয়ানের সবচেয়ে বয়সী সক্রিয় ড্রাইভার ফার্নান্দো আলোনসোর বয়স ৪৫, আর তিনি সম্প্রতি অ্যাস্টন মার্টিনের সঙ্গে আরও একটি মৌসুমের জন্য চুক্তি নবায়ন করেছেন।
বৃহস্পতিবার চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষে থাকা কিমি আন্তোনেল্লির সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে হ্যামিল্টন বলেন, "এখন আমাকে বাধ্য হয়েই আরও দীর্ঘ সময় থাকতে হবে, কারণ আফ্রিকায় একটি রেস হচ্ছে। আফ্রিকায় রেস করার স্বপ্নই ছিল আমার।
"ফিট থাকার জন্য আমাকে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আগামী বছর ভালো ফল করতে পারলে আমি রেসিং চালিয়ে যাব।"
গত মৌসুমে মার্সিডিজে হ্যামিল্টনের স্থলাভিষিক্ত হওয়া মাত্র ২০ বছর বয়সী আন্তোনেল্লি তাকে উৎসাহ দিয়ে বলেন, "অন্তত প্রথম আফ্রিকান গ্র্যান্ড প্রিক্স পর্যন্ত আপনাকে থাকতেই হবে।"
ফর্মুলা ওয়ানের ইতিহাসে প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হ্যামিল্টন দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকায় গ্র্যান্ড প্রিক্স ফেরানোর জন্য প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। সর্বশেষ ১৯৯৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কিয়ালামি সার্কিটে মহাদেশটিতে ফর্মুলা ওয়ান রেস অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এই লক্ষ্য অর্জনে নিজের প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করে হ্যামিল্টন বলেন, "স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে অসংখ্য বৈঠক করেছি। লন্ডনে (ফর্মুলা ওয়ানের প্রধান নির্বাহী) স্টেফানো দোমেনিকালির অফিসে বহুবার বৈঠক করেছি, আবার রেস উইকএন্ডেও কথা হয়েছে।
"অসংখ্য ফোন কল করেছি। জানতে চেয়েছি, ‘কী হচ্ছে? আমরা কোথায় যাচ্ছি? আপনি কার সঙ্গে বৈঠক করছেন?’
"আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে বহু বৈঠক করেছি। বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে অসংখ্য ফোনালাপ হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমার কাছে মনে হয়, এই মহাদেশ একটি গ্র্যান্ড প্রিক্স আয়োজনের যোগ্য। এটি শুধু একটি দেশকে নিয়ে নয়, বরং পুরো আফ্রিকা মহাদেশকে নিয়ে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন