প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম. এ. মুহিত বলেছেন, বিরোধীদল মাঝেমধ্যে সংস্কারের কথা বলে, জুলাই সনদের প্রসঙ্গ তোলে। কিন্তু তারা যেন শুধুমাত্র সেই সংস্কারের কথা বলে, যে সংস্কার তাদের ক্ষমতার ভাগ দিতে পারে। আজ পর্যন্ত স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার নিয়ে তারা একদিনও কোন কথা বলেনি।
রবিবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম কার্যদিবসে তিনি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনটি সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোন প্রেক্ষাপটে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, তা আমরা সকলেই জানি। বিগত ১৫ বছরের উপর দুঃশাসনে আমাদের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। একটি গণআন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ত সরকারের পতন হলে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে এই সংসদ গঠিত হয়েছে। তাই এই সংসদটির প্রতি দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সেই প্রত্যাশা পূরণ করা সরকারের দায়িত্ব।
ডা. এম. এ. মুহিত বলেন, আমি স্বাস্থ্যখাতের বাজেট নিয়ে আমার বক্তব্যকে কেন্দ্রভিত্তিক রাখতে চাই। বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের বলব, আসুন শুধু তর্ক বা সমালোচনার জন্য নয়, আমরা আলোচনায় বসি। আমরা একে অপরের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করি।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা নিশ্চিত করবে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলেই সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা পাবে। অর্থাৎ এই বাজেটটি প্রস্তুত করা হয়েছে একটি সহজপ্রাপ্য, সাশ্রয়ী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। পূর্ববর্তী অর্থবছরে যেখানে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার কোটি টাকা, এবার তা বৃদ্ধি পেয়ে ৬৯ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। এই বিনিয়োগের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র হাসপাতাল নির্মাণ বা সাময়িক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন নয়। স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ মানুষের গড় আয়ু বাড়াতে, সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে, দারিদ্র্য কমাতে সহায়তা করে এবং কর্মক্ষম জনগণ গড়ে তোলে।
তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ মানুষের সার্বিক কল্যাণ ও সুখ নিশ্চিত করে, সমাজে বৈষম্য কমায় এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করে।
দেশের স্বাস্থ্যখাতের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে ডা. মুহিত বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগসহ দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগের কারণে মানুষ মারা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে অতিমারি ও মহামারির ঝুঁকি, দ্রুত নগরায়ণ এবং প্রযুক্তির অগ্রগতি স্বাস্থ্যখাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর করতে হবে।
চিকিৎসা ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশে চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশই রোগীকে নিজের পকেট থেকে বহন করতে হয়। অথচ থাইল্যান্ডে এ হার মাত্র ১০ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮ শতাংশ। আমাদের লক্ষ্য হবে এই ব্যয় কমিয়ে মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করে তোলা।
বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল মাঝেমধ্যে সংস্কারের কথা বলে, জুলাই সনদের বিষয়ে আলোচনা করে। কিন্তু তারা স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে কখনো আলোচনা করেনি। আমি খুশি হতাম, যদি তারা সেই প্রতিবেদনের আলোকে সংসদে আলোচনা করতেন।
তিনি বলেন, আমরা স্বাস্থ্যব্যবস্থার পুনর্গঠন ও সংস্কার চাই। এজন্য স্বাস্থ্যখাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, চিকিৎসা পদ্ধতি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, বিকেন্দ্রীকরণ এবং ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন