বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:২৪ পি.এম
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ১৩ ছাত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা একই বয়সে স্কুলে বই-খাতা নিয়ে শ্রেণিকক্ষে থাকার পরিবর্তে সংসার জীবনে প্রবেশ করেছে। ৯ম ও ১০ম শ্রেণির এই ছাত্রীদের বাল্যবিবাহের খবর প্রশাসনের নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছে। বাল্যবিবাহের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের উপস্থিত করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বাল্যবিবাহের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির প্রশাসনিক প্রধান সাকিবুর রহমান জানান, জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে স্কুলের শিক্ষার্থীদের ধাপে ধাপে পারিবারিকভাবে মৌখিক বিয়ে হয়েছে ১১ জনের। পরবর্তীতে আরও দুইজনের তথ্য পাওয়া গেছে। মোট ১৩ জনের গোপনে মৌখিকভাবে বিয়ে হয়ে যায়। তবে বিয়ের কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা রেজিস্ট্রি হয়নি। এর মধ্যে অনেকের দেখাদেখি করে রেখে দেওয়া হয়েছিল।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বলেন, ১৩ ছাত্রীর বিয়ের তথ্য পাওয়ার পর ১১ জন ছাত্রী ও তাদের অভিভাবককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বাকি দুজনের নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। নোটিশের পর নির্ধারিত সময়ে আটজন ছাত্রীসহ ১১ জনের অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হন।
নাজমুন নাহার আরও জানান, অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে বাল্যবিয়ে বন্ধ রাখার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে এনে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বলেন, একই বিদ্যালয়ের ১৩ ছাত্রীর বিয়ের বিষয়টি জানার পর তাদের অভিভাবকদের ডেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তারা যেন সংসারে ফিরে না গিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে আসে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ছাত্রীদের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার প্রভাস কুমার দাস, জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির প্রশাসনিক প্রধান সাকিবুর রহমান, তালা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তৌহিদুজ্জামান, ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তালেবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে চাঁদপুরের প্রবাসী নিহত
দক্ষিণ আফ্রিকার সন্ত্রাসীদের গুলিতে মো. জামাল মিয়া, যিনি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার একজন বাংলাদেশি, নিহত হয়েছেন। এই ঘটনা ঘটেছে স্থানীয় সময় ৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে।
মো. জামাল মিয়া ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের সিপাইকান্দি গ্রামের মো. ছিডু মিয়া ব্যাপারীর পুত্র। তার পরিবারে মা-বাবা, স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জীবিকার প্রয়োজনে জামাল মিয়া প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান। সেখানে তিনি একটি ভ্যারাইটি সুপারশপ প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি নিজেই ব্যবসাটি পরিচালনা করছিলেন, তবে সেখানে একজন কর্মচারী নিয়োগ করেছিলেন। ঘটনার রাতে সন্ত্রাসীদের একটি দল তার দোকানে হামলা চালায়। হামলার সময় সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে জামাল মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। হামলায় তার দোকানে কর্মরত একজন কর্মচারীও গুরুতর আহত হয়েছেন।
বর্তমানে আহত কর্মচারী স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জামাল মিয়ার মৃত্যুর ফলে তার পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। বাবাকে হারিয়ে তার তিন সন্তানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মো. ছিডু মিয়া ব্যাপারী বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে তার ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার আইন অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলছুম মনি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "বিষয়টি জানতে পেরে দক্ষিণ আফ্রিকাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সেক্রেটারি-২ এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনাসহ নিহতের পরিবারকে প্রয়োজনীয় বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটের বিশ্বনাথে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতার হামলায় পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ বকুল আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে সহকর্মীরা তাকে প্রথমে বিশ্বনাথ উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পৌর শহরের টিএনটি রোডে এই ঘটনা ঘটে। হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্বনাথ পৌর শহরে উপজেলা ও পৌর ছাত্রদল একটি বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা আয়োজন করে।
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হোসাইন আহমদ প্রবেলের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সম্পাদক রাসেল আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ পৌর বিএনপি নেতা বশির আহমদ, শামছুল ইসলাম, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফখরুল ইসলাম রেজা, সদস্যসচিব জাকির হোসেন ইমনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এ সময় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ছাত্রদল নেতারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা শামীম আহমদকে গ্রেপ্তারের জন্য একটি আলটিমেটাম দেন। অন্যথায়, কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি তারা দেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সহসভাপতি শামীম আহমদ তাঁর ফেসবুক আইডিতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন বিরূপ মন্তব্য করেন। এসব পোস্টের মন্তব্যের ঘরে আবদুল মজিদ বকুল পাল্টা জবাব দেন।
এর জেরে বুধবার সন্ধ্যায় বকুলের বাসায় গিয়ে তাঁর ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিশ্বনাথ পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফখরুল ইসলাম রেজা বলেন, ‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা শামীমের ফেসবুক পোস্টে কমেন্ট করায় সে আমাদের পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বকুলের বাসায় গিয়ে হামলা করেছে। খবর পেয়ে আশপাশে থাকা নেতাকর্মীরা গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।’
এ বিষয়ে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাভারের আমিন বাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন (৫৮) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আরও দুই আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকার আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।
গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি হলেন কাশেম আলী (৩৮) ও দদি আল ফায়েত জিতে (১৯)।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার আমিনবাজার পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মো. জাকির আল আহসান আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অজ্ঞাতনামা আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বাদীর স্বামীকে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে চলে যায়।
মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র-শস্ত্র উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্তকরণের জন্য আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে দশ দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।
শুনানির সময় আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপন করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এখন পর্যন্ত এই মামলায় গ্রেপ্তার আসামির সংখ্যা ১২ জন বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন বিভাগের সূত্র।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা দিকে সাভারের বরদেবী পশ্চিমপাড়ায় আবুল কালাম আজাদের আটোগ্যারেজের সামনে এক ব্যক্তির অটো রাখাকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কি শুরু হয়। সেই তর্কাতর্কি থামাতে গিয়ে আসামিদের তোপের মুখে পড়েন পুলিশ সদস্য মো. আলতাফ হোসেন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি তার ছেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘গ্র্যান্ড ফ্যাশন’-এ আশ্রয় নিলে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সেখানে হামলা চালান।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা আলতাফ হোসেনকে রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।
তাকে বাঁচাতে এলে তার ছেলে আরিফুল ইসলামকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। তারা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়ে ৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে এবং ক্যাশ বাক্স থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা চুরি করে।
পরে আহতদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তার ছেলেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. শিউলী পারভীন বাদী হয়ে সাভার থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১৫ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে সুন্দরবনের ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন সক্রিয় বনদস্যু। এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই তথ্য প্রদান করেন।
কোস্ট গার্ড জানায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল, যিনি রহমত নামেও পরিচিত, তার সাথে ১২ জন সক্রিয় সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণের সময় উদ্ধার করা হয় একটি এইট শ্যুটার, একটি সিক্স শ্যুটার, একটি ফোর শ্যুটার, একটি সাইড হেমার, একটি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, দুটি এম-থ্রি গ্যাস গান, দুটি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, দুটি ওয়ান শ্যুটার এবং দুটি এয়ারগান। এছাড়া, ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তলের ২০ রাউন্ড গুলি, ৮ মি.মি. পাঁচ রাউন্ড তাজা গোলা, এয়ারগানের ৪১৩ রাউন্ড গোলা, চারটি পিস্তল ম্যাগাজিন, দুটি এয়ারগান ম্যাগাজিন এবং ছয়টি ওয়াকিটকি চার্জারসহ জব্দ করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা মন্তব্য করেন যে, কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সুন্দরবনের বিভিন্ন সক্রিয় দস্যু বাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। আত্মসমর্পণকারী ১২ সদস্যের মধ্যে জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) এবং আব্দুর রহমান শেখ (৩৬) খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া, শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজী (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকার এবং আজিজুর রহমান (৪৫) বাগেরহাটের রামপাল এলাকার বাসিন্দা।
কোস্ট গার্ডের দাবি, আত্মসমর্পণকারীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ভাই বাহিনীর সদস্য হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের কাজে জড়িত ছিলেন।
জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং আত্মসমর্পণকারী বনদস্যুদের পুনর্বাসনের বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সরকারের নির্দেশনা, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে কোস্ট গার্ড আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ