প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজারের টেকনাফে ইয়াবার চালান আত্মসাতের অভিযোগে চারজনকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী পাহাড়ের পশ্চিম পানখালী বন বিট অফিসের পাশে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পাশের পাহাড় থেকে উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ আরেক ব্যক্তির মরদেহ।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ডেংগ্যাকাটা এলাকার আবদুস সালামের ছেলে মোক্তার কামাল (৪০) এবং একই ইউনিয়নের আমতলীঘোনা এলাকার কালু ফকিরের ছেলে মোহাম্মদ আকবর, যিনি আব্বুইয়া নামেও পরিচিত। তাঁদের সঙ্গে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তুলাতুলী এলাকার আবুল হোসনের ছেলে ইলিয়াস এবং একই এলাকার বাসিন্দা আলী আহমদকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের বক্তব্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে পানখালী বন বিট অফিসের পাশে কয়েকজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। উদ্ধারকালে মোক্তার কামালকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ইলিয়াস ও আলী আহমদকে। পরে নিখোঁজ মোহাম্মদ আকবরের মরদেহ পাশের পাহাড় থেকে উদ্ধার করা হয়। নিহতদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন বিদ্যমান।
আহত ইলিয়াসের দাবি, একটি ইয়াবার চালান চেকপোস্ট পার করে হোয়াইক্যংয়ের ডেংগ্যাকাটা পাহাড়ে অন্য একটি দলের কাছে হস্তান্তরের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। পথে ডাকাত দলের সদস্যরা চালানটি ছিনিয়ে নেয়। যদিও ছিনিয়ে নেওয়া চালানের ৭০ হাজার টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি ৩০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে ডাকাত দলের বিরুদ্ধে।
ইলিয়াস জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে হোয়াইক্যংয়ের তুলাতুলী এলাকার মিজান সোমবার রাতে তাঁদের চারজনকে বিচারের কথা বলে হ্নীলার একটি দলের হাতে তুলে দেন। পরে তাঁদের পাহাড়ে নিয়ে মারধর করা হয়, যার ফলে মোক্তার কামালের মৃত্যু ঘটে। বাকি দুজন আহত হন এবং মোহাম্মদ আকবর নিখোঁজ ছিলেন, পরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ইয়াবার চালানটির মালিক হ্নীলার একজন মাদক কারবারি বলেও দাবি করেন ইলিয়াস।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঘটনাটি ইয়াবা-সংক্রান্ত। ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগে চালানের মালিকপক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মারধর করে। অতিরিক্ত মারধরের কারণে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অন্য ইউনিয়নের হলেও ইয়াবার চালানটির মালিক হ্নীলা ইউনিয়নের কেউ হতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পানখালী এলাকা থেকে প্রথমে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই স্থান থেকে আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে পাশের পাহাড় থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ওসি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তিদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজারের এসআরবি-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, কক্সবাজার অঞ্চলে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে ইয়াবার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রেও ইয়াবাকেন্দ্রিক বিরোধের বিষয়টি সামনে আসে। টেকনাফের এ ঘটনাটিও তদন্তাধীন রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন