সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৩৬ পি.এম
খালের বিভিন্ন স্থানে মোট আটটি কালভার্ট ছিল। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় বিধ্বস্ত হয়ে যায় সবগুলো। কালভার্টের দুই পাশের সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে খালে মিশে যায়। দুই বছর অতিবাহিত হলেও সড়কগুলো নির্মাণ করা হয়নি।
কালভার্টগুলোর অবস্থান লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বিচ্ছিন্ন জনপদ বয়ারচর এলাকার গাবতলী খালে অবস্থিত।
এদিকে, স্থানীয়রা বিকল্প সড়ক তৈরি করায় বর্তমানে কালভার্টগুলো সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বয়ারচর এলাকার তেগাছিয়া বাজারসংলগ্ন গাবতলী খালের মাঝে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে কালভার্টগুলো। কালভার্টের দুই পাশে সড়কের কোনো অস্তিত্ব নেই।
স্থানীয়রা জানান, মেঘনা ও ভুলুয়া নদীর জোয়ারের তোড়ে কালভার্টের দুই পাশের সড়ক ভেঙে খালে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে খালের মাঝখানে কালভার্টগুলো দাঁড়িয়ে রয়েছে। বিকল্প সড়ক ব্যবস্থা করায় কালভার্টগুলো এখন সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জেগে ওঠা চরগুলোতে দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ২০০৭ সালে বয়ারচরের গাবতলী খালের বিভিন্ন স্থানে আটটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল। চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট (সিডিএসপি) প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি কালভার্টের ব্যয় ধরা হয়েছিল পাঁচ লাখ করে মোট ৪০ লাখ টাকা।
দীর্ঘ ১৭ বছর কালভার্টগুলো জনগণের উপকারে এলেও ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার নদীর পানির স্রোতসহ নানা কারণে সংযোগ সড়ক ভেঙে খালে পরিণত হয়। এরপর থেকে কালভার্টগুলো অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
সূত্র জানায়, সিডিএসপি প্রকল্পের কাজ চরে বসবাসকারী দরিদ্রদের জীবনযাত্রার মান ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নত করা, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙন থেকে চর রক্ষায় বাঁধ ও জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ করা।
এ ছাড়া চরের জমিতে কৃষিকাজ বাড়াতে সহায়তা এবং প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে জমির মালিকানা বা পর্চা বিতরণ করাসহ সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, যোগাযোগ ও বাজার ব্যবস্থাপনার সুযোগ সৃষ্টি করা ছিল প্রকল্পের লক্ষ্য। বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস সরকার যৌথভাবে সিডিএসপি প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা পরিচালনা করত।
স্থানীয়রা জানান, তেগাছিয়া বাজারসংলগ্ন কালভার্টের পশ্চিম পাশে মোহাম্মদপুর, পূর্ব পাশে ডাকাইয়া গ্রাম অবস্থিত। দুই গ্রাম ও আশপাশের পাঁচটি গ্রাম মিলে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের বসবাস। এসব বাসিন্দা স্থানীয় তেগাছিয়া বাজার, টাঙ্কি বাজার, ব্রিজঘাট ও রামগতি বাজারে যাতায়াতের জন্য আটটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল প্রকল্পের আওতায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহ জানান, কালভার্টগুলো একসময় মানুষ ব্যবহার করলেও এখন পরিত্যক্ত। কারণ কালভার্টের দুই পাশের সংযোগ সড়ক অনেক আগেই ভেঙে গেছে। খালের মাঝখান থেকে এগুলো সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
আরেক বাসিন্দা মো. বাবলু বলেন, কালভার্টগুলো এখন আমাদের জন্য ক্ষতিকর। পানির স্রোত এসে কালভার্টের সঙ্গে ধাক্কায় আশপাশের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই দ্রুত সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ফরিদ বলেন, কালভার্টগুলো মানুষের কোনো উপকারে আসছে না। এগুলো এখন আমাদের জন্য বিষফোঁড়া। দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, খবর নিয়ে কালভার্টগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করে তা নিলামের ব্যবস্থা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি সেপ্টেম্বর মাসে মধ্য মালিতে জঙ্গি হামলার ফলে ১০০ জনেরও বেশি সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর মালির ডিওরা শহরে এই ভয়াবহ হামলা সংঘটিত হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের উল্লেখ করা হয়েছে যা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মালির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলার সময় আক্রান্ত সামরিক ক্যাম্প থেকে সেনাদের নিরাপদ স্থানে সফলভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ চালাতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে একটি বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এই অভিযানে শত্রুদের বিভিন্ন ঘাঁটিতে শক্তিশালী হামলা চালানো হয়েছে।
আরো পড়ুন
ফুড ডেলিভারির ছদ্মবেশে সাবেক প্রেমিকা ও তার সঙ্গীকে হত্যা, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
এর আগে সেভারে শহরের বিমানবন্দরে সংঘটিত আরেকটি হামলা মূলত আল-কায়েদার সাথে সম্পর্কিত জঙ্গি গোষ্ঠী ‘জেএনআইএম’-এর সাম্প্রতিক সহিংস কার্যক্রমের অংশ ছিল। ২০২০ এবং ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মালির ক্ষমতা দখলকারী বর্তমান সেনা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এই জঙ্গি গোষ্ঠী একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত এপ্রিল মাসে জেএনআইএম এবং তুয়ারেগ বিদ্রোহীদের নেতৃত্বাধীন বিচ্ছিন্নতাবাদী দল ‘এফএলএ’ একযোগে দেশজুড়ে ভয়াবহ সিরিজ হামলা চালায়। ওই হামলায় মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত হন এবং দেশের প্রধান বিমানবন্দরে ব্যাপক আঘাত হানা হয়। এই ঘটনাটি স্পষ্ট করে দেয় যে, ইসলামপন্থী উগ্রবাদী ও বিদ্রোহীদের দমনে মালির সরকারি বাহিনী এবং তাদের সহযোগী যোদ্ধারা মাঠে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারছে না।
আরো পড়ুন
আফগানিস্তানে বিমান হামলায় ২৮ জঙ্গি হত্যার দাবি পাকিস্তানের
এদিকে, ১০ সেপ্টেম্বরের ডিওরা শহরের হামলায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ১৩০ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং ১০০ জনেরও বেশি সেনাকে জিম্মি করে নিয়ে গেছে জঙ্গিরা। অন্যদিকে, একটি কূটনৈতিক সূত্রের মতে, সেখানে প্রায় ১২০ জন সেনা নিহত হয়েছেন; যা মালির সামরিক জান্তার জন্য একটি বড় ধাক্কা।
আরো পড়ুন
ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে তিন গণমাধ্যম
এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত শনিবার মালির সেনাবাহিনী একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে, হামলার পর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা তাদের পাল্টা অভিযানে কিছু বীর সেনা সদস্য দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। সেইসাথে, এই বিশেষ অভিযানে জঙ্গি গোষ্ঠীটির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করা সম্ভব হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে ছয়জনকে কারাদণ্ড এবং পাঁচজনকে অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিআরটিএর মিরপুর কার্যালয় প্রাঙ্গণে এই অভিযানটি অনুষ্ঠিত হয়।
বিআরটিএ-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুজ্জামানের নেতৃত্বে আদালত-৩ এর আওতায় অভিযানটি সম্পন্ন হয়। অভিযানের সময় বিআরটিএ মিরপুর কার্যালয়ের এলাকা থেকে ১১ (এগারজন) দালালকে আটক করা হয়। এর মধ্যে পাঁচজনকে মোট ৩০,০০০/- (ত্রিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়, এবং বাকি ৬ (ছয়) জনের প্রত্যেককে ৬০ (ষাট) দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন মো. মনির মোল্ল্যা, সুজন চন্দ্র দাস, মো. আল আমিন, মো. টিপু, মোফাজ্জেল হোসেন এবং আব্দুল মান্নান শিকদার।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুজ্জামান মন্তব্য করেন, "এই প্রতারক চক্র বিআরটিএ মিরপুর কার্যালয়ে আসা গ্রাহকদের দ্রুত কাজ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কাগজপত্র ও টাকা-পয়সা নিয়ে পালিয়ে যেত—এমন অসংখ্য অভিযোগ আমাদের কাছে ছিল।" তিনি আরও বলেন, "সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি দূর করতে এবং বিআরটিএ-কে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত রাখতে আমাদের এই অভিযান নিয়মিত চলমান আছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট নগরের মীরবক্সটুলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তিনটি ফার্মেসিকে প্রায় অর্ধলাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এক ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযানটি পরিচালিত হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে মীরবক্সটুলা এলাকার তিনটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। এই সময় অনুমোদনহীন ওষুধ ও বেবি ফুডস বিক্রির অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৪৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযানে দি পপুলার ফার্মেসিকে ১৮ হাজার, লয়েডস মেডিক্যালকে ১৫ হাজার এবং সাফওয়ান মেডিক্যাল হলকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা আহমেদ লুনা। অভিযান শেষে তিনি উল্লেখ করেন, ‘অভিযানকালে তিনটি প্রতিষ্ঠানে অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রির কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এ সময় মোট ৪৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’
জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা আহমেদ লুনা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মুঠোফোন না পাওয়ার কারণে মা-বাবার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ নিয়ে থানায় উপস্থিত হয়। পরে পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) পরামর্শ ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টির তাৎক্ষণিক সমাধান করা হয়।
এই ঘটনা রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ঘটে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আল আমিন হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের মহনপুর গ্রামের সফিক মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। রবিবার রাত ১০টার দিকে মা-বাবার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ নিয়ে হাজীগঞ্জ থানায় আসে আল আমিন।
ঘটনার পর কিশোরটির সঙ্গে কথা বলার জন্য উপপরিদর্শক (এসআই) জহির হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর রাতের মধ্যেই তার মা-বাবাকে থানায় ডেকে আনা হয়।
এসআই জহির হোসেন জানান, কিশোরটির সঙ্গে কথা বলে জানা যায় যে, মা-বাবা তাকে মুঠোফোন ব্যবহার করতে না দেওয়ার কারণে সে ক্ষুব্ধ হয়ে মারধরের অভিযোগ করেছে। তবে প্রকৃতপক্ষে তাকে কোনো মারধর করা হয়নি।
তিনি আরও জানান, কিশোরটির মনের কষ্ট দূর করতে কিছুক্ষণ কাউন্সেলিং করা হয়। পরে তাকে বুঝিয়ে হাসিমুখে তার বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ