প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক প্রবাসীকে মারধর, আসবাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৭ জুন রবিবার, ভুক্তভোগী প্রবাসী ফিরোজ মিয়া ৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করেন।
কিশোরগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. আমিনুল ইসলাম বুলবুল মামলাটি গ্রহণ করে পাকুন্দিয়া থানাকে এটিকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এই মামলার আসামিরা হলেন পাকুন্দিয়া পৌর সদরের হাপানিয়া গ্রামের মৃত বধু মিয়ার ছেলে বকুল মিয়া, মৃত সোহরাব উদ্দীনের ছেলে লিয়াকন, মোস্তফার স্ত্রী ইতি আক্তার ও সফুর উদ্দীনের মেয়ে নাজমা। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার সূত্র অনুযায়ী, ফিরোজ মিয়া পাকুন্দিয়া পৌর সদরের হাপানিয়া গ্রামের সরুজ মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন দুবাই ও মালয়েশিয়ায় প্রবাসী ছিলেন। অসুস্থতার কারণে দেশে ফিরে পাকুন্দিয়া বাজারে একটি মুদি দোকান দিয়েছেন। গত ২৬ মে প্রতিবেশী বকুল মিয়ার সঙ্গে দোকানের মালামালের হিসাব নিয়ে ফিরোজ মিয়ার ঝগড়া হয়। এর পরদিন ২৭ মে সকালবেলা বিষয়টি মীমাংসা করার কথা বলে বকুল মিয়ার বাড়িতে ফিরোজ মিয়াকে ডেকে নেয়া হয়।
সেখানে আগে থেকেই সব আসামিরা উপস্থিত ছিলেন। ফিরোজ মিয়া ওই বাড়িতে পৌঁছানোর পর বকুল মিয়ার নির্দেশে আসামি লিয়াকন লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ফিরোজকে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এই অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে ফিরোজ তার নিজ বাড়ির উঠানে গিয়ে পড়ে যান। তখন অন্য আসামিরাও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফিরোজের পিছু পিছু তার বাড়িতে গিয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
এ সময় আসামি ইতি আক্তার ও নাজমা শোকেজের তালা ভেঙে বিদেশ থেকে আনা ৫ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, যার বাজারমূল্য প্রায় ১১ লাখ টাকা, সেইসঙ্গে নগদ ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এছাড়া অন্যান্য আসামিরা আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ১ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। ফিরোজ মিয়ার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়, পরে চিকিৎসক তাকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠান। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায়, সেখানকার চিকিৎসক তাকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠায়।
প্রবাসী ফিরোজ মিয়া বলেন, আমি দীর্ঘদিন দুবাই ও মালয়েশিয়া ছিলাম। দুবাইয়ে থাকাকালীন আমার হার্টে ব্লক ধরা পড়ায় একটি রিং পড়ানো হয়। ফলে আমি বাড়িতে চলে আসি। বাড়িতে এসে একটি মুদি দোকান দিই। আমার ওপর হামলা করায় পুনরায় হার্টের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এখন আমি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে একজন ডাক্তারের অধীনে চিকিৎসাধীন আছি।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান জানান, বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। খুব শীঘ্রই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন