প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রিজটি এক দশক ধরে ভেঙে পড়ে রয়েছে। পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেই। এর ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া আশ্বাসগুলি কেবল কাগজের প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে জনতারহাট ও সাকোরপাড় সড়কের ওপর নির্মিত ব্রিজটি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হামিদ ট্রেডার্স ব্রিজটি নির্মাণের এক বছরের মধ্যেই ব্রহ্মপুত্র নদের উপচে পড়া বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ব্রিজের নিচের অংশের মাটি সরে যায়।
ফলস্বরূপ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের ঝুঁকি নিয়ে ভেলা বা ডিঙি নৌকায় পারাপার হতে হয়। শুকনো মৌসুমে অনেক দূর ঘুরে ব্রিজের অংশ পাড়ি দিতে হয়। এর ফলে এই পথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও রোগীর স্বজনরা চরম বিপদে পড়েছেন।
জনতারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিমা খাতুন বলেন, "বর্ষা মৌসুমে স্কুলে যেতে ভয় পাই। এ সময় অনেকে স্কুলে যায় না।"
বোতলা গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের জানান, "ব্রিজের ওপারে চাষবাস করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ি। অনেক ঘুরে যেতে হয়। ধান-পাট কাটার পর নিয়ে আসতে সমস্যা হয়। যারা ছোটখাটো ব্যবসা করেন তারাও ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।"
দলন গ্রামের গৃহিনী মনজিলা বেগম বলেন, "আমার স্বামী অটো চালায়। কিন্তু এই পথে যেতে পারে না। কেউ অসুস্থ হলে তাকে কষ্ট করে অন্য পথে নিয়ে যেতে হয়। মেম্বার-চেয়ারম্যানরা ভোটের সময় এসে অনেক কথা বলে যায়, কিন্তু ব্রিজটার কাজ আর হয় না।"
খারিজা কামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলমগীর হোসেন জানান, "ব্রিজের দুই পাড়ে চারটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। শিশু শিক্ষার্থীদের খুব কষ্ট করে চলাচল করতে হয়। জনস্বার্থে দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।"
স্থানীয় যুবক জনাব আলী বলেন, "ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় কয়েকটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের চরম কষ্ট হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় দেন-দরবার করেও কোনো সমাধান হচ্ছে না।"
জেলা ত্রাণ ও পূণর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজির রহমান জানান, "জনগুরুত্বপূর্ণ সাকোয়ারপাড় ব্রিজটি আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা করি আগামী বছর ব্রিজটি পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন