প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীতে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও অসাধু জেলেরা তা মানছেন না। সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নদীতে অবাধে মাছ ধরার ফলে ইলিশের নিরাপদ প্রজনন মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।
সরকারি সময়সূচি অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশের প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে সকল ধরনের মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। এই সময়ে মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত সীমানায় জেলেদের নদীতে নামার উপর কঠোর নজরদারি রয়েছে।
কিন্তু বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, মেঘনা নদীতে অবলীলায় চলছে ইলিশ শিকার ও প্রকাশ্যে বেচাকেনা। মোহনপুরের কুমারখোলা, নয়াকান্দি বটতলা এবং একলাশপুর লঞ্চঘাট এলাকায় নিয়মিতভাবে ইলিশের হাট ও আড়ত বসছে। নদীর পূর্ব পাড়ের কিছু বাজারেও অবাধে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, পশ্চিম পাড়ের চরউমেদ, বোরচর, চরকাশিম, বাহেরচর ও চরওয়েস্টারসহ দুর্গম চরাঞ্চলে ইলিশ শিকার ও আড়ত পরিচালনার একাধিক অভিযোগ থাকলেও প্রশাসনিক অভিযান কার্যত সীমিত।
উপজেলা মৎস্য অফিসের সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর থেকে মোট ৪০টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে ২ লাখ ৭০ হাজার মিটার জাল ও ৮টি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। মোট ২৪টি মামলা এবং ৭টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩৯ জনকে কারাদণ্ড এবং ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া, নৌ পুলিশের নিয়মিত ৫৯টি মামলায় ৯১ জনকে আটক করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু অসাধু জেলে নিয়মিতভাবে মাছ ধরতে নদীতে নামছেন। স্থানীয় নৌ পুলিশের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতা বা 'রফাদফা' করেই তাঁরা ইলিশ শিকার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে সাধারণ ক্রেতারা জানাচ্ছেন, নদীর পাড়ের কিছু গোপন স্থান ও গ্রামাঞ্চলে দেদারসে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। বিগত সময়ের তুলনায় বর্তমানে দাম কিছুটা কম হওয়ায় ক্রেতাদের কেনাকাটায় আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুহুল আমীন বলেন, "অভিযোগ সত্য নয়। আমরা নদীতে প্রতিনিয়ত নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি।"
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে বলেন, "আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। তবে দ্রুতগতির ট্রলার ও স্পিডবোটের সংকট থাকায় দূরবর্তী চরাঞ্চলগুলোতে অভিযান পরিচালনায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, বিভিন্ন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রশাসন নিয়মিত নদীতে টহল ও অভিযান পরিচালনা করছে। মা ইলিশ রক্ষায় এই পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
গত সোমবার ছেংগারচর পৌর পাঠাগার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, "মা ইলিশ রক্ষায় আমরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছি, আমি নিজেও সরজমিনে গিয়েছি।" নৌ পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "যে অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়ে আমিও জেনেছি। খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন