প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তাপসী পন্নু সম্প্রতি ‘ডাঙ্কি’ ছবিতে অভিনয়ের পরেও মূলধারার হিন্দি ছবিতে সুযোগ না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মূলধারার ছবিতে অভিনয় দক্ষতার চেয়ে যোগাযোগ, বাজারদর, পরিচিতি ও প্রভাব অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তাপসী পন্নুর অভিনয়জীবন সবসময়ই ভিন্ন ধারার ও বিষয়নির্ভর ছবির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তবে ২০২৩ সালে শাহরুখ খানের বিপরীতে ‘ডাঙ্কি’-তে অভিনয় করে তিনি মূলধারার বলিউডে প্রবেশ করেছেন। ছবিটি বক্স অফিসে শাহরুখের ‘পাঠান’ বা ‘জওয়ান’-এর মতো সাড়া ফেলতে না পারলেও, তাপসীর জন্য এটি এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সাফল্য বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু সেই সাফল্যের পরও কেন একের পর এক বড় বাজেটের মূলধারার ছবিতে তাঁকে দেখা যাচ্ছে না? সম্প্রতি এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন অভিনেত্রী।
এক সাক্ষাৎকারে তাপসী বলেন, বাণিজ্যিক ছবিতে অনেক সময় অভিনেত্রীদের চরিত্র এমন হয়, যেখানে অভিনয় দক্ষতার চেয়ে অন্যান্য বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পায়। তিনি মনে করেন, বাজারদর, জনপ্রিয়তা, পরিচিতি, ইন্ডাস্ট্রিতে যোগাযোগ এবং প্রভাব— এই সব মিলিয়েই ঠিক হয় কোন অভিনেত্রীকে ছবিতে নেওয়া হবে।
তাপসী বলেন, “আমার মনে হয়, প্রত্যেক অভিনেতাই বদলযোগ্য। এমন নয় যে, কোনও একটি চরিত্র নির্দিষ্ট একজন ছাড়া আর কেউ করতে পারবেন না। প্রত্যেকে নিজের মতো করে চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে পারেন।” তাঁর মতে, মূলধারার ছবিতে মহিলা চরিত্রগুলির ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আরও বেশি প্রযোজ্য।
অভিনেত্রী আরও বলেন, অনেক বাণিজ্যিক ছবিতে মহিলা চরিত্র এতটা গুরুত্বপূর্ণ হয় না যে, কোন নায়িকা সেই চরিত্রে অভিনয় করছেন, তা নিয়ে বিশেষ ভাবতে হবে। ফলে, অভিনেত্রীর প্রতিভার চেয়ে তাঁর বাজারদর, পরিচিতি কিংবা ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যোগাযোগ অনেক সময় বড় হয়ে ওঠে।
তাপসী স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে, এই জায়গাগুলিতে তিনি অনেকটা পিছিয়ে। তিনি বলেন, “আমি যে জায়গায় এগিয়ে আছি, তা হল আমার অভিনয়ের প্রতিভা।” আর সেই কারণেই ‘ডাঙ্কি’-তে কাজের সুযোগ পাওয়ার কৃতিত্ব সম্পূর্ণভাবে পরিচালক রাজকুমার হিরানিকে দিয়েছেন তিনি।
তাপসীর দাবি, হিরানি তাঁর আগের কাজ দেখেই তাঁকে ছবিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অভিনেত্রীর কথায়, “রাজু স্যার আমার ব্যাপারে নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।” তাঁর মতে, ইন্ডাস্ট্রিতে এমন পরিচালক খুব বেশি নেই, যাঁরা কোনও অভিনেত্রীকে শুধুমাত্র তাঁর অভিনয় দক্ষতার ভিত্তিতে ছবিতে নেওয়ার ব্যাপারে এতটা নিশ্চিত থাকেন।
তাপসী আরও জানান, সাধারণত কোনও অভিনেত্রী যদি ছবির বাজেটের মধ্যে পুষিয়ে যান এবং তাঁর যথেষ্ট বাজারমূল্য থাকে, তবে তাঁকে বেছে নেওয়া হয়। শুধুমাত্র প্রতিভার জোরে মূলধারার ছবিতে সুযোগ পাওয়া তাই বেশ কঠিন। আর যখন পরিচালক নির্দিষ্ট কোনও অভিনেত্রীকেই চরিত্রটির জন্য চান, তখন তেমন ঘটনা খুব বিরল।
তাপসীর শেষ ছবি ‘গান্ধারী’। মেয়েকে অপহরণের পর তাকে উদ্ধার করতে এক মায়ের মরিয়া লড়াইকে কেন্দ্র করে তৈরি এই ছবিতে প্রতিশোধ এবং আত্মত্যাগের গল্প উঠে এসেছে। তবে ছবিটি দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে মিশ্র থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন