প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ সংসদ সদস্যের মালয়েশিয়া সফর নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। সংসদ সদস্যরা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে সফরটি বাংলাদেশে ব্যক্তিগত সফর হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত বৈঠককে ‘শিক্ষামূলক সফর’ বলে অভিহিত করেছেন দেশটির রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী ড. মাসজলি মালিক। বৈঠকে সংস্কারমুখী রাজনৈতিক দলের চ্যালেঞ্জ, সংসদ সদস্যদের ভূমিকা, স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক দল কেদিলানের আন্তর্জাতিকবিষয়ক ব্যুরো এবং ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড ইসলামিক স্টাডিজ (আইএআইএস) মালয়েশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ড. মাসজলি মালিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের আতিথ্য দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংস্কারমুখী দলগুলোর সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং এসব পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্যদের কী ধরনের ভূমিকা পালন করা উচিত, তা নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।
বৈঠকে অধ্যাপক জিয়াউদ্দিন সারদারের ‘পোস্ট-নরমাল টাইমস’ ধারণা এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ‘মাদানি’ ধারণার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। ড. মাসজলি মালিকের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সময়ের জনপ্রতিনিধিদের পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে স্বচ্ছতা, সত্যনিষ্ঠা, সততা ও জবাবদিহিকে গুরুত্ব দিতে হবে। জনগণের কথা শোনা এবং তাদের প্রত্যাশার প্রতি সাড়া দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের সংসদে আগে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন সদস্যদের অভিজ্ঞতা থেকেও আলোচনায় অনেক কিছু জানার সুযোগ হয়েছে। সফরকারীদের মধ্যে কেউ পশ্চিমা দেশে শিক্ষালাভ করেছেন, আবার কেউ তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে এসেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জামায়াতে ইসলামীর পেশাজীবী ও শিক্ষাবিদদের নেটওয়ার্ক নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান ড. মাসজলি।
প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, জামায়াতের ৩৪ সংসদ সদস্য ও তাদের স্ত্রীদের একটি বড় বহর ১৩ সেপ্টেম্বর এয়ার এশিয়ার ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটের একে-৭০ ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পৌঁছায়। তাদের সঙ্গে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তালিকায় নাম না থাকলেও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনও ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন রংপুর-৬ আসনের মো. নুরুল আমিন, ঢাকা-৫-এর মোহাম্মদ কামাল হোসাইন, খুলনা-৬-এর মো. আবুল কালাম আজাদ, পিরোজপুর-১-এর মাসুদ সাঈদী, শেরপুর-১-এর মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, খুলনা-২-এর এস কে জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল, বাগেরহাট-২-এর শেখ মঞ্জুরুল হক রাশেদ, চুয়াডাঙ্গা-১-এর মো. মাসুদ পারভেজ, নওগাঁ-২-এর মো. এনামুল হক, চুয়াডাঙ্গা-২-এর মো. রুহুল আমিন, গাজীপুর-৪-এর সালাহউদ্দিন, কুড়িগ্রাম-৪-এর মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নড়াইল-২-এর মো. আতাউর রহমান, ঢাকা-৪-এর সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এবং ময়মনসিংহ-৬-এর মো. কামরুল হাসান।
এ ছাড়া তালিকায় রয়েছেন নীলফামারী-৪-এর আবদুল মুনতাকিম, কুড়িগ্রাম-১-এর মো. আনোয়ারুল ইসলাম, গাইবান্ধা-৫-এর মো. আবদুল ওয়ারেস, গাইবান্ধা-১-এর মো. মাজেদুর রহমান, নীলফামারী-২-এর আলফারুক আবদুল লতিফ, চট্টগ্রাম-১৬-এর মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, জয়পুরহাট-১-এর মো. ফজলুর রহমান, নীলফামারী-১-এর মো. আবদুল সাত্তার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২-এর মো. মিজানুর রহমান, পাবনা-৩-এর মোহাম্মদ আলী আসগর, পাবনা-৪-এর মো. আবু তালেব মণ্ডল, রংপুর-১-এর মো. রায়হান শিরাজী, নীলফামারী-৩-এর ওবায়দুল্লাহ সালাফি, নেত্রকোনা-৫-এর মাসুম মোস্তফা, মেহেরপুর-১-এর মো. তাজউদ্দিন খান, কুষ্টিয়া-৪-এর মো. আফজাল হোসাইন, গাইবান্ধা-২-এর মো. আবদুল করিম, ঢাকা-১৪-এর মীর আহমাদ বিন কাসেম এবং যশোর-৫-এর গাজী এনামুল হক।
সংসদ সদস্যদের বাইরে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। ফলে মূল তালিকায় ৩৫ জন পুরুষের নাম রয়েছে—৩৪ জন সংসদ সদস্য ও একজন দলীয় নেতা। সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তাদের স্ত্রীদেরও সফরসঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতসংখ্যক সংসদ সদস্যের একসঙ্গে মালয়েশিয়া সফর দেশটির বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ও ইসলামি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সংস্কার, জবাবদিহি ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হওয়ায় সফরটির রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় জামায়াতের কোনো আনুষ্ঠানিক দলীয় কর্মসূচি, প্রবাসী নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক কিংবা সংগঠন সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রকাশ্য কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে সফরটি ব্যক্তিগত ভ্রমণের পাশাপাশি কতটা শিক্ষামূলক ও রাজনৈতিক মতবিনিময়কেন্দ্রিক ছিল, তা স্পষ্ট হবে সংশ্লিষ্টদের পরবর্তী কর্মসূচি ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন