প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করেছে। সংশোধিত বিধিমালার আওতায় প্রার্থীর ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি তাঁর নিয়োজিত নির্বাচনী এজেন্টের ব্যাংক হিসাব নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে হলফনামায় কিছু তথ্য দাখিলের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে এবং নির্বাচনী প্রতীকের তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বুধবার কমিশন সচিবালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও সংশোধিত বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৯৪ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধন করা হয়েছে।
সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, তফসিল-১-এর ফরম-১-এর তৃতীয় অংশে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যাংক হিসাব নম্বরের সঙ্গে এখন প্রার্থী অথবা তাঁর নিয়োজিত নির্বাচনী এজেন্টের হিসাব নম্বরও দিতে হবে। এর ফলে নির্বাচনী ব্যয়ের অর্থ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত হিসাবের তথ্য মনোনয়নপত্রের সঙ্গেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার সুযোগ তৈরি হলো।
হলফনামার ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংযুক্তি-১-এর ক্রমিক ৩(খ)-এর বিশেষ দ্রষ্টব্যে আগে যেসব তথ্য ‘সংযুক্ত করিতে হইবে’ বলা ছিল, সংশোধনের পর সেগুলো ‘দাখিল ঐচ্ছিক মর্মে বিবেচিত হইবে’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট কিছু কাগজপত্র দাখিলের ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা কমানো হয়েছে।
এ ছাড়া হলফনামার সংযুক্তি-১-এর ক্রমিক ৩(গ)-এ ‘অভিযুক্ত’ শব্দটির একটি নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা যুক্ত করা হয়েছে। সংশোধিত বিধানে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত বলতে এমন আসামিকে বোঝাবে, যার বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ বা চার্জ গঠন করেছে। ফলে শুধু মামলা থাকলেই কাউকে ‘অভিযুক্ত’ হিসেবে গণ্য করার পরিবর্তে আদালতে অভিযোগ গঠনের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
প্রার্থীর পরিবারের সদস্যদের আয়করসংক্রান্ত তথ্য দাখিলের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, হলফনামায় প্রার্থীর স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীলদের আয়করসংক্রান্ত তথ্য দেওয়া ঐচ্ছিক হিসেবে বিবেচিত হবে। আগে এসব তথ্য দাখিলের ক্ষেত্রে যে বাধ্যবাধকতা ছিল, সংশোধনের পর তা আর থাকছে না।
নির্বাচনী প্রতীকের তালিকাতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মোট ১২০টি প্রতীক রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ‘নৌকা’ প্রতীককে স্থগিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী, স্থগিত প্রতীক বাদ দিয়ে তালিকাভুক্ত প্রতীকগুলোর মধ্য থেকে প্রাপ্যতা সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে একটি প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।
সংশোধিত তালিকায় বিভিন্ন পরিচিত প্রতীকের পাশাপাশি ‘না’ প্রতীকও রাখা হয়েছে। কোনো নির্বাচনী আসনে একজন মাত্র প্রার্থী থাকলে ভোটারদের জন্য ব্যালটে ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ একক প্রার্থী হলেও ভোটাররা ওই প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করার বিকল্প পাবেন।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীকসংক্রান্ত সংশোধিত বিধানও প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবর ও ডিসেম্বরেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনসংক্রান্ত নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় বিভিন্ন সংশোধন আনা হয়েছিল।
সংশোধিত বিধিমালার এসব পরিবর্তনের ফলে মনোনয়নপত্র, হলফনামা, নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব এবং প্রতীক বরাদ্দ—নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধাপের নিয়মে নতুন কাঠামো যুক্ত হলো। বিশেষ করে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের সঙ্গে প্রার্থী বা নির্বাচনী এজেন্টের ব্যাংক হিসাবের তথ্য যুক্ত করা এবং একক প্রার্থীর ক্ষেত্রে ‘না’ ভোটের সুযোগ রাখার বিধান এবারের সংশোধনের উল্লেখযোগ্য দিক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন