প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন চারটি পাঠ্যবই যুক্ত হতে যাচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এই বইগুলো প্রণয়ন করেছে, যা মুখস্থবিদ্যা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক পড়াশোনার বাইরে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা এবং বাস্তবমুখী দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
নতুন বইগুলোর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) সভায় বইগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর চারটি বইয়ের প্রায় দেড় কোটি কপি ছাপানো হবে।
এনসিটিবি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতিচর্চা ও হাতে-কলমে কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে বইগুলো তৈরি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক শিষ্টাচার, পারিবারিক সংস্কৃতি ও সুনাগরিকের গুণাবলি গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এনসিটিবি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের নিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, নতুন চারটি বইয়ের পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন ও যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এনসিসির অনুমোদনের পর বইগুলো ছাপানোর জন্য পাঠানো হবে এবং আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে মুদ্রণকাজ শেষ করার আশা করা হচ্ছে।
চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ বইটি ১৪টি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে, যেখানে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস ও দাবার নিয়মকানুনের পাশাপাশি আত্মরক্ষার কৌশল যেমন কারাতে, জুডো ও তায়কোয়ান্দোর বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। খেলাধুলার সময় আঘাত, নাক দিয়ে রক্ত পড়া ও হিট স্ট্রোকের মতো পরিস্থিতিতে করণীয়, প্রাথমিক চিকিৎসা, পুষ্টি ও সামাজিক দক্ষতা সম্পর্কেও ধারণা পাবে শিক্ষার্থীরা।
অন্যদিকে, ১১টি অধ্যায়ে সাজানো ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইয়ে ভাষা, পোশাক, শিল্পকলা, খাবার, সামাজিক রীতিনীতি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে শিশুদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ি’র ইতিহাস এবং ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে আয়োজনটি শুরুর তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ষষ্ঠ শ্রেণির ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বইটি ছয়টি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে। এতে পরীক্ষা ও মুখস্থনির্ভরতার বাইরে দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, সৃজনশীলতা ও পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আটটি অধ্যায়ের ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বইয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার, সমস্যা সমাধান, ছোট উদ্যোগ, সবুজ প্রযুক্তি ও টেকসই জীবনযাপনের বিষয় রয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব কাজের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে।
এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক এ কে এম শওকত আলী খান মন্তব্য করেন, নতুন বইগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে আনন্দময় পরিবেশে বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন