প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টালিউডের সর্বকালের সেরা নায়িকাদের তালিকা করলে প্রথম সারিতে স্থান পাবে টালিউড অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। বাংলা সিনেমা করে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া গুণী এই অভিনেত্রী হাতে গোনা কয়েকজন তারকার মধ্যে একজন। আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) তার শুভ জন্মদিন।
১৯৭০ সালের এই দিনে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন ঋতুপর্ণা। কলকাতার কার্মেল কনভেন্ট স্কুলে পড়াশোনা শেষ করার পর লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ থেকে ইতিহাসে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি ধীরে ধীরে অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হতে থাকে।
১৯৮৯ সালে দূরদর্শনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘শ্বেত কপোত’-এর মাধ্যমে ছোটপর্দায় অভিনয় শুরু করেন ঋতুপর্ণা। সেখান থেকেই তিনি বড়পর্দায় নিজের জায়গা তৈরি করতে শুরু করেন। ৯০-এর দশক থেকে বাংলা চলচ্চিত্রে তার জনপ্রিয়তা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। টালিউড অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে অর্ধ শতাধিক সিনেমায় সফল ক্যারিয়ার গড়ে তিনি টালিউডের অপ্রতিদ্বন্দ্বী লেডি সুপারস্টার হয়ে ওঠেন।
সময়ের সঙ্গে বাংলা সিনেমার ভাষা পরিবর্তিত হয়েছে, দর্শকের রুচি বদলেছে এবং নতুন প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা এসেছেন। কিন্তু নিজের অভিনয়জীবনের দীর্ঘ পথচলায় তিনি স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রেখেছেন। অভিনয় দক্ষতা, সৌন্দর্য এবং পর্দায় চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার অসাধারণ ক্ষমতায় তিনি কয়েক দশক ধরে দর্শকদের মনে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন।
কলকাতার শিল্পী হলেও ঋতুপর্ণা উল্লেখযোগ্য কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের দর্শকদের কাছেও সমান জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তার কাজের পরিধি বলিউড থেকে দক্ষিণ ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত।
ঋতুপর্ণার অভিনয় জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হলো ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত সিনেমা ‘দহন’। ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমায় তিনি এক ধর্ষিতা গৃহবধূর চরিত্রে অভিনয় করেন। এই সিনেমার জন্য ১৯৯৮ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ঋতুপর্ণা।
বাণিজ্যিক ও শৈল্পিক ঘরানা- দুই ধরনের সিনেমাতেই তিনি সমান উজ্জ্বল ও দ্যুতি ছড়িয়েছেন। নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে ঋতু বলেছিলেন,
"আমি থামতে জানি না, থামতে চাই না, আমাকে থামানো যাবে না।"
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ট্রল এবং আলোচনা-সমালোচনাকে উপেক্ষা করে আজও একই উদ্যমে শোবিজ ইন্ডাস্ট্রিতে এগিয়ে চলছেন। অভিনয়ের মতো ব্যক্তিগত জীবনও তিনি নিজের মতো করে সাজিয়েছেন। ১৯৯৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর সঞ্জয় চক্রবর্তীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অভিনেত্রী। দুই সন্তান অঙ্কন ও রিশোনা নিয়াকে নিয়ে তার সুখের সংসার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন