প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। এবার এলমা আভেইরো, তার বড় বোন, এ বিষয়ে কথা বলেছেন। এলমার মন্তব্যে মনে হচ্ছে, রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হতে পারে।
গত আন্তর্জাতিক বিরতিতে রোনালদো হঠাৎ করে পর্তুগাল দলের ক্যাম্প ত্যাগ করেন। নরওয়ের বিরুদ্ধে পর্তুগাল ২-১ গোলে জিতেছিল। ওই ম্যাচে রোনালদো ছিলেন বদলি খেলোয়াড়দের বেঞ্চে। এরপর কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে তার মতভেদ বাড়তে থাকে।
পরবর্তীতে, পর্তুগাল অধিনায়ক প্রায় দুই হাজার শব্দের একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি তার অবস্থান পরিষ্কার করেন এবং জানান যে তিনি জাতীয় দলে ফিরতে চান। কিন্তু বোনের নতুন মন্তব্যে সেই ফিরতে চাওয়ার ব্যাপারে আবারও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
বুধবার একটি বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে এলমা বক্তব্য রাখেন। ৫৩ বছর বয়সী এলমা জানান, ৪১ বছর বয়সী ছোট ভাই এখন খুব কষ্টে আছেন। মজার বিষয় হলো, ওই অনুষ্ঠানে কোচ জেসুসও উপস্থিত ছিলেন। পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপটে এটি বেশ নজরকাড়া।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’-এর উদ্ধৃতিতে এলমা বলেন, ‘তার না ফেরার সম্ভাবনা ফেরার সম্ভাবনার চেয়ে বেশি। আমার মনে হয় রোনালদো ও জেসুস, দুজনেই কষ্টে আছেন। এই পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে তারা গেছে, আমি নই, আর আমি আমার ভাইয়ের পক্ষ হয়ে কথা বলছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার মনে হয় বিষয়টি একটি বন্ধ গলিতে পৌঁছে গেছে, এখন দেখা যাক কী হয়। আমি জানি না, ব্যাপারটি অত্যন্ত জটিল। যখন আমরা বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হই, তখন আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া খুব কঠিন হয়ে যায়।’
এলমার মতে, পর্তুগালের ফুটবল কর্তাদের আরও কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। জাতীয় দলের অধিনায়ক এত বছর দেশের জন্য অনেক কিছু দিয়েছেন। ভক্তরা তার অতীতের অর্জন ভুলে যাচ্ছেন বলেও তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
এলমা বলেন, ‘আমার খারাপ লাগছে, কারণ দুঃখজনকভাবে পর্তুগালের মানুষ আগে যা অর্জিত হয়েছে তা ভুলে যায়, আর ভাবে যে এখন বিষয়গুলো অন্যভাবে চলা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি কথা খুঁজে পাচ্ছি না, কারণ আমার ভাইকে এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে দেখা খুবই কষ্টের। যাদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটা উচিত নয়, সে তাদের একজন।’
এলমার এই মন্তব্য রোনালদোর পরিবারের অবস্থানকেই আরও স্পষ্ট করেছে। এর আগে রোনালদোর মা জানিয়েছিলেন, ছেলের হঠাৎ ক্যাম্প ছাড়ার পর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন।
এদিকে, পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনও একটি বিবৃতি দিয়েছে। রোনালদো ক্যাম্প ত্যাগ করার পর ফেডারেশন জানায়, তার ওপর স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।
তবে আল নাসরের এই স্ট্রাইকার আগামী নভেম্বরের ম্যাচগুলোর জন্য পর্তুগাল দলে নির্বাচিত হওয়ার মতো অবস্থায় থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উয়েফা নেশনস লিগে পর্তুগাল ডেনমার্ক ও নরওয়েকে হারিয়ে দুটি জয় পেয়েছে। দুটি ম্যাচই রোনালদো বাড়ি থেকে দেখেছেন। এতে কোচিং স্টাফের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং জাতীয় দলে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রোনালদো আবার জাতীয় দলে ফিরবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সামনের দিনগুলোতেই সেটা পরিষ্কার হবে। তবে বোনের মন্তব্য অনুযায়ী, এই সংকট কাটিয়ে আগের সম্পর্কে ফেরা মোটেও সহজ হবে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন