প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এই মর্যাদাপূর্ণ পদে মনোনয়ন ও নির্বাচনে সমর্থনের জন্য তিনি দায়িত্বটি ন্যায়সংগত, নিরপেক্ষতা ও সততার সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার করেছেন। জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের প্রতি আস্থা ও সমর্থন জানানোতে তিনি তাদেরও ধন্যবাদ জানান।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। উদ্বোধনী বক্তব্যে ড. খলিলুর রহমান উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করা তার জন্য গভীর সম্মানের বিষয়। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব এমন এক সময়ে রয়েছে, যখন বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা ও জাতিসংঘের ওপর আস্থা নানা দিক থেকে পরীক্ষার মুখোমুখি। এই পরিস্থিতিতে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপ, সহযোগিতা ও অভিন্ন ভিত্তি খুঁজে বের করা তার অগ্রাধিকার হবে।
জাতিসংঘের ভূমিকা তুলে ধরে ড. খলিলুর রহমান বলেন, আট দশকের বেশি সময়ে বিশ্বে শান্তি ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠায় সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রতিরোধ থেকে শুরু করে উন্নয়ন, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতিসংঘ কাজ করে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিগত রূপান্তরের মতো নতুন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংস্থাটিকে আরও কার্যকর করে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আস্থা পুনর্গঠন, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’। এই প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের ওপর সদস্যরাষ্ট্রগুলোর আস্থা পুনর্গঠন এবং প্রতিষ্ঠানটিকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও সক্ষম করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি জাতিসংঘে গভীরতর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন।
এর আগে গত ২ জুন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন ড. খলিলুর রহমান। প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকুরিসকে হারিয়ে তিনি ১৯০টি বৈধ ভোটের মধ্যে ৯৯ ভোট পান; প্রতিদ্বন্দ্বী পান ৯১ ভোট। এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় চার দশক পর আবারও বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে ফিরে আসে। এর আগে বাংলাদেশের হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ১৯৮৬-৮৭ সালে ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন।
৮ সেপ্টেম্বর থেকে এক বছরের জন্য ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন ড. খলিলুর রহমান। জাতিসংঘে তার ৩০ বছরের বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তিনি সাধারণ পরিষদের ১৬টি অধিবেশনে অংশ নিয়েছেন। নতুন অধিবেশনে বৈশ্বিক সংঘাত, উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমঝোতা তৈরিতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ড. খলিলুর রহমান বলেন, সব সমস্যার দ্রুত ও সহজ সমাধান সম্ভব—এমন ধারণা তার নেই। তবে মতপার্থক্য থাকলেও সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে অভিন্ন ভিত্তি খুঁজে বের করার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি একই সঙ্গে জাতিসংঘকে ভবিষ্যতের জন্য উপযোগী করে তুলতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন