মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৩৩ পি.এম
আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় ১০০ মিটার বেড়িবাঁধের একটি বড় অংশ হঠাৎ করে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয়ভাবে বাঁধ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে আকস্মিকভাবে বাঁধের বড় একটি অংশ প্রায় ৮০ ফুট নদীতে চলে যায়। এ ছাড়া আরও ২০ ফুট মত ফাটল দেখা দেয়। এর ফলে পুরো বাঁধটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে। জামায়াতে ইসলামী উপজেলা সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওঃ রিয়াছাত আলী এবং ইউনিয়ন আমির মাওঃ ওহিদুজ্জামান স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে বাঁধ রক্ষায় ঝাপিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে বিএপি ও ইউপি চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে লোকজন বাঁধ রক্ষায় তাদের সাথে যোগ দেন। চার শতাধিক মানুষ সারাদিন মাটি ও বস্তায় মাটি ভরে বাঁধ রক্ষার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ৩০ ফুট লম্বা ও ১৬ ফুট গোলাকার জিও টিউবে বালি ভরে বাঁধের পাশে ফেলে রক্ষার কাজ করা হয়। কিন্তু গভীর রাতে জোয়ারের পানিতে বাঁধের অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে আবারও শত শত মানুষ বাঁধ রক্ষায় ঝাপিয়ে পড়েন। রাত দেড়টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে কাজ করে ভাঙ্গন রোধ করা হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে স্থানীয়রা মাটির বস্তার ফাঁক বন্ধ করার কাজে লিপ্ত হন। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৭টি টিউব দিয়ে বাঁধকে সুরক্ষায় কাজ করেছেন।
প্রতাপনগর ইউনিয়নের ১৪টি গ্রামের প্রায় ৬ হাজার বিঘা মাছের ঘের ও ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে এবং ২৫ সহস্রাধিক মানুষ ঘরবাড়িসহ সর্বস্ব ভেসে যাওয়ার শঙ্কায় সারারাত জেগে কাটিয়েছেন।
এসিল্যান্ড মিঠুন মৈত্র ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। ভাঙনের ভয়াবহতা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি দেখে তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, "জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে ভাঙন সরেজমিনে পরিদর্শন করতে এসেছি। বাঁধের যে অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।"
সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় পাউবো'র এসডিই রাশিদুজ্জামান, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির নুরুল আফসার মুর্তজা, উপজেলা আমির আবু মুসা তারিকুজ্জামান তুষারসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা ভাঙনস্থলের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডিই রাশেদুজ্জামান জানান, "আমরা ঘটনাস্থলে সকাল ৮ টা থেকে কাজ করে যাচ্ছি। তাৎক্ষণিকভাবে বস্তায় মাটি ভরে ডাম্পিং করা হচ্ছে। যত সময় লাগুক কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি আশ্বস্থ করেন।" সাতক্ষীরা পাউবো'র বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহমান তাজকিয়া বলেন, "জোয়ারের চাপে ঐ পয়েন্টে ধস নেমেছে। সেখানে বস্তা ডাম্পিংয়ের পাশাপাশি জিও টিউব ব্যবহার করে বিকল্প বাঁধ তৈরির কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোরের অভয়নগরে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা শীর্ষ মাদক কারবারি কামরুল ইসলাম (ওরফে ‘মাদক কামরুল’)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষিত এই আসামিকে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে নওয়াপাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গুয়াখোল একটি মটরসাইকেল গ্যারেজ থেকে আটক করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন সাব-ইন্সপেক্টার (এসআই) গোলাম রসুল। কামরুল ইসলাম নওয়াপাড়া গুয়োখালো এলাকার মৃত আব্দুল গনীর ছেলে। তিনি নওয়াপাড়া পৌর বাস্তহারা লীগের সভাপতি এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ড কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভয়নগর থানাসহ বিভিন্ন থানায় মোট ১৪টি মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। সম্প্রতি যশোর জেলা পুলিশের প্রকাশিত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাকে ধরিয়ে দিতে বা গ্রেপ্তারে তথ্য দিলে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
অভয়নগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নুরুজ্জামান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘যশোর জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত ও পুরস্কার ঘোষিত মাদক কারবারি কামরুল হাসান ওরফে ইয়াবা কামরুলকে মঙ্গলবার দুপুর ১ টার পরে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মাদকসহ ১৪টি মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন। এছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন বাস্তহারা লীগ নওয়াপাড়া পৌর শাখার সভাপতি ও নওয়াপাড়া পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এলাকায় এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে অভিযান পরিচালনা করে ৬ কেজি ৭৫১ গ্রাম হেরোইনসহ মো. মেহেদী হাসান (৩৫) নামের একজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৫। এ সময় বাহিনীর উপস্থিতি বুঝতে পেরে তার সহযোগী মো. আল-মামুন (৪০) পালিয়ে যান।
মঙ্গলবার ভোরে শিবগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামপুর ইউনিয়নের ওমরপুর হঠাৎপাড়া এলাকায় মেহেদী হাসানের বসতবাড়িতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তার হওয়া মেহেদী মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে এবং পলাতক আল-মামুনও একই এলাকার বাসিন্দা।
এসআরবি জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এসআরবি-৫-এর রাজশাহী সদর কোম্পানির একটি দল মেহেদীর বাড়িটি ঘেরাও করে অভিযান শুরু করে। এ সময় মেহেদীকে আটক করা সম্ভব হলেও আল-মামুন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
পরে মেহেদীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বসতবাড়ির সামনে খড়ি রাখার ঘর থেকে ৬ কেজি ৭৫১ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেহেদী স্বীকার করেছেন যে, তিনি বিক্রির উদ্দেশ্যে হেরোইনগুলো নিজের হেফাজতে রেখেছিলেন। তিনি এবং পলাতক আল-মামুন দীর্ঘদিন ধরে পরস্পর যোগসাজশে হেরোইন সংগ্রহ করে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছিলেন।
এই ঘটনায় গ্রেপ্তার মেহেদী এবং পলাতক আল-মামুনের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আইনশৃঙ্খলা কমিটি এবং চোরাচালান, সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সম্মেলন কক্ষে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তারের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাইনুল ইসলাম খান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তৌকির আহম্মেদ, থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ শাহিনুর রহমান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অর্ণা চক্রবর্তী, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্য শেখ এবাদুল ইসলাম, সাবেক সদস্য সচিব শেখ শফিকুল ইসলাম বাবু, রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক নিয়াজ কওছার তুহিন, মথুরেশপুর ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম, বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ উকশা বিওপির কমান্ডার সুবেদার কবির হোসেন, নলতা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
এ সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শংকর কুমার দে, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাকিল আহম্মেদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসনে আরা খানম, কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভীন, ধলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান গাজী শওকাত হোসেন, হাজী তফিল উদ্দীন মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার শেখ শফিউল্লা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আনসার ও ভিডিপি অফিস এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কালিগঞ্জ কার্যালয়ের প্রতিনিধিবৃন্দও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধ, বাল্যবিয়ে বন্ধে তদারকি, অবৈধ বালু ব্যবসায়ী ও চিংড়িতে পুশের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা, সর্বস্তরের মানুষের নিরাপদ বিচরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়। তবে এবার ঘটেছে একটি ভিন্ন ঘটনা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করার সময় ট্রেনের ছাদ ও কামরা থেকে স্টেশনের দিকে পাথর নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। পাথরের আঘাতে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারী আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় রেলওয়ে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার দক্ষিণ পদুয়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম ওরফে বাপ্পি (২২), দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ছোট কালাইঘাটি গ্রামের শফিকুল কামাল (২৭), রাজশাহী নগরের ভদ্রা জামালপুর এলাকার সবুজ আলী (৩৩) এবং কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম গ্রামের শরিফুল ইসলাম (৪৫)। তারা রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী ছিলেন।
রেলওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ১১টা ২৫ মিনিটে ধুমকেতু এক্সপ্রেস রাবি রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করার সময় ট্রেন থেকে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের দিকে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এতে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারী আহত হন এবং তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও রেলওয়ে পুলিশ বাঘার আড়ানী স্টেশনে ট্রেনটি থামায়। এরপর ট্রেনের ছাদ থেকে শহিদুল ইসলাম, শফিকুল কামাল ও সবুজ আলীকে আটক করা হয়। শরিফুল ইসলামকে কামরা থেকে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে কয়েকটি পাথর জব্দ করার দাবি করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, “আমরা ফেসবুকে এর আগে এমন ঘটনার ভিডিও দেখেছি। সোমবার রাতে খবর পাই, ট্রেনের ছাদে টিকিট ছাড়া অবৈধভাবে ভ্রমণরত কয়েকজন যাত্রী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাবি স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে থাকা যাত্রীদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করছেন। পরে পুলিশের একটি দল আড়ানী স্টেশনে ধুমকেতু এক্সপ্রেসে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করে। রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাত আরও কয়েকজন কৌশলে পালিয়ে যায়।”
ওসি আরও বলেন, গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে তিনজনের বাড়ি অন্য জেলায়। তাদের একজন দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বাসিন্দা হয়ে ঢাকাগামী ট্রেনে উঠেছিলেন। কেন তিনি ঢাকার ট্রেনে উঠেছিলেন, এ বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে এবং তারা কেন স্টেশনে পাথর নিক্ষেপ করেছেন, সেটিও স্বীকার করেননি।
এ ঘটনায় ট্রেনে দায়িত্বে থাকা সহকারী উপপরিদর্শক (এটিএসআই) আফজাল হোসেন বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে রেলওয়ে আইন-১৮৯০-এর ১১৩, ১২৭ ও ১২৯ ধারায় মামলা করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রেলওয়ের সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি বিরোধের ঘটনা ঘটেছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে রেলপথ অবরোধ করেছেন। সম্প্রতি রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, রাবি রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করার সময় ট্রেন থেকে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করা হচ্ছে।
সোমবারের ঘটনার আগে টানা দুই দিনও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়। ট্রেন থেকে ছোড়া পাথর স্টেশনের দোকানপাটে এসে পড়ছে। সোমবার রাতে একটি পাথর একটি দোকানের ফ্রিজে আঘাত করে।
রাবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান বলেন, “কিছুদিন ধরে স্টেশনে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে চলন্ত ট্রেন থেকে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গতরাতে যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তাদের পেছনে অন্য কোনো চক্র বা ইন্ধনদাতা রয়েছে কি না, সেটিও খুঁজে বের করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ