প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হরি নদীর কূলঘেঁষা একটি ছোট মেঠোপথ রয়েছে। আধা কিলোমিটার অগ্রসর হলেই দেখা যায় সারি সারি গাছ, যেখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল। কিছু জায়গায় লাল, হলুদ, সাদা এবং গোলাপি ফুল ফুটে আছে।
বিভিন্ন রঙ ও গন্ধে সজ্জিত এই জায়গাটি ফুলের রাজ্যে পরিণত হয়েছে। মনে হচ্ছে, বাড়ির আঙিনা ঘিরে গড়ে ওঠা এই বাগানটি যেন শিল্পীর রংতুলিতে আঁকা।
নড়াইল সদর উপজেলা কলোড়া ইউনিয়নের রামনগরচর গ্রামে সুচিত্র বিশ্বাসের বাড়ির আঙিনায় এমন একটি ফুল বাগান গড়ে উঠেছে।
এই বাগানে প্রায় ২০০ প্রজাতির ফুলের গাছ রয়েছে। বছরের বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন ফুলে বদলে যায় আঙিনার চেহারা। তখন এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে মানুষের ভিড় জমে। এই বাগানটি সুচিত্রের আয়ের উৎস হিসেবেও কাজ করছে। শখের বশে শুরু করা ফুলের চাষ ধীরে ধীরে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করেছে।
রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, টিনের তৈরি বাড়ির আঙিনায় এক একর জমিতে সুচিত্রের নার্সারি রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চারা প্রস্তুত, পরিচর্যা ও বিক্রির কাজ চলছে। সাজানো নার্সারিটি দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় জমেছে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ঘুরে ঘুরে দেখছেন, আবার কেউ পছন্দের চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, চাকরি ছেড়ে দিয়ে ২০২৪ সালে নিজ বাড়ির আঙিনায় এক একর জমিতে নার্সারি গড়ে তোলেন সুচিত্র।
সুচিত্র বলেন, ‘ছয় বছর ধরে আমি একটি কম্পানিতে চাকরি করেছি। একপর্যায়ে চাকরিজীবন ভালো না লাগায় সেটি ছেড়ে দিই। এরপর নার্সারি করার সিদ্ধান্ত নিলাম। নিজের বাড়ির আঙিনায় এক একর জায়গায় নার্সারি শুরু করি। সেখানে এখন বাগান বিলাস, জবা, গাঁদা, গোলাপ, চন্দ্র মল্লিকা, কৃষ্ণচূড়াসহ ২০০ প্রজাতির ফুলের চারা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সাড়াও পাচ্ছি ভালো।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে নার্সারিতে সঠিক জাতের গাছ পাওয়া কঠিন। আমি সঠিক জাতের গাছগুলো বিক্রি করছি। ফলে এখানকার চারার চাহিদাও বেশি। প্রথম বছরই এক লাখ টাকা চারা বিক্রি করেছি।’
সুচিত্র জানান, ‘শুধু গাছ বিক্রি করার জন্য নয়, গাছের প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করতে আমার এ উদ্যোগ। এখানে প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা আসে। তারা ঘুরে ঘুরে চারা দেখেন, ছবি তোলেন। এটা একটা অন্যরকম অনুভূতি।’ নার্সারি আরো বড় করার ইচ্ছা রয়েছে বলে জানান সুচিত্র।
তরুণ এই উদ্যোক্তা জানান, তার নার্সারি শুধু ফুলের সৌন্দর্য নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানুষের কর্মসংস্থানও। গাছের পরিচর্যা, চারা তৈরি, টব প্রস্তুত, পানি দেওয়া, বিক্রির কাজে সময় দিতে হয়। ফলে বাড়ির নারীদের পাশাপাশি স্থানীয়দের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
ফুলের বাগানে কাজ করা আকাশ বিশ্বাস বলেন, নার্সারি দেখাশোনা, ফুল গাছে পানি দেওয়া, জায়গা পরিষ্কার রাখার জন্য আমরা তিনজন এখানে কাজ করি। নদীর কূলে ছায়াঘেরা জায়গায় কাজে কোনো কষ্ট হয় না।
বাগানটি দেখতে এসেছেন চিত্রশিল্পী ডি ডি মল্লিক (ধর্ম দাস মল্লিক)। তিনি খানিকটা সময় নিয়ে বাগান ঘুরে দেখেন এবং একপর্যায়ে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এর আগেও বাগানটি দেখতে এসেছিলাম। আমি এই বাগানে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে আসব। তারা এখানে বসে ছবি আঁকবে, আনন্দ করবে।’
ডি ডি মল্লিক আরো বলেন, ‘সুচিত্র তার এই নার্সারি এমন সুন্দর করে সাজিয়েছে, যা গ্রামীণ জনপদে তেমন দেখা যায় না। তার নার্সারিতে শুধু জেলার মানুষ নয়, দেশ বিদেশ থেকে এক সময় পর্যটকরা আসবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন