প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে কীভাবে কনিকা টেকরিওয়াল ৫৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, সেই বিষয়টি শুধু অনুপ্রেরণাদায়কই নয়, বরং এটি শেখায় যে—সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার অদম্য মানসিকতা ভাগ্যকে যেকোনো দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে।
কনিকার জন্ম এক মাড়োয়ারি পরিবারে। ছোটবেলা থেকে তার অর্থ ও ব্যবসার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল। তবে পরিবারের প্রত্যাশা ছিল যে, সে পড়ালেখা শেষ করে কোনো ধনী পরিবারে বিয়ে করবে। ভোপালে স্কুলজীবনের পাঠ পরিবেশন করার পর কনিকা স্নাতকের জন্য ইংল্যান্ডের কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটিতে যায়। পরিবার ও সমাজের চাপের কারণে তিনি ২১ বছর বয়স পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা মেনে চলছিলেন। কিন্তু পরে তিনি নিজের ব্যবসা শুরুর সিদ্ধান্ত নেন। ঠিক সেইসময় তিনি স্টেজ-২ হজকিনস লিম্ফোমা (এক ধরনের ক্যানসার) আক্রান্ত হন।
ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে শার্ক ট্যাংক ইন্ডিয়ায় কনিকা বলেন, 'আমার বয়স তখন ২১। ৪০ জন চিকিৎসক আমাকে বলেছিলেন, আমি আর মাত্র চার মাস বা চার দিন বাঁচব। এরপর মুম্বাইয়ে এক চিকিৎসকের সঙ্গে আমি সাক্ষাৎ করি। আমি তাকে বলেছিলাম, 'আমরা ৪০ বছর পর একসঙ্গে বসে পান করব, আপাতত চলুন কাজের কথা বলি।' ২০২২ সালে 'ভোগ ইন্ডিয়া'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'ক্যানসার থেকে বেঁচে ফেরার পর আমি বুঝতে পারি যে, জীবনটা অনেক ছোট। আমাকে নিজের জন্য বাঁচতে হবে এবং আমার কাছে যা গুরুত্বপূর্ণ, সেটাই করতে হবে।'
২০১৪ সালে কনিকা ‘জেটসেটগো’ প্রতিষ্ঠা করেন। 'টাইমস এন্টারটেইনমেন্ট'-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, 'অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন, বাইরে থেকে তহবিল সংগ্রহ না করে আমি কীভাবে এটি করলাম।' তিনি আরও বলেন, 'আজ পর্যন্ত আমি মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছি, আর এখন আমরা ভারতের সবচেয়ে বড় প্রাইভেট জেট বহর পরিচালনা করছি।'
উড়োজাহাজ বা এভিয়েশন খাতটি পুরুষ-নিয়ন্ত্রিত। কনিকাকে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে হয়েছিল, যার মধ্যে অন্যতম ছিল পিতৃতন্ত্রকে জয় করা। ২০১৭ সালে 'দ্য বেটার ইন্ডিয়া'কে তিনি বলেছেন, 'আমি যে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, সেখানে মানুষ শুরুতে আমাকে গুরুত্ব দিতে চায়নি। এমনকি আমাকে এমন কথাও শুনতে হয়েছে যে 'আপনার বরং কাপকেক বানানোর কাজ করা উচিত'। কখনো কখনো, যখন আমি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকি, তখন আমাকে অহংকারী ভাবা হয়। তবে এসব একেবারেই গুরুত্বহীন বিষয়।'
সাফল্যের পথটি কঠিন ছিল, কিন্তু একবার ডানা মেলার পর কনিকাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আজ তার কোম্পানির রয়েছে প্রাইভেট জেট ও হেলিকপ্টারের সবচেয়ে বড় বহর। পুনিত ডালমিয়া এবং ক্রিকেটার যুবরাজ সিংয়ের মতো ব্যক্তিরা এ ব্র্যান্ডে বিনিয়োগ করেছেন। মুম্বাই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, নিউইয়র্ক ও দুবাইয়ে এ কোম্পানির কার্যক্রম রয়েছে। কনিকা টেকরিওয়াল ব্যক্তিগত জীবনে হায়দরাবাদভিত্তিক ব্যবসায়ী পি শরৎ চন্দ্র রেড্ডিকে বিয়ে করেছেন। বিয়ের চার বছর পর ২০২৬ সালের ২৮ মে তাদের কোল আলো করে আসে এক পুত্রসন্তান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন