প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শেখ হাসিনা আর কখনো বাংলাদেশে ফিরে আসবেন না, ফাঁসির দড়ির ভয়ে এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে শেখ হাসিনার অপরাধ চিরতরে ‘ক্ষমার অযোগ্য’। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক বিচার সম্পন্ন হওয়ার আগে দলটির পুনর্বাসন বা তথাকথিত ‘রিকনসিলেশন’-এর কোনো সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের ঐতিহ্যবাহী উজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান বলেন, ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানান, আওয়ামী লীগ যে গণহত্যা করেছে, তার মূল নির্দেশদাতা শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, "একটা মানুষ এত বোকা হতে পারে না যে, যার জন্য আদালতে ফাঁসির দড়ি প্রস্তুত রাখা আছে, সে দেশে ফিরে নিজে সেই দড়িতে ঝুলবে!" তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়েছেন আত্মরক্ষার জন্য, বাংলাদেশে ফেরার জন্য নয়। তিনি যদি সত্যিই দল বা রাজনীতিকে ভালোবাসতেন, তবে বলতেন ‘আমি জেলে যেতে রাজি, তাও দেশ ছাড়ব না’।
আওয়ামী লীগের ক্ষমা চাওয়া ও রাজনৈতিক সমঝোতা প্রসঙ্গে রাশেদ খান মন্তব্য করেন, "আওয়ামী লীগ ক্ষমা চাইল কী চাইল না, তাতে এ দেশের ভুক্তভোগী জনগণের কিছু যায় আসে না।" তিনি বলেন, "তাদের অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য।" বর্তমানে যারা রিকনসিলেশন বা সমঝোতার বয়ান তৈরি করছেন, তারা মূলত ফ্যাসিবাদের দোসর এবং গণহত্যাকারীদের ফিরিয়ে আনার চক্রান্ত করছেন। জনগণ এই চালাকি বুঝে ফেলেছে। তিনি বলেন, "দল হিসেবে আওয়ামী লীগের আগে বিচার হতে হবে, এর আগে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই।"
রাশেদ খান জামায়াতে ইসলামী এবং জুলাই আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জামায়াতের আমীর অভ্যুত্থানের এক মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, "ক্ষমতার জন্য জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মেলাতেও দ্বিধা করবে না।" তিনি আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় জামায়াত নেতা শিশির মনীরের ভূমিকা উল্লেখ করে বলেন, "জুলাইয়ের উত্তাল দিনে এরা প্রোফাইল লাল পর্যন্ত করেনি। এই লজ্জা শিবির কীভাবে ঢাকবে?"
সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহর কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, "জুলাই শহীদদের তাজা রক্ত মাড়িয়ে সারজিস ও হাসনাত আবদুল্লাহরা কীভাবে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন?" তিনি বলেন, "তারা পারলেও আমরা শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে কোনো আপস করতে পারি না।"
গণঅভ্যুত্থানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, হাসিনা খেদাও আন্দোলনে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাই সবচেয়ে বেশি জীবন দিয়েছেন। তিনি জানান, রাজপথে অকাতরে জীবন বিলিয়ে দেওয়া এই নেতাকর্মীদের অবদান জনগণের কাছে পৌঁছে দিতেই তিনি দেশব্যাপী জুলাই শহীদদের মাজার জিয়ারত ও পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন।
এর আগে উজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি কামরুজ্জামান লিটনের সভাপতিত্বে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ এবং কলেজের অধ্যক্ষ নাহিদা আক্তার। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন