প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সংগৃহীত ছবির মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে গোলের বন্যা বইছে। প্রায় প্রতিদিনই একের পর এক ম্যাচে জালের দেখা মিলছে এবং তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন রেকর্ড। মাঠের খেলায় আক্রমণ এবং গোলের ছন্দে এবারের আসর যেন এক অনন্য মাত্রা পেয়েছে।
এই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো যৌথ আয়োজিত বিশ্বকাপ ৬৮ বছরের পুরোনো এক কীর্তিকে ছুঁয়ে ফেলেছে। শনিবার নেদারল্যান্ডসের ৫-১ গোলে সুইডেনকে হারানোর ম্যাচে টুর্নামেন্টের ১০০তম গোলটি করেন কোডি গাকপো। তার এই গোলের মাধ্যমে মাত্র ৩৩ ম্যাচে শততম গোলের মাইলফলকে পৌঁছে যায় বিশ্বকাপ ২০২৬।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এত দ্রুত ১০০ গোল হওয়ার ঘটনা সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ১৯৫৮ সালে। ওই আসরেও ৩৩ ম্যাচে এই মাইলফলক স্পর্শ করা হয়েছিল। তবে সবচেয়ে দ্রুত এই কীর্তি এখনো ১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপের, যেখানে মাত্র ২০ ম্যাচেই ১০০ গোল হয়ে গিয়েছিল।
এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ম্যাচপ্রতি গোলের গড় ৩.০২। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে পুরো ১০৪ ম্যাচ শেষে গোলের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গোলের এই ধারাবাহিকতার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ সামনে এসেছে। নতুন অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রিওন্ডা’ নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেক গোলরক্ষকই বলটির অস্বাভাবিক গতি ও বাঁক সামলাতে সমস্যায় পড়ছেন, ফলে দূরপাল্লার শট থেকেও এসেছে দৃষ্টিনন্দন গোল।
এছাড়া ৪৮ দলের সম্প্রসারিত ফরম্যাটেও গোলসংখ্যা বেড়েছে। নতুন এবং তুলনামূলক দুর্বল দলগুলো অংশ নেওয়ার কারণে বড় ব্যবধানে জয়ী হওয়া ম্যাচ বেড়েছে। জার্মানির কাছে কুরাসাওয়ের ৭-১ গোলের হার কিংবা কানাডার ৬-০ ব্যবধানে কাতারকে হারানোর মতো ফলাফল তারই উদাহরণ।
ম্যাচের পরিবেশও খেলায় প্রভাব ফেলছে। তীব্র গরম এবং বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন বিরতির কারণে অনেক ম্যাচেই শেষ দিকে খেলোয়াড়দের ক্লান্তি দেখা যাচ্ছে। এতে রক্ষণভাগে ভুল বাড়ছে, আর সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা। টুর্নামেন্টে মোট গোলের প্রায় ২৯ শতাংশই এসেছে ৭৬ মিনিটের পর।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে তারকা ফুটবলারদের দুর্দান্ত ফর্ম। লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক, কিলিয়ান এমবাপে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, আর্লিং হলান্ড, হ্যারি কেইনের গোল— সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ২০২৬ এখন আক্রমণাত্মক ফুটবলের এক জমজমাট মঞ্চ।
সবকিছু মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ যেন গোলের উৎসবেই পরিণত হয়েছে। যেখানে প্রতিটি ম্যাচেই জালের দুলুনি স্বাভাবিক দৃশ্য হয়ে উঠছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন