প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি মন্তব্য করেছেন যে, মাছে-ভাতে বাঙালির ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেন, মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে অনেক এগিয়ে রয়েছে এবং এই অবস্থানকে আরও উন্নত করতে হবে।
আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের আয়োজনে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে পোনামাছ অবমুক্তকরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভাটি মৎস্যবিজ্ঞান ভবনের প্রফেসর মোহাম্মদ শফি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ফিসারিজ সেক্টরের পরিধি ব্যাপক এবং এ খাতে কর্মসংস্থানও অনেক বিস্তৃত। এক সময় মানুষ এই সেক্টরকে তেমন গুরুত্ব দিত না, তবে বর্তমানে এর গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। তিনি খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে মৎস্য খাতকে উন্নত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং মৎস্য চাষে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই মৎস্য পক্ষের সূচনা করেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেন।
দেশের নদ-নদীর নাব্যতা ও দূষণের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমাদের অনেক নদীর নাব্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীগুলোকে কীভাবে দূষণমুক্ত করা যায় এবং নাব্যতা ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণের ক্ষেত্রেও সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ যদি গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণে সক্ষম হয়, তাহলে দেশের অর্থনীতিতে এটি ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারবে।
মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী বাংলাদেশে মৎস্য খাতে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্র ও জীবন গঠনের ক্ষেত্রে এ খাতে নিজেদের এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বর্তমানে মৎস্য খাতকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, মৎস্য খাত সম্পর্কে জ্ঞানচর্চা করে এর সম্ভাবনা ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে হবে। ভবিষ্যতে মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উন্নয়নে মৎস্য শিক্ষাকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করার জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ওয়াহিদা হক। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওয়ায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের পুকুরে পোনামাছ অবমুক্ত করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন