প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলায়, বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার। রবিবার, ৭ জুন সকাল বেলায়, বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে এই ঘটনা ঘটেছে।
ডামুড্যা থানার এবং বিদ্যালয় সূত্র জানাচ্ছে, ডামুড্যা উপজেলা সদরে ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টির অবস্থান। প্রধান শিক্ষক হিসেবে, সুজিত কর্মকার ২০১৩ সালে সেখানে নিযুক্ত হন। দুই বছর আগে, স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং সেই কারণে ওই পক্ষটি তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের হেনস্তা করার অভিযোগ তোলে।
বিরোধের প্রেক্ষিতে, ২০২৪ সালে সরকার পতনের পরে, সুজিত কর্মকারের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এই ঘটনার পর, তিনি ওই বছর ১৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে বিদ্যালয়ে যেতে পারেননি এবং বিভিন্ন উপায়ে ছুটি কাটাচ্ছিলেন।
এদিন সকালে, প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বিদ্যালয়ের ফটকের সামনে পৌঁছান। কিন্তু নামার পর, বেশ কয়েকজন অভিভাবক এবং স্থানীয় মানুষ তাকে মারধর করতে শুরু করেন। আবার, কিছু তরুণ তাকে অটোরিকশায় উঠিয়ে দেন এবং তখন সেখানে আরো কয়েকজন তরুণ তাকে অটোরিকশার ভেতর মারধর করছিলেন। স্থানীয় কিছু মানুষ ওই মারধরের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে রাখেন।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ফারহানা ডেইজি বলেন, ‘আমরা সুজিত কর্মকার নামের এক ব্যক্তিকে ভর্তি করেছি। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়েছে। মুখসহ শরীরের নানা স্থানে ফুলে গেছে। আমরা তাকে চিকিৎসা দিচ্ছি।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার জানান, ‘আমি বিদ্যালয়ের কাজ থাকার কারণে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। কাজ শেষ করে বিদ্যালয়ে ঢোকার পথে স্থানীয়রা আমার উপর হামলা করে। কেন বা কি কারণে করেছে, তা আমি জানি না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যার বলেছেন এই বিষয়ে মামলা হবে। তবে আমাকে আগে চিকিৎসা নিতে বলেছেন।’
ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের প্রধান শিক্ষক যখন বিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন, তখন কিছু অভিভাবক তাকে বাধা দেন এবং বিদ্যালয়ে ঢুকতে দেননি। আমি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কোনো বিরোধে নেই। তিনি কেন এসবের জন্য আমাকে দায়ী করছেন তা আমি বুঝতে পারছি না।’
ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সালাউদ্দিন আইয়ূবী জানিয়েছেন, ‘সকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারধরের শিকার হয়েছেন। আমি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ওসিকে জানিয়েছি। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন