প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর ধানমন্ডিতে চিকিৎসক ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্তে একটি নতুন মোড় এনেছে। মৃত্যুর আসল কারণ উদ্ভাসিত করা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার উদ্দেশ্যে, আদালত তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এই আদেশটি প্রদান করেন। মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মরদেহটির উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করলে আদালত সেই অনুরোধ মঞ্জুর করেন।
অ্যাডভোকেট আদালতের আদেশে উল্লেখ করেছেন যে, মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে- ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রাকে পরিকল্পিতভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। একইসাথে তথ্য প্রদান করা হয়েছে যে, যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যা আদালত মনে করে ময়নাতদন্তের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য।
আদেশে উল্লেখ আছে যে, ধীপ্রার মৃত্যুর পর ন্যায়বিচারপ্রাপ্তির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে, ময়নাতদন্ত ছাড়াই ৫ জুন দ্রুত রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান আদালতের কাছে মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করার, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করার, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার এবং পরে ধর্মীয় বিধান অনুসরণের মাধ্যমে পুনরায় দাফনের অনুমতি চান।
আদালত আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র মূল্যায়ন করে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৭৬(২) ধারার ক্ষমতাবলে আবেদনের সম্মত হন। পাশাপাশি ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকা সিভিল সার্জন, তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেন।
৪ জুন ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যু ঘটে। পরে তার স্বজন, বন্ধু ও সহপাঠীদের অনেকেই জানিয়েছেন, মৃত্যুর কারণ হিসেবে প্রচারিত ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’-এর ব্যাখ্যায় অসঙ্গতি রয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘকাল ধরেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চলে আসছে ধীপ্রার উপর। মৃত্যুর আগে তিন দিনের জন্য তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল এবং যথেষ্ট খাবারও দেওয়া হয়নি। মৃত্যুর দুই দিন আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের উপর চলা নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ১৬ জুন নিহত চিকিৎসকের স্বজন মো. মশিউর রহমান শাহ দণ্ডবিধির ৩০৪(ক), ১৯৩, ১৯৭, ২০১, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় অবহেলাজনিত মৃত্যু, নির্যাতন এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের মাধ্যমে আলামত গোপনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় আসামিদের তালিকায় রয়েছে ধীপ্রার স্বামী ডা. রহমত রশিদ সিয়াম, শ্বশুর বারডেম হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ, শাশুড়ি সিদ্দিকা সুলতানা, শ্বশুরের জামাতা ও ব্যঙ্গাত্মক ওয়েবসাইট ‘ইয়ার্কি’র সম্পাদক সিমু নাসেরসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন।
তদন্তের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ধীপ্রার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে প্রমাণিত হবে এবং মামলার তদন্তে নতুন তথ্য-উপাত্তও সামনে আসতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন