প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের কেরালা রাজ্যের এরনাকুলাম জেলায় একটি দ্রুতগতির মিনি কুপার গাড়ির আঘাতে স্কুটারে থাকা তিন শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটেছে। রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কোচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী নেদুম্বাসেরিতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ১৯ বছর বয়সী গাড়িচালক সুহাইল সাজিভকে আটক করেছে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের প্রশ্নের জবাবে চালক "বাবা সামলে নেবে" বলে মন্তব্য করেছেন, এমন অভিযোগ উঠেছে। দুর্ঘটনার সময় তিনি মদ্যপ ছিলেন কিনা, তা নিশ্চিত করার জন্য তার রক্তসহ বিভিন্ন নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
নিহত তিন শিক্ষার্থীর নাম দেবিকা, গোপিকা ও ইজাজ। দেবিকার বাড়ি কেরালার ওয়েনাড জেলায়, গোপিকা পালাক্কাডের বাসিন্দা এবং ইজাজের বাড়ি কর্ণাটকে। তিনজনই ত্রিক্কাকারায় কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ওই তিন শিক্ষার্থী কাছের একটি দোকানে চা পান শেষে স্কুটারে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি মিনি কুপার গাড়ি তাদের স্কুটারে সজোরে ধাক্কা দেয়। ফলে তিনজনই গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনেরই মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সুহাইল দুর্ঘটনার আগে অ্যালকোহল পান করার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি জানান, তিনি শুধুমাত্র বিয়ার পান করেছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তার শরীরে অ্যালকোহল বা অন্য কোনো নেশাজাতীয় পদার্থের প্রভাব ছিল কিনা, তা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এরনাকুলাম গ্রামীণ পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট কে এস সুদর্শন সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনার পেছনে চালকের ভূমিকা এবং গাড়ির ভেতরে কোনো নেশাজাতীয় পদার্থ ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য গাড়িটির ফরেনসিক পরীক্ষাও চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত মিনি কুপার গাড়িটি সুহাইলের বাবার নামে নিবন্ধিত। তবে সুহাইলের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর চালকের ওপর হামলার অভিযোগও তদন্ত করছে পুলিশ। চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য সুহাইলকে হাসপাতালে নেওয়ার পর নিহত শিক্ষার্থীদের কয়েকজন বন্ধু তার ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল থেকে তাকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন দিক থেকে মাথায় আঘাত করা হয়েছে বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ এসেছে।
পরে পুলিশ সদস্যরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ, চালকের মাদক গ্রহণের বিষয়টি এবং তার ওপর হামলার ঘটনা—সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন