প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কথা বলার ভঙ্গি, আবেগ এবং মানুষের প্রতি দরদের প্রতিফলন দেখেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি মনে করেন, তারেক রহমানের বক্তব্যে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য এবং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার ধরন স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০টায় পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক একটি জাতীয় অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে নুরুল হক নুর বলেন, তারেক রহমানের কথাবার্তায় তিনি জিয়াউর রহমানের মতো আবেগপূর্ণ এবং দরদমাখা উপস্থাপনা লক্ষ্য করেছেন। মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশার বিষয়গুলো তুলে ধরার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই পরিচিত ভঙ্গি ফিরে এসেছে বলে মনে হয়েছে তার।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান যেভাবে মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন, তারেক রহমানের বক্তব্যেও অনেকটা একই ধরনের আবেগ ও নেতৃত্বের ছাপ পাওয়া গেছে। তার মতে, এটি রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের পাশাপাশি নেতৃত্বের প্রতি গভীর উপলব্ধিরও পরিচয় বহন করে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখানে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন থেকে শুরু করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আগমন, বিদায় এবং সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে। তারেক রহমান স্মৃতিচারণের সময় এসব বিষয় আন্তরিকভাবে তুলে ধরেছেন বলে মনে করেন নুর।
এ সময় জিয়াউর রহমানের শাসনামল ও দেশের উন্নয়নে তার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে। পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্য এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত ভূমিকার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান মুক্ত হন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নুরুল হক নুরের মতে, ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত সময়কালে জিয়াউর রহমান দেশের অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মাটির রাস্তার দুই পাশে ফলদ গাছ লাগানো এবং বাড়িতে বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালনের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের পুষ্টি ও আর্থিক অবস্থার উন্নয়নের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সে সময় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দুর্বল থাকায় অনেক পরিবারের পক্ষে নিয়মিত মাছ, মাংস ও দুধ কেনা সম্ভব ছিল না। এ অবস্থায় বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালন এবং রাস্তার পাশে ফলদ গাছ লাগানোর উদ্যোগ গ্রামীণ মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারত।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন উদ্যোগে দেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আসে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠায় বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থান ও সহযোগিতার সুযোগ সম্প্রসারিত হয়েছিল। আরও কয়েক বছর সময় পেলে তিনি দেশের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারতেন বলেও মন্তব্য করেন নুর।
আলোচনা সভার শেষ পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে অনেক নেতাকর্মী নির্যাতন, বঞ্চনা ও নানা প্রতিকূলতার শিকার হয়েছেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিত ব্যক্তিদের মূল্যায়নের প্রত্যাশা স্বাভাবিক। তবে সরকারের নীতি, পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াও সবাইকে বুঝতে হবে।
তার মতে, প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি সরকারের নীতিগত অবস্থান সম্পর্কে সচেতন থাকাও নেতাকর্মীদের জন্য জরুরি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন