প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের তৈরি পোশাক খাতে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবার গণমাধ্যমের ক্ষেত্রেও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বার্তা প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং এই বার্তা প্রকাশ করে।
বার্তায় উল্লেখ করা হয়, আজ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে নিয়েছে। দুপুরের দিকে রাজধানীর মহাখালীতে ডিবিসি নিউজের অফিসের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. আখতার হোসেনের বক্তব্যে দখলবাজির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তিনি জানান, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ডিবিতে নেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বার্তায় আরও বলা হয়েছে, ইকবাল সোবহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মূলত ডিবিসি নিউজের চেয়ারম্যান পদ দাবি করে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগও উঠেছে। এই পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্বে থেকেই গোয়েন্দা তথ্য ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা পুলিশ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক অসন্তোষ ও অস্থিরতার মধ্যে গণমাধ্যমকে কেন্দ্র করে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে যে, এসব অস্থিরতার পেছনে আওয়ামী লীগের কিছু নেতার ইন্ধন রয়েছে। অভিযোগকারীদের আশঙ্কা, শিল্প খাতের অস্থিরতার পাশাপাশি গণমাধ্যমের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চলমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলে জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী দীর্ঘ সময় ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্বেও তিনি ছিলেন।
তবে সম্প্রতি তার কার্যক্রমে গোয়েন্দাদের কাছে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টার তথ্য পাওয়া গেছে। পোশাক খাত নিয়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যে তারা কিছুদিন ধরে আওয়ামীপন্থি সাংবাদিকদের নিয়ে মিডিয়া দখল করতে একাধিক গোপন বৈঠক করেছেন। এরই অংশ হিসেবে ডিবিসি টেলিভিশন দখলের চেষ্টা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন