মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:২৯ পি.এম
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে নাগেশ্বরী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নাগেশ্বরী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব, ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যের ক্ষতিকর প্রভাব এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য গ্রহণের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সচেতন করা হয়।
কর্মসূচিতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কুড়িগ্রাম জেলার নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. রাকিবুল হাসান নিশাত এবং নাগেশ্বরী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. কামরুল ইসলাম। এছাড়াও বিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাগেশ্বরী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম নবী।
বক্তারা বলেন, সুস্থ ও মেধাবী জাতি গঠনে নিরাপদ খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হলে তারা পরিবার ও সমাজেও এ বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে।
আয়োজকরা জানান, জনস্বার্থে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন জানিয়েছেন, "জাতীয় জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।" বর্তমান সরকার দেশকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যা তলাবিহীন ঝুড়ির মতো। ক্ষমতাচ্যুত সরকারের ১৭ বছরের শাসনে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়েছে। তিনি বলেন, "সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে, ধৈর্য ধরে একটু সময় দিতে হবে।"
আজ দুপুরে গাইবান্ধা জেলা বিএনপি কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শামীম কায়সার লিংকন নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন; ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।" তিনি আরও বলেন, ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায় থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সকল ধরনের ভেদাভেদ ভুলে জয় ছিনিয়ে আনতে হবে।
সমাবেশ শেষে জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়, যা শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা প্রদক্ষিণ করে ইসলামি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
এতে জেলার সাত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিটের বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে মঙ্গলবার থেকে ওভারটাইমের নিয়ম শিথিল করছে জাপান। তবে এ পদক্ষেপকে দেশটির দীর্ঘদিনের কাজপাগল সংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা বলে সমালোচনা করা হচ্ছে।
কাজপাগল হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেওয়া প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন সরকার জুলাইয়ে একটি প্রবৃদ্ধি কৌশল গ্রহণ করে। এতে কর্মঘণ্টার বর্তমান তদারকি ব্যবস্থায় পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়। এর পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
শ্রমিকের তীব্র সংকট মোকাবিলা করতে গিয়ে কিছু ব্যবসায়ী খাত আরও নমনীয় কর্মপদ্ধতির দাবি জানিয়ে আসছিল। এই পরিবর্তনের পেছনে তাদের দাবিও আংশিকভাবে কাজ করেছে।
জাপানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৪০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান শ্রমিক ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে বিশেষ চুক্তির আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে আইনগতভাবে মাসে সর্বোচ্চ ১০০ ঘণ্টা পর্যন্ত ওভারটাইমের অনুমতি রয়েছে।
তবে এসব প্রতিষ্ঠানকে কর্তৃপক্ষ মাসে ৪৫ ঘণ্টার মধ্যে ওভারটাইম সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়ে আসছিল। এই নির্দেশনাকে কার্যত নিয়মের সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হতো। শ্রম মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, এর কারণ হলো ৪৫ ঘণ্টার সীমা অতিক্রম করলে ‘কারোশি’ বা অতিরিক্ত কাজের কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়।
মঙ্গলবার থেকে কার্যকর নতুন নিয়মে শ্রমমান পরিদর্শন দপ্তরগুলো ৪৫ ঘণ্টার সীমা নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আর চাপ প্রয়োগ করবে না।
জাপান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এক জরিপে মে মাসে দেখা যায়, এ ধরনের চাপ দেশটির প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ‘সীমিত’ করে দিচ্ছে। বিশেষ করে নির্মাণ, পরিবহন ও আতিথেয়তা খাতের মতো জনবল সংকটে থাকা শিল্পগুলো এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তবে সমালোচকরা বলেছেন, এ পদক্ষেপে জাপানের করপোরেট সংস্কার কার্যক্রম পিছিয়ে যাবে। দীর্ঘ কর্মঘণ্টাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা করপোরেট সংস্কৃতিকে আধুনিক করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, এটি তার বিপরীতমুখী পদক্ষেপ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগস্ট মাসে লোকালয় থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২০টি বন্যপ্রাণী, যার মধ্যে ১৭টি বিভিন্ন প্রজাতির সাপ রয়েছে।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, যেখানে চা-বাগান, বন, টিলা এবং জলাভূমি রয়েছে, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ আধার হিসেবে পরিচিত।
তবে, এই প্রকৃতির বাসিন্দারা বারবার মানুষের বসতবাড়ি, আবাসিক এলাকা, কৃষিজমি এবং খামারে ঢুকে পড়ছে। কখনো দেখা যাচ্ছে ঘরের সিলিংয়ে অজগর, কখনো মাছ ধরার জালে দাঁড়াশ, আবার কখনো বসতঘরে বিষধর শঙ্খিনী—এভাবে লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি বাড়ছে।
শুধুমাত্র আগস্ট মাসে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন ২০টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে। ১ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া প্রাণীদের মধ্যে ১৭টি বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, একটি শঙ্খচিল এবং দুটি বানর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া সাপের মধ্যে অজগরের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা ৯টি, যার মধ্যে একটি মৃত অবস্থায় ছিল।
বন্যপ্রাণীর লোকালয়ে প্রবেশের ঘটনা পরিবেশকর্মী এবং বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্টদের কাছে নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তাদের মতে, বনভূমির সংকোচন, প্রাকৃতিক আবাসস্থলে মানুষের অনুপ্রবেশ, খাদ্য এবং নিরাপদ আশ্রয়ের পরিবর্তন, এবং বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে সড়ক ও রেলপথ নির্মাণের মতো বিষয়গুলো বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণকে প্রভাবিত করছে। তবে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, বর্ষা এবং গরমের মৌসুমে বন্যপ্রাণীর চলাচল বৃদ্ধি পাওয়াও লোকালয়ে আসার একটি কারণ হতে পারে।
আগস্টের প্রথম দিকে হাইল হাওরের ধানখেত থেকে অজগর উদ্ধারের মাধ্যমে মাসব্যাপী এই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ২ আগস্ট হাইল হাওর থেকে একটি অজগর, ৩ আগস্ট আরামবাগ থেকে একটি বেত আঁচড়া এবং উত্তর ভাড়াউড়া থেকে আরেকটি অজগর উদ্ধার করা হয়। ৪ আগস্ট পূর্বাশা আবাসিক এলাকা থেকে উদ্ধার হয় আরো একটি বেত আঁচড়া। ৬ আগস্ট হাইল হাওর থেকে উদ্ধার করা হয় একটি মৃত অজগর।
এরপর ১২ আগস্ট শাহীবাগ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি শঙ্খচিল।
পরদিন ৫ নম্বর পুল এলাকা থেকে একটি অজগর এবং ১৪ আগস্ট হাইল হাওর থেকে আরো একটি অজগর উদ্ধার করা হয়। ১৩ আগস্ট উদ্ধার হওয়া অজগরটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১২ ফুট এবং ওজন ছিল প্রায় ১৬ কেজি। পরে সেটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
১৫ আগস্ট ছিল উদ্ধার অভিযানের একটি ব্যস্ত দিন। ওই দিন রূপশপুর থেকে একটি তক্ষক, নোয়াগাঁও থেকে দাঁড়াশ সাপ, উত্তর ভাড়াউড়া ৫ নম্বর বস্তি থেকে একটি লজ্জাবতী বানর এবং বারিধারা আবাসিক এলাকা থেকে একটি বিরল প্রজাতির সাপ উদ্ধার করা হয়।
নোয়াগাঁওয়ে মাছ ধরার জালে আটকে পড়া দাঁড়াশ সাপটিকে স্থানীয়রা না মেরে ফাউন্ডেশনে খবর দেন। পরে উদ্ধারকারী দল গিয়ে সাপটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। স্থানীয়দের এই সচেতনতা বন্যপ্রাণী রক্ষায় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এরপর ১৯ আগস্ট মাঝেরগাঁও থেকে একটি শঙ্খিনী সাপ এবং ২১ আগস্ট শ্যামলী আবাসিক এলাকা থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট একটি উল্টোলেজি বানর উদ্ধার করা হয়। ২৫ আগস্ট পূর্বাশা আবাসিক এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় আরেকটি শঙ্খিনী সাপ। অত্যন্ত বিষধর এই সাপটিকেও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
মাসের শেষ সপ্তাহেও উদ্ধার কার্যক্রম থেমে থাকেনি। ২৬ আগস্ট ভাড়াউড়া বাগান রোড থেকে একটি অজগর এবং সিন্দুরখান ইউনিয়নের কুঞ্জবন এলাকা থেকে বিরল সাইবোল্ডস ওয়াটার স্নেক উদ্ধার করা হয়। পরে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সাপটির প্রজাতি শনাক্ত করা হয়। ২৮ আগস্ট ভাড়াউড়া ৫ নম্বর বস্তি কোয়ার্টার, ২৯ আগস্ট সাতগাঁও-খিলগাঁও এবং ৩০ আগস্ট ইছবপুর থেকে আরো তিনটি অজগর উদ্ধার করা হয়।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, ‘বনের ভেতরে খাবারের সংকট এবং বসবাসের অনুপযোগী পরিবেশের কারণে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে।’
তিনি জানান, ‘উদ্ধার করা প্রাণীগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও পরিচর্যা দিয়ে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।’
বন উজাড়ের বিষয়টি উল্লেখ করে সজল বলেন, ‘বন উজাড় হচ্ছে, খাবার না থাকলে প্রাণী কীভাবে থাকবে? এ বিষয়ে বন বিভাগের আরো গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।’
হাইল হাওর থেকে অজগর উদ্ধারের একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্বপন দেব সজল বলেন, ‘কৃষকেরা প্রথমে সাপটিকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরে স্থানীয় একজন ব্যক্তি বাধা দিয়ে ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল গিয়ে অজগরটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে।’
পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ বলেন, ‘বন্যপ্রাণী দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে অনেক সময় মানুষ সেটিকে হত্যা করেন। অথচ এসব প্রাণী প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’
তিনি বলেন, ‘বাড়ি বা লোকালয়ে সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল বা বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।’
তার মতে, সাপসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই লোকালয়ে চলে আসা প্রাণীকে হত্যা না করে নিরাপদে উদ্ধার করে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে।
বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক বলেন, ‘উদ্ধার করা বন্যপ্রাণীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরাপদ প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আগস্টের শুরুতে উদ্ধার করা অজগরটির ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে বনে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।’
এক মাসে এত বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসার কারণ জানতে চাইলে নাজমুল হক বলেন, ‘এখন গরম ও বর্ষার সময়। এ কারণে হয়তো প্রাণীগুলো লোকালয়ে চলে আসছে। তা ছাড়া খাবার ও অন্যান্য কোনো সংকট নেই।’
তবে বনাঞ্চলের ভেতর দিয়ে সড়ক ও রেলপথ চলে যাওয়ায় বন্যপ্রাণীর চলাচলে সমস্যা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। এতে অনেক প্রাণী আহত বা মারা যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, সড়কপথের বিন্যাস বা ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা গেলে প্রাণীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
রেঞ্জ কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘দিন দিন বনে প্রাণী বাড়ছে, কমছে না। আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি প্রাণী দেখা যাচ্ছে।’
বন বিভাগের এই বক্তব্যের সঙ্গে পরিবেশকর্মীদের পর্যবেক্ষণের জায়গায় রয়েছে ভিন্নতা। সংশ্লিষ্টদের একাংশ মনে করছেন, লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি শুধু মৌসুমি চলাচলের ফল নয়; এর সঙ্গে তাদের আবাসস্থল, খাদ্য ও নিরাপদ বিচরণক্ষেত্রের বিষয়টিও জড়িত।
শ্রীমঙ্গলের বন, চা-বাগান, টিলা ও জলাভূমি ঘিরে মানুষের বসতি ও অবকাঠামো ক্রমেই বাড়ছে। এসব এলাকায় বন্যপ্রাণীর চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হলে তারা বিকল্প পথ হিসেবে মানুষের বসতি, কৃষিজমি কিংবা আবাসিক এলাকায় চলে আসতে পারে। বিশেষ করে সাপের উপস্থিতি বাড়ার অর্থ অনেক সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার ইঁদুর, ব্যাঙ, মাছসহ খাদ্যশৃঙ্খলের বিভিন্ন উপাদানের অবস্থার সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্তমানে শিক্ষায় বাজেটের বরাদ্দ ৩ দশমিক ৪ শতাংশ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই বরাদ্দকে ৫ শতাংশে উন্নীত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে উৎসাহিত করার জন্য একটি করে ট্যাব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) হিসেবে রূপান্তরের ২৩তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
এসময় এহসানুল হক মিলন বলেন, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে একসঙ্গে চারটি বিআইটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়েছিল। তিনি তখন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। তার মতে, শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই ওই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের উৎসাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে এক হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহিত করার জন্য তাদের সাইকেল দেওয়ার উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।
শিক্ষক নিয়োগে বিলম্বের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি জটিলতায় আটকে আছে। দ্রুত এসব জটিলতা দূর করে নিয়োগ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলোর কাঠামো নিয়েও শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট, আর্কিটেকচারের পাশাপাশি আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিংসহ একাধিক বিভাগ খোলার যৌক্তিকতা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। লেদার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিভাগের জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব সুবিধা ও দেশে বিদ্যমান বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বৈদ্যুতিক যানবাহনের যুগে মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে ইভি-সংশ্লিষ্ট কোর্স থাকা জরুরি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে এআই ও রোবোটিক্সের মতো আধুনিক বিষয় চালু করা প্রয়োজন। এআই কোর্স চালুর আবেদন ইউজিসিতে দুই বছর ধরে আটকে থাকার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থীর পেছনে সরকারের ব্যয় প্রায় ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তাই শুধুমাত্র সুন্দর অবকাঠামো তৈরি করলেই হবে না; এ বিনিয়োগের যথাযথ ফলও নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা কোথায় চাকরি করছেন, তাদের কর্মজীবনের অবস্থান কী- অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে এসব তথ্য সংরক্ষণ করা জরুরি।
আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তৈরি হয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে সফল হওয়া শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বের অংশ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও প্রাপ্য।
তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামো নয়, মেধা, গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন করতে হবে।
কুয়েট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি। বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান আলী ও সাধারণ সম্পাদক রায়হান আহমেদ।
এর আগে ক্যাম্পাসে অডিটোরিয়ামের সামনে প্রীতি সমাবেশের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর আনন্দ র্যালি, স্টল পরিদর্শন, কুয়েটের অর্জন ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ বিষয়ক উপস্থাপনা, আলোচনা সভা, প্রজেক্ট প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে কেন্দ্র করে কুয়েটের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। বিভিন্ন আয়োজন ও কর্মসূচি ঘিরে মুখরিত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ