প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তি আধুনিক যুদ্ধের রূপ পরিবর্তন করছে। ইউক্রেন, রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে, মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট ‘পালান্টির’ (Palantir)-এর উন্নত সফটওয়্যার এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বুদ্ধিমত্তা বা ব্যাটলফিল্ড ইন্টেলিজেন্স ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে আসছে। তবে, এর পেছনে একটি কঠিন ও অস্বস্তিকর প্রশ্ন উঠেছে—ইউক্রেন কি তাদের চরম রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিনিময়ে বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এআই ও আধুনিক যুদ্ধের অমূল্য ডেটা বা উপাত্ত প্রদান করছে?
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কেবল ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করছে না, বরং এটি একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক যুদ্ধের ওপর অত্যন্ত মূল্যবান এবং বিশাল পরিমাণ প্রায়োগিক তথ্য বা ডেটা তৈরি করছে। ড্রোন উড্ডয়ন, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপশন, রুশ গ্লাইড বোমা হামলা এবং রিকনেসান্স মিশনের কোটি কোটি পর্যবেক্ষণ একত্রিত হয়ে এআই মেশিনকে যুদ্ধ পরিচালনার নতুন পাঠ দিচ্ছে।
যুদ্ধের শুরু থেকেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং দেশটির ডিজিটাল রূপান্তর মন্ত্রণালয় পশ্চিমা প্রযুক্তি জায়ান্টদের সাথে নিবিড় সহযোগিতা করে আসছে। পালান্টিরের প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স কার্প কিয়েভ সফর করে ইউক্রেনকে ‘ডিজিটাল ফ্রন্টলাইনে’ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। পালান্টিরের ‘গথাম’ (Gotham) এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মগুলো ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীকে শত্রুসেনার গতিবিধি ট্র্যাক করতে, উপগ্রহ চিত্র ও ড্রোন ডেটা বিশ্লেষণ করতে এবং অপারেশন পরিকল্পনা করতে সহায়তা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিগত সহায়তা অত্যন্ত জরুরি হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এর বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মূল্য কোথায় গিয়ে ঠেকছে তা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। যুদ্ধের ভয়াবহ মানবিক মূল্য এবং ইউক্রেনীয়দের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই কৌশলগত ডেটার সার্বভৌমত্ব শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে—এই প্রশ্নই এখন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও ভূ-রাজনীতির মহলে জোরালোভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন