প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিলেট আদালত চত্বরে আবারও হামলার শিকার হন শিশু ফাহিমা আক্তার ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেন। কারাগার থেকে হাজিরার উদ্দেশ্যে আদালতে তাকে আনা হলে একদল জনতা তার ওপর হামলা চালায়।
এই সময় তাকে মারধর শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টায় সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। এর আগেও একই আদালত প্রাঙ্গণে জাকিরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল।
পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে আসামি জাকিরকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে নেওয়া হয়। আদালত চত্বরে তিনি আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন নিহত ফাহিমার স্বজন এবং এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা। প্রিজন ভ্যান থেকে আদালত ভবনের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় তারা জাকিরকে লক্ষ্য করে হামলা চালান এবং মারধর করেন। পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা এসে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জাকিরকে আদালতের ভেতরে নিয়ে যান।
তবে হামলার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফাহিমার এক চাচা। তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আসামিপক্ষের দিকে ঝুঁকে থাকছেন। এর ফলে ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে আমাদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।’
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম বলেন, ‘জাকিরকে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে আনা-নেওয়া করা হয়। তারপরও কীভাবে হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। অভিযুক্ত জাকির একই গ্রামের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা এবং শিশু ফাহিমার চাচা। গত ৬ মে শিশু ফাহিমা আক্তার (৪) নিখোঁজ হয়। দুই দিন পর ৮ মে ভোররাতে তার মরদেহ গ্রামের একটি ডোবার পাশ থেকে উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, জাকির প্রথমে মরদেহ ডোবায় ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে সেটি ডোবার পাশে ফেলে রেখে যান। স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
মরদেহ উদ্ধারের তিন দিনের মাথায় গত ১১ মে রাতে শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে, ঘটনার এক মাস পাঁচ দিনের মধ্যেই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি হিসেবে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে লাশ গুমাতে সহযোগিতা করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর জাকির পুলিশের কাছে এবং পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তবে সম্প্রতি আদালতে হাজিরার সময় তিনি সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, পুলিশ তার কাছ থেকে জোরপূর্বক ওই জবানবন্দি আদায় করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন