প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট একযোগে খুলে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টা ২০ মিনিটে প্রতিটি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খোলার মাধ্যমে কর্ণফুলী নদীতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি ছেড়ে দেওয়া শুরু হয়।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, শনিবার সকাল ১০টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৪ দশমিক ০৮ ফুট এমএসএলে পৌঁছেছে। অব্যাহত বর্ষণ এবং উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে হ্রদে পানির প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে স্পিলওয়ের জলকপাট খুলে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি উৎপাদন ইউনিটই সচল রয়েছে। এই ইউনিট থেকে গড়ে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। একই সঙ্গে টারবাইনের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি হ্রদের পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এর আগে, গত ১৬ জুলাই বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এক সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তিতে প্রয়োজন হলে স্পিলওয়ের জলকপাট খুলে পানি ছাড়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। কাপ্তাই হ্রদের সর্বাধিক পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে পর্যায়ক্রমে আরও জলকপাট খুলে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে বলেও জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
জলকপাট খুলে পানি ছাড়ার ফলে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল, চরাঞ্চল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে যাতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা বা জানমালের ক্ষয়ক্ষতি না ঘটে, সেই লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে, শনিবার রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং জলকপাট দিয়ে পানি ছাড়ার কার্যক্রম ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুহুল আমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আলমগীর হোসেন, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম, কাপ্তাই পিডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। তিনি কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের সব প্রস্তুতি নিশ্চিত রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন