প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আরো ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এই মামলায় মোট ৫১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমানের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই মামলায় মোট ৫১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করে জানান, ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় জাবেদসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে গতকাল ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট ৫১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হলো। আদালত আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।
এদিকে, চলতি বছরের ১১ মার্চ এ মামলায় ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। তার আগে ৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ইউসিবি ব্যাংক থেকে ভুয়া ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এতে বলা হয়, জাবেদ তাঁর মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহকে মালিক হিসেবে দেখিয়ে দুটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরে জাল নথিপত্র তৈরি করে ইউসিবি ব্যাংকের চট্টগ্রাম পোর্ট শাখা থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, ব্যাংকের ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দিলেও তা উপেক্ষা করা হয়। দুদকের দাবি, পরে ওই অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
২০২৫ সালের ২৪ জুলাই জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তাঁর স্ত্রী ও ইউসিবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী ও রোকসানা জামান চৌধুরী।
এছাড়া সাবেক পরিচালক বশির আহমেদ, আফরোজা জামান, সৈয়দ কামরুজ্জামান, মো. শাহ আলম, মো. জোনাইদ শফিক, অপরূপ চৌধুরী, তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান, ইউনুছ আহমদ, হাজী আবু কালাম, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরীসহ মোট ৩৬ জন আসামি রয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন