প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীতে যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ক্যামেরার পর এবার ড্রোন সার্ভিলেন্স চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
প্রথম পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে একটি ড্রোনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকাগুলোতে রিয়েল টাইম তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত, সতর্কবার্তা প্রদান এবং পরবর্তীতে অটোমেটেড নম্বর প্লেট রিডার (এএনপিআর) যুক্ত করে ভিডিও মামলা দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন এই প্রযুক্তির সংযোজনে রাজধানীর যানজট অনেকাংশে কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান ডিএমপি সদর দপ্তরে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি জানালেন, "ড্রোন সার্ভিলেন্স পৃথিবীর বহু দেশে কার্যকরী, তবে এটি আমাদের জন্য একটি নতুন কনসেপ্ট।" অনেকসময় ফ্লাইওভার এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতেও যানজট সৃষ্টি হয়, কিন্তু অনেক সময় সেগুলোর সঠিক কারণ জেনে নেওয়া যায় না। এ সমস্যার সমাধানে ড্রোন সার্ভিলেন্স অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে। এর মাধ্যমে আইন ভঙ্গকারী যানবাহনকে সতর্কবার্তা দেওয়ার পাশাপাশি ভিডিও মামলা করার সম্ভাবনাও রয়েছে।
আনিছুর রহমান বললেন, "ঢাকা শহরে সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো বাসগুলো নির্দিষ্ট বাস স্টপেজে থামে না।" তিনি এ বিষয়ে আরও জানান, বাসগুলো মালিকপক্ষের নিয়ন্ত্রণে নয় এবং শ্রমিকরা মালিকের সঙ্গে কন্টাক্ট নিয়ে গাড়ি চালায়। বাস অদ্ভুতভাবে স্টপেজে না থামলে রাস্তার পুরো অংশ ব্লক হয়ে যায়। উন্নত দেশগুলোতে যেমন সঠিক সময়ে বাস চলাচল করে, আমাদের দেশে সে ধরনের পরিবহন ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রতিযোগিতার কারণে বাসগুলো যাত্রী পাওয়ার জন্য একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয় এবং এর ফলে বাসের গায়ে দাগ ও ক্ষত দেখা যায়।
তিনি বলেন, "ড্রোনে ভয়েস বা শব্দের ব্যবস্থা থাকবে, যার মাধ্যমে আইন ভঙ্গকারী যানবাহনকে সতর্ক করা হবে, যেমন, 'আপনি যানজট সৃষ্টি করছেন, সরে যান।'" ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় মামলাও করা সম্ভব হবে। তবে প্রযুক্তিটি এখনও উন্নয়নশীল সবকিছু পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। একটি সংস্থা ডিএমপির কাছে একটি ড্রোন দিয়েছে, এবং তাঁদের পূর্বে এটি পরীক্ষা করতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ড্রোনের মাধ্যমে রিয়েল টাইম ডেটা পাওয়ার বিষয়েও আনিছুর রহমান নিজস্ব মত প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, "এগুলো ইন্টারনেট বেইজড এবং সার্ভার বেইজড সিস্টেমে কাজ করবে, তাই অবকাঠামো প্রয়োজন।" ড্রোনের মাধ্যমে মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে কি না তা জানতে চাইলে তিনি জানান, তারা এখনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তবে যেন কোনো অনিয়ম না হয়, সেই লক্ষ্যে ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মামলা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানালেন, ড্রোন যাতে সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, সেজন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শাহবাগ থেকে ১৫টি ট্রাফিক সিগন্যাল এআই প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে। তিনি আশা করছেন, ড্রোন পরিচালনার ক্ষেত্রেও সময় লাগবে এবং এটি পরীক্ষা করে কার্যক্রম শুরু করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন