প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে প্রবীণদের সেবার উদ্দেশ্যে সরকারি তহবিলের অপব্যবহারের একটি চতুর জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে। মেডিকেয়ার কর্মসূচি থেকে প্রবীণ নাগরিকদের সহায়তার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুষ লেনদেনের অপরাধে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাকিয়া খানকে ৭৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে মার্কিন আদালত। ব্রুকলিনের আদালত কক্ষে বিচারক নাতাশা সি মার্ল এই রায় প্রদান করেন।
আদালতের নথিপত্র থেকে জানা যায়, এটি একটি লোভ ও প্রতারণার অবিশ্বাস্য কাহিনী। ব্রুকলিনের কোনি আইল্যান্ড এলাকায় ‘হ্যাপি ফ্যামিলি’ এবং ‘ফ্যামিলি সোশ্যাল’ নামে দুটি প্রবীণ পরিচর্যা কেন্দ্র পরিচালনা করতেন জাকিয়া। পাশাপাশি, বাসায় সেবা দেওয়ার আড়ালে ‘রেসপন্সিবল কেয়ার স্টাফিং’ এবং বেআইনি অর্থ লুকানোর জন্য ‘তানভী সার্ভিসেস’ নামে আরও দুটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি।
২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা সাত বছর ধরে এই কারচুপি চলতে থাকে। প্রবীণ নাগরিকদের এসব কেন্দ্র থেকে সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও, জাকিয়া ও তার চক্রের দালালরা তাদের নগদ টাকার প্রলোভন দেখাতেন। প্রবীণরা কোনো সেবা না পেয়েও কেবল ভুয়া হাজিরা খাতায় সই করতেন, আর তার বিনিময়ে নগদ ঘুষের টাকা পেতেন। অন্যদিকে, জাকিয়া খান সরকার বা মেডিকেয়ারের কাছে সেবা প্রদানের ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে কোটি কোটি ডলার তুলে নিতেন।
গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, জাকিয়া খান নিজের অফিসে বসে কীভাবে ঘুষের টাকা লেনদেন করছেন। জানা গেছে, এই কয়েক বছরে তার প্রতিষ্ঠান দুটি প্রায় ৬৪ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া বিল জমা দিয়েছে। এর মধ্যে সরকার তাকে ৫৬ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছে। প্রতারণার এই বিপুল অর্থ দিয়ে জাকিয়া বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন, জমা করেছেন প্রচুর নগদ টাকা ও খাঁটি সোনার গয়না।
তদন্তে সব কিছু ধরা পড়ার পর গত বছর জাকিয়া নিজের দোষ স্বীকার করেন। বিচারের সময় কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ওই ৫৬ মিলিয়ন ডলার সরকারকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, তার দুটি বাড়ি, নগদ টাকা ও সোনা মিলিয়ে অন্তত ৫ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
মার্কিন অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা এবং পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুর্নীতিবিরোধী বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই জালিয়াতি চক্র ধরা পড়েছে। প্রবীণ ও অসহায় মানুষের নাম ভাঙিয়ে যারা সরকারের টাকা আত্মসাৎ করবে, তাদের সবাইকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন