প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টানা বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের টেকনাফে বর্তমানে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একাধিক দিনের টানা বৃষ্টির ফলে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন জায়গার ঘরবাড়ি, চিংড়িঘের এবং ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এ কারণে হাজারো মানুষ মহাবিপাকে পড়েছে। রবিবার (২১ জুন) রাত থেকে শুরু হওয়া ভারি বৃষ্টি সোমবার বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এর ফলে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু স্থানগুলো প্লাবিত হয়ে গেছে। অনেক বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে সোমবার সকালে সাগর থেকে মাছ ধরার সময় বৈরি আবহাওয়ার কারণে শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিণপাড়ার একটি বাসিন্দার মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যায়। মোহাম্মদ জসিম নামের ওই ব্যক্তি জানালেন, তার ট্রলারে থাকা জেলেরা সাঁতরে তীরে ফিরতে সক্ষম হলেও প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা, বাহারছড়া, সদর ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকা সহ বেশ কিছু পাহাড়ে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। টানা বৃষ্টির কারণে এসব এলাকায় পাহাড়ধসের সংকেত বেড়েছে এবং প্রশাসন সকাল থেকে মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছে। কিন্তু দেখতে হচ্ছে, অনেক বাসিন্দাই জানাচ্ছেন, নিরাপদ স্থানে যাওয়ার মতো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকার কারণে তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন। টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া এলাকার বাসিন্দা নূর আলম বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরে যেতে বলা হচ্ছে, কিন্তু আমাদের যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই।’ সদর ইউনিয়নের লেঙ্গুরবিল এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দুল হক জানান, ‘বৃষ্টির পানিতে পুরো এলাকা ডুবে গেছে। পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। খাল দখল ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে পানি জমছে।’ শাহপরীর দ্বীপ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, ‘ট্রলারডুবির ঘটনায় জেলেরা প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। তবুও ভারি বৃষ্টির কারণে উপকূলের কিছু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’ টেকনাফ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুর রশিদ আহমেদ বলেন, ‘টানা বৃষ্টির ফলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা মানুষদের নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য প্রচারণা চালানো হচ্ছে।’ টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিহাদ জানান, ভারি বৃষ্টির কারণে নির্মীয়মান একটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পাঁচ শতাধিক পরিবারের বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় স্থানীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন