ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যশের সঙ্গে বাঁধনছাড়া ঘনিষ্ঠতা! কটাক্ষের মুখে কিয়ারা, স্ত্রীর কঠিন সময়ে পাশে থাকছেন সিদ্ধার্থ?


যশের সঙ্গে বাঁধনছাড়া ঘনিষ্ঠতা! কটাক্ষের মুখে কিয়ারা, স্ত্রীর কঠিন  সময়ে পাশে থাকছেন সিদ্ধার্থ?

কিয়ারা আডবাণী তার স্বামী সিদ্ধার্থ মলহোত্রের পাশে থেকে কঠিন সময় কিভাবে কাটাচ্ছেন, সে বিষয়টি নিয়ে অভিনেত্রী একটি পুরনো সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছিলেন। সেই পুরনো মন্তব্য আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

‘টক্সিক’ ছবির ঝলক প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই কিয়ারা আডবাণীর বিরুদ্ধে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ‘তবাহি’ গানটি মুক্তির পর থেকে তিনি একাধিক কটাক্ষের মুখে পড়েছেন। গানটির দৃশ্যে কিয়ারা ও যশের মধ্যে উদ্দাম ঘনিষ্ঠতা প্রদর্শিত হয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন যে, কিয়ারা অতিরিক্ত সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করেছেন। এই কারণে নানা রকমের ট্রোলিং-এর শিকার হতে হচ্ছে কিয়ারা আয় ডবাণীকে। এমন পরিস্থিতিতে দর্শকরা জানতে ইচ্ছুক যে, সিদ্ধার্থ মলহোত্র কীভাবে তার স্ত্রীর পাশে রয়েছেন।

কিয়ারা এই কঠিন সময়ের মধ্যে সিদ্ধার্থ তার স্ত্রীর মনোবলকে কোনভাবে শক্ত করেন, সে বিষয় নিয়েও তিনি এক পুরনো সাক্ষাৎকারে আলোচনা করেছিলেন। কিয়ারা বলেন, “সমাজমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য আমাকে খুবই প্রভাবিত করেছিল। তখন আমি এসব বিষয় নিয়ে স্বামীর সঙ্গে কথা বলিনি। কিন্তু সিদ্ধার্থ নিজেও সব কিছু দেখেছিল। তবে প্রথমে কিছু বলেনি।”

আরও পড়ুন: শাহরুখের ছবিতে কাজ করতে না পেরে আজও আক্ষেপ নেহার

পরে সিদ্ধার্থ তাকে বোঝান। কিয়ারা বলেছিলেন, “তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘দেখো, নেতিবাচক মন্তব্য সবসময়ই থাকবে। কিন্তু তুমি যদি এগুলোকে এত গুরুত্ব দাও, বাড়িতে বসে কাঁদো আর মনে করো সব শেষ হয়ে গেছে, তাহলে সমস্যা হবে। তোমরা তাদের চেনো না, তারাও তোমাকে চেনে না। সময়ের সাথে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু তুমি কেন এগুলোকে এত গুরুত্ব দিচ্ছ?’” সিদ্ধার্থের এই উক্তি কিয়ারা আডবাণীর মনে সাহস জুগিয়েছিল এবং তিনি মনে করেছিলেন যে, “যদি সিদ্ধার্থ এরূপ পরিণতির দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে সক্ষম হয়, তাহলে কেন আমি এত ভেঙে পড়ছি?”

তবে, এটি একটি পুরনো ভিডিওর মন্তব্য। পর্দায় যশের সঙ্গে কিয়ারার ঘনিষ্ঠতার ব্যাপারে সিদ্ধার্থের প্রতিক্রিয়া এখনও স্পষ্ট নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেতাদের একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বিব্রত জামায়াত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৮ পি.এম


নেতাদের একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বিব্রত জামায়াত

জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের একের পর এক বিতর্কিত ঘটনা দলটিকে নতুন করে অস্বস্তিতে ফেলেছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই ঘটনাগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে ঘটনার প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় সাম্প্রতিক সময়ে দলটির ভেতরে শৃঙ্খলাভঙ্গ, বিদ্রোহী প্রার্থী, সাংবাদিকের ওপর হামলা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের মতো একাধিক ঘটনায় দীর্ঘদিনের ‘সুশৃঙ্খল দল’ হিসেবে জামায়াতের ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একটি কক্ষে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে।

গাজী নজরুল ইসলাম তাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে এ বিয়ে হয়েছে। তবে ভিডিওটি কীভাবে প্রকাশ্যে এলো, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে জানান, বিষয়টি নিয়ে আরও খোঁজখবর নেওয়া হবে এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে দলটির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। অনেকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। দলীয় নীতিনির্ধারকদের মতে, গত ১৭ বছর রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত সাংগঠনিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। একইসঙ্গে দলটির সাংগঠনিক বিস্তার আগের তুলনায় অনেক বেড়ে যাওয়ার ফলে তৃণমূল পর্যায়ে সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান বিতরণকে ঘিরে একটি ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকায় তার মেয়ের নাম রয়েছে— এমন অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়। পরে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তার ব্যক্তিগত সহকারীকে বরখাস্ত করা হয়। ঘটনাটি দলীয়ভাবে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির বিষয়টিকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।

গত ২৩ জুন রাজধানীর ধানমন্ডিতে স্থানীয় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিলের পর তর্ক-বিতর্ক থেকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করে জামায়াত। পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে তদন্তসাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

তার আগে গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার খুতবার আগে এক আলোচনায় কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াত ইসলামীর সংসদ সদস্য আমির হামজা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্যে টুকুকে তিনি ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পরে বক্তব্যটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়।

এ ঘটনায় গত ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির কর্নেল একটি মানহানির মামলা দায়ের করেন। একই অভিযোগে পৃথক আরেকটি মামলা করেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ভিপি শামীম খান। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। এ অভিযোগে দণ্ডবিধির ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় মামলা দুটি দায়ের করা হয়।

নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ২১ এপ্রিল আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশেরও নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে ১৪ জুন শুনানি শেষে আদালত দুটি মামলাতেই তার স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন।

বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন গত ৭ জুন সংসদের বাইরে থাকা মাল্টিমিডিয়ার রিপোর্টারদের সঙ্গে আমির হামজা বাজেট নিয়ে কথা বলেন। সেখানে তিনি বলেন, বাজেট ২০০ কোটি টাকা হওয়া উচিত। আরেকবার বলেন, বাজেট ছয় হাজার কোটি টাকা হওয়া উচিত। এবারের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার। আমির হামজা পরে জানান, তিনি বলতে চেয়েছিলেন, ছয় লাখ কোটি টাকার বাজেট হওয়া উচিত। মুখ ফসকে ছয় হাজার কোটি বলে ফেলেছেন। আমির হামজার বক্তব্যেও অস্বস্তিতে পড়েছিলেন জামায়াত leadership।

বাজেট অধিবেশনে গত ১৭ জুন সংসদে দেওয়া বক্তৃতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াত ইসলামীর সংসদ সদস্য মু. মিজানুর রহমান এমপিদের সরকারি ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও জানালার পর্দা চেয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা বাজেটের ওপর কথা বলছি। সম্পূরক বাজেটও পাস হয়েছে। কিন্তু সংসদ সদস্যদের আবাসিক ফ্ল্যাটগুলোতে জানালা-দরজার পর্দাগুলো এখনও ঝোলানো হয়নি। আমরা শুনেছিলাম, আমাদের এই ফ্ল্যাটগুলোতে একটি করে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন দেওয়া হবে। এই পর্দা, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন পাওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

এই বক্তব্যের কারণে প্রথমে সামাজিক মাধ্যম, পরে সরকারি দলের সমালোচনার মুখে পড়ে জামায়াত। বিএনপির জোট শরিক বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ টিপ্পনী কেটে বলেন, তিনি জামায়াত এমপিকে ওভেন দিতে চান। প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে ওয়াশিং মেশিন দেওয়া হলে সংসার সাজিয়ে দেওয়া হবে।

গত ১৪ জুন নীলফামারী-৪ আসনের জামায়াত ইসলামীর এমপি আব্দুল মুনতাকিম বাজেট আলোচনায় দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধে তার পরিবারের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা আছে। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা, আমার দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা-চাচা) সাত ভাই; চারজনই মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন; ১১ জনই মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। আমি জুলাইযোদ্ধা।’

পরে জানা যায়, এমপি মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালে। তার বাবা জীবিত। এ বক্তব্যের কারণে সংসদের ভেতরে ও বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে জামায়াত। সামাজিক মাধ্যমে ট্রল হয়। এমপি পরে ভুল স্বীকার করে বক্তব্য সংশোধনের জন্য স্পিকারকে চিঠি দেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় কয়েকজনকে বহিষ্কার করা হয়। একইসঙ্গে সুনামগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা কমিটি বিলুপ্ত করে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে এরপরও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকায় দলীয় সমর্থন পাওয়ার জন্য তদবির ও প্রচারণা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও দলীয় শৃঙ্খলা পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করছেন।

গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে ‘লোহাগাড়ার এমপি আরমান সাহেব, শাহজাহান চৌধুরী এখানে আসলে পায়ে গুলি করব’— এমন একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে লক্ষ্য করে এই হামলার পরিকল্পনার অডিও ফাঁস হওয়ার পর স্থানীয় রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।

ফাঁস হওয়া ওই অডিওতে সংসদ সদস্যের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবে পরিচিত আরমান উদ্দিনের কণ্ঠ রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়েছিল। এতে একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ওপর সহিংস হামলার পরিকল্পনার ইঙ্গিত থাকায় এলাকা জুড়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অডিওতে কথোপকথন চালানো দুই ব্যক্তির মধ্যে একজন হলেন আরমান উদ্দিন। অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি হলেন বিএনপির যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত মো. তারেকুল হক। তিনি লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের রশিদার পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।

ফাঁস হওয়া অডিওতে তারেকুলকে আরও বলতে শোনা যায়, 'লোহাগাড়ায় এমপি কেন আসবে? আসলে পায়ে গুলি করে জিজ্ঞেস করব কেন এসে। এখানে আরমান সাহেবের কথাই চলবে।' জবাবে আরমান উদ্দিনকে বলতে শোনা যায়, 'এমপিকে তো লোহাগাড়ায় না আসতে বলি। তারপরেও লোকজনের জ্বালায় আসে।'

কথোপকথনের এক পর্যায়ে তারেকুল নামের ওই যুবদল নেতা আরও বলেন, 'বাদশা খালেদের মতো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে থাকব।' জবাবে আরমান উদ্দিন বলেন, 'এসব করলে পুলিশ আসবে, আর্মি আসবে, এমপি আসবে।'

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, অডিওতে কথা বলা তারেকুল হক লোহাগাড়া এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাহাড়ের মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত একটি প্রভাবশালী চক্রের ঘনিষ্ঠ হতে পারেন।

এই পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, কেউ যদি মনে করেন যে তাকেই জনপ্রতিনিধি হতে হবে, তাহলে তিনি ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হওয়ার যোগ্যতা হারাবেন। তার বক্তব্যের মাধ্যমে দলীয় আদর্শ ও ব্যক্তিগত পদলাভের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের কয়েকজন শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, অনেকেই এখন আদর্শের কারণে নয়, সম্ভাব্য ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার আশায় দলে যোগ দিতে চাইছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহও বেড়েছে। এতে নতুন যোগদানকারীদের উদ্দেশ্য ও দলীয় আদর্শের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।

দলের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সরাসরি সদস্য হতে পারেন না। প্রথমে সহযোগী সদস্য, পরে কর্মী এবং নির্ধারিত ধর্মীয় ও সাংগঠনিক শর্ত পূরণ করে রুকন হওয়ার সুযোগ রয়েছে। নেতৃত্বের বিভিন্ন স্তরেও গোপন ভোটে নির্বাচন হয় এবং কেউ নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন না।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে দল সম্প্রসারণের প্রয়োজনে এ প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে শিথিল হয়েছে বলে একাধিক নেতা মন্তব্য করেছেন। তাদের দাবি, জাতীয় নির্বাচনের আগে তুলনামূলক দ্রুত সহযোগী সদস্য গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে অতীতে দলের সঙ্গে নিয়মিত সম্পৃক্ত না থাকা অনেকেই এখন স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় সমর্থন চাইছেন এবং কোথাও কোথাও অনুমতি ছাড়াই প্রচারণাও চালাচ্ছেন।

নির্বাচনের সময় নতুন সমর্থকদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও এখন আলোচনায়। একটি সংসদীয় আসনে নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিপুলসংখ্যক কর্মী প্রয়োজন হওয়ায় অনেক অদলীয় ব্যক্তিকেও প্রচারণায় যুক্ত করা হয়েছিল। নির্বাচনের পর তাদের একটি অংশ স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী বলয় গড়ে তুলছেন, যা পুরনো সাংগঠনিক কাঠামোর সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি করছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও কয়েকটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর ঘটনা সামনে আসে। সুনামগঞ্জ, নরসিংদী ও চট্টগ্রামের কয়েকটি আসনে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কারও সদস্যপদ বাতিল, কারও বহিষ্কার এবং কোথাও পুরো জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। ময়মনসিংহের একটি আসনে দলটির ইতিহাসে প্রথম বিদ্রোহী প্রার্থীর ঘটনাও ঘটে। আবার কুমিল্লার একটি আসনে সম্ভাব্য দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে আসনটি জোটের শরিককে ছেড়ে দিতে হয়েছিল।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। ব্যক্তিগত পদ-পদবির আকাঙ্ক্ষা থাকতেই পারে, তবে সেটি যদি সাংগঠনিক নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে দল বড় হওয়ার চেয়ে আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তথ্য সূত্র— ঢাকা মেইল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্প কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে নামছেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৪ পি.এম


ট্রাম্প কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে নামছেন?

 

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গোটা বিশ্বের ওপর ছড়ি ঘোরাতে সব অস্ত্র নিয়ে মাঠে নেমেছেন। গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলা থেকে তাদের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ‍তুলে এনে, ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক সক্ষমতার বাস্তব প্রমাণ দিয়েছে।

যদিও ইরানে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ আমেরিকানরা পছন্দ করছে না। তবে সামরিক অস্ত্রের বাইরেও ট্রাম্পের আরেকটি প্রিয় অস্ত্র আছে—শুল্ক।

গত বছর, সব বাণিজ্য সহযোগী দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে তুলকালাম বাঁধিয়ে দিয়েছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই শুল্ক বাতিল করে দিয়ে ট্রাম্পকে এই শুল্ক আগ্রাসন থেকে নিবৃত করেন।

তারপরও থেমে যাননি ট্রাম্প। ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ধারা ১২২-এর অধীনে সাময়িকভাবে ঢালাও ১০ ভাগ শুল্ক আরোপ করেছিলেন তিনি, যার মেয়াদ এই সপ্তাহে শেষ হতে চলেছে।

বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞার বাইরে, শুল্ক ট্রাম্পের খুবই প্রিয়। নিজেদের বিশাল বাজারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশকে শায়েস্তা করতে কথায় কথায় শুল্ক আরোপের হুমকি দেন ট্রাম্প।

ভারত, রাশিয়া থেকে তেল কিনলে বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হয়। গত সপ্তাহে ব্রাজিলের বাণিজ্য নীতিকে অন্যায্য দাবি করে বাণিজ্য আইনের ধারা ৩০১-এর অধীনে ব্রাজিলের অনেক পণ্যের ওপর ২৫ ভাগ নতুন শুল্ক ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

অস্ত্র হিসেবে শুল্ক ট্রাম্পের এতই প্রিয়, গত সপ্তাহে কানাডায় দাবানলের কারণে উড়ে আসা ধোঁয়ায় পরিবেশের ক্ষতি পোষাতে কানাডার ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। দাবানল ট্যাক্স আরোপ না করলেও হুমকির তিনদিনের মাথায় সোমবার কানাডার কিছু পণ্যের ওপর ৫০ ভাগ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।

আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই শুল্ক কার্যকর হবে এবং এর আওতায় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্য পড়বে।

মেক্সিকো, কানাডার সঙ্গে যৌথভাবে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করলেও এ দুই প্রতিবেশীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালো নয়। মেক্সিকোর সঙ্গে সম্পর্ক আগে থেকেই খারাপ। কানাডা আমেরিকার বন্ধু প্রতিবেশীই ছিল। তবে ট্রাম্প কানাডার সঙ্গে রীতিমতো পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া বাঁধিয়ে সম্পর্ক খারাপ করছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে কানাডাকে আমেরিকার ৫১তম অঙ্গরাজ্য হয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।

ক্ষমতায় না হলেও আয়তনে বড় কানাডার রাজনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষ ট্রাম্পের এ আহ্বানে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তারা এটিকে কানাডার সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি হিসেবেই বিবেচনা করেন। দাবানলের বিপদে পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো শুল্ক আরোপের হুমকিও সাধারণ মানুষকে মর্মাহত করেছে।

সর্বশেষ কানাডার কিছু পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ ভাগ শুল্ক আরোপকে বিবেচনা করা হচ্ছে সরাসরি শত্রুতার ঘোষণা হিসেবে। চীন ছাড়া আর কোনো দেশের পণ্যের ওপরই যুক্তরাষ্ট্রের এত উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করার নজির নেই।

গত বছর বিশ্বজুড়ে পাল্টা শুল্ক আরোপের পর অধিকাংশ দেশই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করেছে। কেবল কানাডা আর চীনই পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিল। পাল্টা শুল্ক আরোপ করেই বসে থাকেনি কানাডা। তারা চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তোলে।

বিষয়টি ভোলেননি ট্রাম্প। তাইতো কানাডাকে শায়েস্তা করতে প্রায় শত বছরের পুরোনো একটি আইন খুঁজে বের করেছেন তিনি। ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্টের ৩৩৮ ধারা অনুযায়ী কানাডার পণ্যে ৫০ ভাগ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যদিও এ আইনের ব্যবহার বিরল।

যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি, ডেইরি পণ্য ও অ্যালকোহলের ক্ষেত্রে কানাডা বৈষম্যমূলক আচরণ করছে—এমন অভিযোগ তুলে ট্রাম্প এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার শুল্ক নিয়ে টানাপড়েনটা পুরোনো। ট্রাম্পের নানা বক্তব্য আর গত বছর পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের ঘটনা দুদেশের সম্পর্ককে তলানিতে নিয়ে গেছে।

পাল্টা হিসেবে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ির ওপর বাড়তি শুল্ক তো আরোপ করেছেই, পাশাপাশি চীন থেকে গাড়ি আমদানি বাড়িয়েছে। বাড়তি শুল্কের কারণে কানাডায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেইরি পণ্য ও অ্যালকোহলের বাজার ছোট হয়ে গেছে।

কানাডায় দুধের আমদানি নির্ধারিত সীমা ছাড়ালে ৩০০ শতাংশের বেশি শুল্ক দিতে হয়। গত বছর থেকে কানাডার অধিকাংশ প্রদেশে কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের মদ বর্জন করা হচ্ছে। বাড়তি শুল্কের কারণে কানাডায় মার্কিন গাড়ি রপ্তানি ২২ ভাগ এবং অ্যালকোহল রপ্তানি ৮১ ভাগ কমে গেছে। ডেইরি পণ্যের বাজারেও ধ্বস নেমেছে। এর প্রতিশোধ হিসাবেই যুক্তরাষ্ট্র ৫০ ভাগ বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিল।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ইউএসএমসিএ) সই হয়েছিল। কানাডা ও মেক্সিকো চুক্তিটি নবায়নের পক্ষে থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসনের এখন আর সেই চুক্তি নিয়ে আগ্রহ নেই। যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএমসিএ চুক্তি সংশোধন করতে চায়। নতুন আরোপিত শুল্কের ব্যাপারে ট্রাম্প এতটাই কড়া যে, ইউএসএমসিএ চুক্তির আওতায় থাকা পণ্যকেও এ শুল্ক দিতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, ‘ইউএসএমসিএর সরাসরি লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র যে একতরফা পদক্ষেপগুলো এনে দিচ্ছে, এটি তার সর্বশেষ উদাহরণ।’

গত রবিবার নিউজার্সিতে বিশ্বকাপ ফাইনালে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কথা হয়েছে। কিন্তু তার পরদিনই আসলো ৫০ ভাগ শুল্কের বিশাল বোঝা। তবে মার্ক কার্নি বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা আরো জোরদার করতে তারা প্রস্তুত। মার্ক কার্নি বলেন, তার দেশ মুক্ত এবং ন্যায্য বাণিজ্যের সুফলে বিশ্বাসী। কার্নি আরো বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই কানাডা অবিরাম কাজ করে যাবে এবং দেশের শক্তি বাড়াতে ও কানাডার শ্রমিক, কৃষক, ব্যবসায়ী ও পরিবারগুলোকে সহায়তা করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

তবে অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড মার্ক কার্নির মত অত কৌশলী নন। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, যদি এই শুল্ক কার্যকর করা হয়, তবে কানাডার উচিত হবে শুল্কের বদলে শুল্ক এবং ডলারের বদলে ডলার হিসেবেই এর জবাব দেওয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে বিএনপির কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৮ পি.এম


রাজধানীতে বিএনপির কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

রাজধানীর সবুজবাগে মো. পলাশ (৩৬) নামে বিএনপির এক কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে রাজারবাগ বাজার এলাকায় হামলার শিকার হন পলাশ।

নিহত পলাশ লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুর এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে ও সবুজবাগের ৭১ নম্বর মাদারটেক এলাকায় বাস করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে রাজারবাগ বাজারে পানির পাম্পসংলগ্ন একটি মুদি দোকানের সামনে পলাশের ওপর হামলা চালায় ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল।

এসময় ধারাল অস্ত্র দিয়ে পলাশকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়, যার ফলে তার দুই হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এ ছাড়া বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলাকারীরা এরপর পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা পলাশকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, পূর্ববিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

সবুজবাগ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা না করত, আজ ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না : ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩০ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা না করত, আজ ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না : ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা না করত, তাহলে আজ ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকত না। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আল জাজিরার লাইভ আপডেট থেকে এ তথ্য জানা যায়।

ট্রাম্প সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া ইরানের পারমাণবিক চুক্তি (নিউক্লিয়ার ডিল) যদি বাতিল না করা হতো, তবে ইরান অনেক আগেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হতো। আমরা যদি সেই চুক্তি বাতিল না করতাম, তাহলে আজ ইসরায়েল থাকত না। কারণ ইরান বহু বছর আগেই পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যেত।’

তিনি আরও দাবি করেন, তার প্রশাসনের শুরুতেই অর্থাৎ ২০২৫ সালের মাঝামাঝিতে যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছিল।

ট্রাম্পের দাবী অনুযায়ী, সেই হামলার কারণেই ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এক বছর আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস না করতাম, তাহলে আজ তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকত।’ ফলে শুধু ইসরায়েল নয়, মধ্যপ্রাচ্যের আরও বেশ কয়েকটি দেশও তখন গুরুতর হুমকির মুখে পড়ত বলে তিনি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%