প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বের ৫৯টি দেশে পরিচালিত মানবপাচারবিরোধী সমন্বিত অভিযানে এক হাজারের বেশি ব্যক্তি গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইন্টারপোলের নেতৃত্বাধীন ‘অপারেশন গ্লোবাল চেইন’-এ যাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হয়, তারা যৌন নির্যাতন, জোরপূর্বক শ্রম, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার সঙ্গে জড়িত আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রগুলোর সদস্য।
এতে ইন্টারপোল জানিয়েছে, অভিযানের ফলস্বরূপ মোট ২ হাজার ৭০ জন ভুক্তভোগী অথবা সম্ভাব্য ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৩৪ জনের বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগ রয়েছে এবং ৬৯০ জন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অপরাধের সাথে যুক্ত।
অভিযানে কম্বোডিয়ায় অনলাইন প্রতারণা চক্রে কাজ করাতে যারা মানুষ পাচার করছে, তাদের একটি আন্তঃদেশীয় নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং ইউরোপে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের যৌনকর্মে বাধ্য করার একটি চক্রও ধরা পড়েছে। তদন্তের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইউরোপে জোরপূর্বক শ্রমের জন্য লাতিন আমেরিকার নাগরিকদের পাচার করার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এভাবে শনাক্ত হওয়া ভুক্তভোগীদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ অপ্রাপ্তবয়স্করা যৌন নির্যাতনের শিকার।
ব্রাজিলে, ৪০৬ জন ভুক্তভোগী শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের অনেককে কম্বোডিয়ায় নিয়ে গিয়ে অনলাইন প্রতারণায় বাধ্য করা হয়েছিল। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনায় বলিভিয়ার দুই শিশুকে জোরপূর্বক শ্রম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বেলজিয়ামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের ফাঁদে ফেলে যৌনকর্মে বাধ্য করার অভিযোগে ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে কর্তৃপক্ষ।
গত ৮ থেকে ১২ জুন পরিচালিত এই অভিযানে আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশের প্রায় ৪০ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যেরা অংশগ্রহণ করেছেন। অভিযানের ফলে ইতোমধ্যেই ৪৬৫টি নতুন তদন্তের কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং আরও ২০১ জন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
ইন্টারপোলের মহাসচিব ভালদেসি উরকিজা বলেন, মানবপাচার এখনো বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক সংগঠিত অপরাধগুলোর একটি। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমেই এ ধরনের অপরাধী চক্র ভেঙে ফেলা সম্ভব; সাম্প্রতিক এ অভিযান তারই প্রমাণ।
সূত্র : বিবিসি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন