প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কমিটি অনুমোদন করেছে দলটি। কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও সাবেক রুকন সদস্য আবদুল মান্নানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এনসিপির নোয়াখালী জেলা শাখার আহ্বায়ক কাজী মাঈন উদ্দীন তানভীর এবং সদস্য সচিব মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরে ২৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদিত হয়। এই কমিটি আগামী ছয় মাসের জন্য গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে আবদুল মান্নানকে আহ্বায়ক, খন্দকার দিদারুল আলমকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মোহাম্মদ ফারুককে সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
জামায়াতের সাবেক রুকন সদস্য আবদুল মান্নান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উপজেলা সাবেক সংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি হিসেবে পরিচিত।
উপজেলা জামায়াতের আমির জামাল উদ্দিন বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, "৫ আগস্টের পর শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে আবদুল মান্নানের রুকনিয়ত সদস্য বাতিল করা হয়। দীর্ঘ এক বছর তার পদ স্থগিত ছিল। পরে তিনি নিজের ইচ্ছায় এনসিপিতে যুক্ত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই।"
এদিকে, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কমিটি অনুমোদনের পর রাত ১১টা ২৭ মিনিটে খন্দকার দিদারুল আলম নিজের ফেসবুক আইডিতে এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
দিদারুল আলমের দাবি, সুবর্ণচরে এনসিপির কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে থেকেই তিনি মাঠপর্যায়ে সংগঠক হিসেবে কাজ করে আসছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনে যুক্ত হওয়া ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ের নেতারা অনৈতিক ও পক্ষপাতদুষ্ট প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠন করেছেন এবং এ বিষয়ে আগে থেকে তাকে কিছু জানানো হয়নি।
তবে দিদারুল আলমের অভিযোগ অস্বীকার করে এনসিপির নোয়াখালী জেলা আহ্বায়ক কাজী মাইনুদ্দিন তানভীর জানান, "উপজেলা সংগঠকদের কাছ থেকে তালিকা চাওয়া হয়েছিল। পদপ্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহের পাশাপাশি সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "খন্দকার দিদারুল আলম সাক্ষাৎকার দেননি এবং তার জীবনবৃত্তান্তও জমা দেননি। তবে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে।"
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অব্যাহতির ঘোষণা দিলেও জেলা কমিটির কাছে দিদারুল আলমের কোনো আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র পৌঁছায়নি। ফলে জেলা কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানে না বলে জানান জেলা এনসিপির আহ্বায়ক।
নবগঠিত সুবর্ণচর উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মান্নান বলেন, "আমরা স্থানীয়ভাবে সবার সঙ্গে আলোচনা করে জেলা কমিটির কাছে তালিকা পাঠিয়েছিলাম। জেলা কমিটি যাকে যোগ্য মনে করেছে, তাকেই আহ্বায়ক করেছে। এ নিয়ে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই।"
দিদারুল আলমের পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে আবদুল মান্নান আরও দাবি করেন, "দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে জেলা কমিটির কাছে কিছু লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ থাকায় তাকে আহ্বায়ক করা হয়নি। এরপরও আমাদের অনুরোধে তাকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। এখন তিনি পদত্যাগ করতে চাইলে তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন