বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
১১:৪০ এম
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
দুর্দান্ত ধারাবাহিকতার কারণে, তিনি টানা তিন ম্যাচে ‘ফিফা ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার জিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। এই ফরোয়ার্ডটি রিয়াল মাদ্রিদের।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ে ব্রাজিল জয় না পেলেও, দলের সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফর্মার ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মাঠজুড়ে তার সক্রিয় উপস্থিতি ও আক্রমণে ধারাবাহিক প্রভাবের কারণে ম্যাচসেরার পুরস্কার তার হাতেই ওঠে।
এরপর, হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম চালিকাশক্তি ছিলেন ভিনিসিয়ুস। গতি, ড্রিবলিং এবং সুযোগ সৃষ্টির দক্ষতার কারণে তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে বারবার চাপের মধ্যে ফেলে দ্বিতীয় ম্যাচে আবারও ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে ব্রাজিল হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে। সেই ম্যাচেও সবচেয়ে প্রভাবশালী ফুটবলার ছিলেন ভিনিসিয়ুস। ফলে, টানা তৃতীয়বারের মতো ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে তিনি অনন্য এক কীর্তি গড়েন।
পুরো গ্রুপ পর্বজুড়ে ভিনিসিয়ুসের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ব্রাজিলকে শুধু আত্মবিশ্বাসই দেয়নি, বরং শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেও দলটিকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে। প্রতিটি ম্যাচেই তার গতি, সৃজনশীলতা এবং আক্রমণভাগে কার্যকারিতা প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত ফর্ম ফুটবল অঙ্গনের আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। নকআউট পর্বেও যদি তিনি একই ছন্দ ধরে রাখতে পারেন, তাহলে ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আরও শক্ত ভিত্তি পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে দুই ঘণ্টা উৎকণ্ঠায় কাটিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এক প্রবাসী। তিনি তার বোন ও মায়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে তাদের বেঁচে থাকার বিষয়ে তীব্র সংশয় অনুভব করেন।
গতকাল সন্ধ্যায় ওই প্রবাসীর বোন ভেরোনিকা তার ভাইয়ের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠাতেন। এই বার্তায় আতঙ্কিত কণ্ঠে তিনি জানান, বাড়িটি ভয়ানকভাবে কেঁপে উঠেছে এবং এখনও কাঁপছে। এর পর আকস্মিকভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর পরবর্তী দুই ঘণ্টা ধরে ভেরোনিকা বা তার সঙ্গে থাকা মায়ের ফোনে বারবার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
কিছুক্ষণ পর কারাকাসের সাংবাদিকদের চ্যাট গ্রুপের মাধ্যমে ওই প্রবাসী জানতে পারেন যে সেখানে বড় একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এরই মাঝে তার এক বন্ধু তাকে লস পালোস গ্রান্দেস এলাকার একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ার ভিডিও ক্লিপ পাঠান। ভিডিওটি দেখার পর উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়, কারণ ধসে পড়া ভবনটি তার মায়ের এবং বোনের অবস্থানস্থল থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে ছিল।
এলাকাটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবরে পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছিল। ঠিক দুই ঘণ্টা পর ভেরোনিকা পুনরায় ইন্টারনেট সংযোগ ফিরে পেয়ে ফোনে আসতেই আকুল হয়ে জানান, 'আপু, আমি ভেবেছিলাম আমরা আজই মারা যাব।' কথাটি বলেই সংযোগটি আবার কেটে যায়। ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলে তারা কি নিজেদের বাড়িটি এখনও বসবাসের উপযোগী কি না, তা দেখতে আগামীকালই ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে ভেরোনিকার।
সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান ঢাকা ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল চালুর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, পর্যটন এবং জনগণের যোগাযোগকে আরও গভীর করা।
সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের ড. জলিল রাহিমী জাহানাবাদী। এই সাক্ষাত্কারে তিনি সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রস্তাবটি তুলে ধরেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ এবং ইরান এর মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন একটি মাত্রা অর্জন করবে।
রাষ্ট্রদূত সাক্ষাতে জানান, সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরো বলেন, তিনি বাংলাদেশ ও ইরান এর মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ভবিষ্যতে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে আলোচনা হয় ইরান থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য, ইউরিয়া সার এবং বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমানের তৈরি পোশাক ইরান এর বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।
উভয় পক্ষ মত প্রকাশ করে জানান, সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু হলে ব্যবসায়ী, পর্যটক এবং বিনিয়োগকারীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৭ বছর বয়সী নাতনি কাই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা কয়েকটি ভিডিও ব্লগ বা ভ্লগের কারণে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন।
এই ভিডিওগুলোতে তিনি হোয়াইট হাউসের ব্যক্তিগত আবাসিক অংশের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখিয়েছেন, যা সাধারণত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে না।
কাইয়ের প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে হোয়াইট হাউসের এমন কিছু অংশ দেখা গেছে, যা নিয়মিত দর্শনার্থীদের ভ্রমণসূচির অন্তর্ভুক্ত নয়। এর মধ্যে রয়েছে একটি বোলিং অ্যালি, গলফ সিমুলেটর কক্ষ, আধুনিক ব্যায়ামাগার এবং ব্যক্তিগত পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ। ভিডিওতে কাই আরো জানান, তিনি হোয়াইট হাউসের ঐতিহাসিক লিংকন বেডরুমেও থেকেছেন। এই কক্ষটি হোয়াইট হাউসের সবচেয়ে পরিচিত এবং ইতিহাসসমৃদ্ধ কক্ষগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
এ ছাড়া তার ভ্লগে হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশের দৃশ্যও দেখা যায়। ফলে ভিডিওগুলো প্রকাশের পর দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
অনেকেই কাই ট্রাম্পের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, ভিডিওগুলো সাধারণ মানুষের কাছে হোয়াইট হাউসের ভেতরের একটি ভিন্ন ও ব্যতিক্রমী চিত্র তুলে ধরেছে।
একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের বাড়ি বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভিডিও তৈরি করেন। কিন্তু কাই ট্রাম্প স্বাভাবিকভাবে হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখিয়েছেন। তার ভিডিওতে ওভাল অফিস এবং প্রেসিডেন্টের বিখ্যাত রেজোলিউট ডেস্কও দেখা গেছে। অনেকের মতে, এটি যেন ইতিহাসকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ। আরেকজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, কাই সম্ভবত প্রথম কোনো প্রেসিডেন্টের নাতনি, যিনি এভাবে হোয়াইট হাউসের ভেতরের জীবন নিয়ে খোলামেলা ভিডিও তৈরি করেছেন। তার মতে, অতীতে অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট পরিবারের সদস্য এমন উদ্যোগ নেননি।
তবে সবাই এই ভিডিওগুলোকে ইতিবাচকভাবে দেখেননি। কোনো সরকারি দায়িত্ব না থাকা একজন কিশোরীকে এত বড় পরিসরে প্রচারের সুযোগ দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক সমালোচক। তাদের মতে, কাই মূলত প্রেসিডেন্টের নাতনি হওয়ার কারণেই বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করছেন। একজন সমালোচক মন্তব্য করেন ‘দুঃখের বিষয় হলো, শুধু ট্রাম্পের নাতনি হওয়ার কারণেই কাইকে তারকাখ্যাতির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এরপর হয়তো তাকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কমিটির প্রধানও করা হবে। এখন সময় এসেছে এই দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থা পরিষ্কার করার।’ তিনি এটিকে রাজনৈতিক প্রভাব ও বিশেষ সুবিধার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
কাই ট্রাম্পের ভ্লগগুলো শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তাই পায়নি, বরং নতুন একটি বিতর্কও তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্টের পরিবারের ব্যক্তিগত জীবন এবং জনসাধারণের জানার অধিকারের মধ্যে সীমারেখা কোথায় হওয়া উচিত তা নিয়ে এখন অনেকেই আলোচনা করছেন। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে হোয়াইট হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক একটি স্থাপনা কীভাবে মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, কাইয়ের ভিডিওগুলো দেখিয়েছে যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নতুনভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম। তবে এর সঙ্গে গোপনীয়তা, নিরাপত্তা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষার বিষয়গুলোও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি ডেলছি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, শক্তিশালী ভূমিকম্পে বর্তমানে অন্তত ৩২ জন নিহত এবং প্রায় ৭০০ জন আহত হয়েছে। এটি ভূমিকম্পের পর সরকারিভাবে প্রকাশিত প্রথম হতাহতের হিসাব।
অন্যদিকে, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় নিহত ও আহতের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে হতাহতের সর্বশেষ সংখ্যা জানানো হবে। এদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) সতর্ক করে বলেছে, এই দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়নে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের পশ্চিম এলাকায় এই ভয়াবহ ভূমিকম্প দুটি অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার (১৭৬ মাইল) পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে, যার মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২। এর পরপরই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার (১৮২ মাইল) পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
ভূমিকম্পে দেশটির রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়েছে। বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে এবং সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। উদ্ধারকর্মীরা জীবিতদের খুঁজে বের করতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলছি রদ্রিগেজ বলেছেন যে, ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ