বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:১২ পি.এম
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন, যা জ্বালানি নিরাপত্তা, দক্ষ জনশক্তি অভিবাসন, কারিগরি শিক্ষা, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারিকে অন্তর্ভুক্ত করে।
আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এই আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।
অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গভর্নর জেনারেল স্যাম মস্টিন এসি’র পক্ষ থেকে অভিবাদন জানান এবং আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছাপত্র প্রদান করেন। রাষ্ট্রপতি অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর জেনারেলকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাব দেন।
তিনি অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি অনুসন্ধান, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, চিকিৎসা কৌশল, লজিস্টিকস ও উৎপাদন খাতে অস্ট্রেলিয়ার আরো বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
আগামী নভেম্বরে ক্যানবেরায় অনুষ্ঠেয় সিনিয়র কর্মকর্তাদের বৈঠক ও টিআইএফএ বৈঠক দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশি পেশাজীবীদের, বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল ও অন্যান্য কারিগরি ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ায় দক্ষ জনশক্তি অভিবাসনের সুযোগকে স্বাগত জানান।
এছাড়া বৃত্তি ও একাডেমিক বিনিময় কর্মসূচিতে অস্ট্রেলিয়ার অব্যাহত সহযোগিতা এবং ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরার একটি ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কর্মশক্তির জন্য কর্মোপযোগী দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার টেকনিক্যাল অ্যান্ড ফার্দার এডুকেশন (টিএএফই) প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর (টিটিসি) সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন রাষ্ট্রপতি। এ ক্ষেত্রে কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি দীর্ঘস্থায়ী এ সংকটে অস্ট্রেলিয়ার অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং সংকটের টেকসই সমাধানে দেশটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া অংশীদারি ভবিষ্যতে বাস্তব অর্থনৈতিক সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও চলাচল বৃদ্ধির ওপর আরো বেশি গুরুত্ব দেবে।
হাইকমিশনার অস্ট্রেলীয় ব্যবসায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, কর সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ইতিবাচক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বাংলাদেশে ব্যাংকিং সংস্কারের প্রশংসা করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার বিদ্যমান সহযোগিতা আরো জোরদারে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান।
এই সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেসসচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিনটন পবকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
৬৪ বছর বয়সে তৃতীয়বার বিয়ে করেছেন হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী জিম ক্যারি। দীর্ঘদিনের প্রেমিকা মিন আহকে বিয়ে করার খবরটি নিশ্চিত করেছেন জিম ক্যারির মুখপাত্র। ‘দ্য মাস্ক’ ও ‘ব্রুস অলমাইটি’খ্যাত এই অভিনেতা লস অ্যাঞ্জেলেসে ঘরোয়া ও ব্যক্তিগত আয়োজনের মাধ্যমে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছেন।
মিন আহর বয়স ৩২ বছর। তবে তাদের বিয়ের সঠিক তারিখ এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। জিম ক্যারি বরাবরই তার ব্যক্তিগত জীবন আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন, তাই বিয়ের আয়োজনও ছিল বেশ গোপনীয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবার জনসমক্ষে একসঙ্গে দেখা যায় জিম ক্যারি ও মিন আহকে। তারা প্যারিসে অনুষ্ঠিত সিজার অ্যাওয়ার্ডসে একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে জিম ক্যারিকে সম্মানসূচক সিজার পুরস্কার প্রদান করা হয়।
পুরস্কার গ্রহণের সময় মিন আহকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন জিম। ফরাসি ভাষায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি পরিবারের সদস্যদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি মিন আহকে নিজের বিশেষ সঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করেন।
এটি জিম ক্যারির তৃতীয় বিয়ে। এর আগে ১৯৮৭ সালে মেলিসা ওমারকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। তাদের একটি মেয়ে রয়েছে, জেন এরিন ক্যারি। ১৯৯৫ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।
এরপর ১৯৯৬ সালে ‘ডাম্ব অ্যান্ড ডাম্বার’ সিনেমার সহশিল্পী লরেন হলিকে বিয়ে করেন জিম ক্যারি। তবে এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে সেই সম্পর্কের ইতি ঘটে এবং ১৯৯৭ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়।
কে এই মিন আহ?
লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসকারী অভিনেত্রী ও শিল্পী মিন আহ। জিম ক্যারির তুলনায় তিনি বরাবরই অনেকটা আড়ালে ছিলেন। তার অভিনয়জীবন ও ব্যক্তিগত পরিচয় নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি তথ্য নেই।
তবে জিম ক্যারির সঙ্গে সম্পর্কের কারণে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিজার অ্যাওয়ার্ডসের পর থেকেই আলোচনায় আসেন মিন আহ। ওই অনুষ্ঠানে জিমের মেয়ে জেন ও নাতি জ্যাকসনের পাশেই বসেছিলেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আগামীকাল শুক্রবার (২ অক্টোবর) পঞ্চমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘সুপার সেল কার বাজারের’ আসর।
চার সপ্তাহ ধরে চলা দারুণ সাড়া পাওয়ার পর এবার পঞ্চম সপ্তাহের জন্য গাড়ি কেনা-বেচার এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ক্রেতারা এখানে তাদের পছন্দের গাড়িটি কেনার সুযোগ পাচ্ছেন, সেইসাথে নিজের ব্যবহৃত গাড়িটিও সঠিক দামে বিক্রি করতে পারছেন।
৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই গাড়ি কেনা-বেচার আসর এখন থেকে নিয়মিতভাবে প্রতি শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে। এখানে ক্রেতারা কোনো ঝক্কিঝামেলা ছাড়াই তাদের পছন্দের বাইক কিংবা গাড়ি কিনতে সক্ষম হচ্ছেন।
এছাড়া প্রয়োজন হলে নিজের ব্যবহৃত বাইক কিংবা চার চাকার গাড়িও বিক্রি করা সম্ভব। উদ্বোধনী দিনেই ‘সুপার সেল কার বাজার’ অনেকের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। অনেক ক্রেতা মনে করছেন, এই শহরের ব্যস্ততায় এমন আয়োজন নিঃসন্দেহে স্বস্তির।
তাহলে ক্রেতাদের নিয়মিত স্বস্তি দিতে আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ‘সুপার সেল কার বাজার’ বসবে।
নতুন, পুরাতন ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ি, মোটরবাইক এবং ইউটিলিটি ভেহিকেলের বিশাল সমাহার এই কার বাজারে থাকবে।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি নিয়মিত ও আধুনিক মার্কেটপ্লেসের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। ‘সুপার সেল কার বাজার’ সেই চাহিদা পূরণে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে ক্রেতারা এক জায়গায় বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের যানবাহন সম্পর্কে জানার এবং তুলনা করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি বিক্রেতারাও সরাসরি সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হচ্ছেন।
‘সুপার সেল কার বাজার’ আয়োজন করছে উইজার্ড শোবিজ এবং ভেন্যু পার্টনার হিসেবে রয়েছে আইসিসিবি। এই আয়োজনে বিভিন্ন ব্র্যান্ড, ডিলারশিপ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অটোমোবাইল-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন নতুন, রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়ি এবং মোটরসাইকেল বিশেষ ছাড়ে কেনাবেচার সুযোগও রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করেছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর আক্তারুজ্জামান, যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা। জামায়াত নেতার উচ্চবাচ্যের মধ্যেও নির্বাহী পরিচালক শান্ত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। এই ঘটনার জন্য তিনি ধৈর্য ও পেশাদারির পরিচয় দিয়ে প্রশংসিত হচ্ছেন।
আজ বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরে এই ঘটনা ঘটে। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, জামায়াত নেতা আক্তারুজ্জামান বিমানবন্দর নির্বাহী পরিচালককে বলেন, ‘কাজ করেন না, কিছু করেন না। ঘাড় ধরে বের করে দেব।’ তিনি নির্বাহী পরিচালককে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘মার খেতে চান।’ আখতারুজ্জামান আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন সাফার করছি। চাকরি ছেড়ে এখান থেকে চলে যান।’
ভিডিওতে নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগীব সামাদকে শান্ত থাকতে দেখা যায়। তিনি অসাধারণ ধৈর্য ও পেশাদারির পরিচয় দিয়ে ওই নেতাকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেন।
এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগীব সামাদের প্রশংসা করা হচ্ছে। সাকিব নামের একজন লিখেছেন, ‘ভদ্রতারও লিমিট থাকে, পরিচালক তার উদাহরণ।’ অন্য একজন নির্বাহী পরিচালকের উদ্দেশে মন্তব্য করেছেন, ‘লোকটা অনেক ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছেন।’
জানা গেছে, বিজি৩৮৮ ফ্লাইটে আসার পর জমজমের পানিসহ আক্তারুজ্জামানের একটি লাগেজ নিয়ে এই ঘটনা ঘটে। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতা নির্বাহী পরিচালকের ওপর ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেন।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত অন্যান্য জামায়াত নেতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান অঞ্চলে অবস্থিত জাতিগতভাবে বৈচিত্র্যময় প্রজাতন্ত্র বসনিয়া। আগামী রবিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সাবেক যুগোস্লাভিয়ার এই দেশের জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচন দেশটির ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের প্রচেষ্টাকে প্রভাবিত করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রভাবকেও প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি, ইইউতে যোগদানের আলোচনা দীর্ঘসূত্রতা এবং রাজনৈতিক সংকটের কারণে দেশটির মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। প্রায় ৩০ লাখ মানুষের বসনিয়ায় চলমান রাজনৈতিক সংকট দেশটির বিভক্তির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সালের যুদ্ধের পরও বিভাজন কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলকানের এই ছোট্ট দেশটি। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ বছর ধরে দেশটির জনসংখ্যা কমছে। বিনিয়োগে স্থবিরতা, দুর্নীতি এবং তরুণদের বিদেশে পাড়ি জমানোর প্রবণতা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
যুদ্ধকালীন জাতিগত বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন দেশটির ভোটাররা। তবে বাস্তবে রাজনীতি এখনো সেই বিভাজনেই আটকে রয়েছে। প্রার্থীরা সাধারণত নিজেদের শক্ত ঘাঁটির বাইরে খুব বেশি প্রচারণা চালান না।
দেশটির রাজধানী সারায়েভোর ৪৭ বছর বয়সী ভোটার দামির বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, "নির্বাচনের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ, বিচারব্যবস্থার সংস্কার এবং জাতিগত বিভাজনের অবসান প্রত্যাশা করি।" তিনি ইউরোপের আরও সক্রিয় ভূমিকার আশাও প্রকাশ করেন।
জটিল ভোটব্যবস্থা
বসনিয়া দুটি প্রধান অঞ্চলে বিভক্ত—সার্ব-অধ্যুষিত রিপাবলিকা সার্পস্কা এবং বসনিয়াক-ক্রোয়াট ফেডারেশন। দুর্বল কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে অঞ্চল দুটি যুক্ত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১৯৯৫ সালে বসনিয়ায় সাড়ে তিন বছরের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটানো ঐতিহাসিক ‘ডেটন শান্তিচুক্তি’ দেশটিতে শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করলেও সমালোচকদের মতে, এটি জাতিগত বিভাজনকে আরো দীর্ঘস্থায়ী করেছে।
আগামী রবিবার ভোটাররা কেন্দ্রীয় ত্রিপক্ষীয় প্রেসিডেন্সি ও জাতীয় সংসদের পাশাপাশি দুটি ফেডারেল অঞ্চলের আইনসভা নির্বাচনে ভোট দেবেন। পরদিন সোমবার থেকে প্রাথমিক ফল প্রকাশ শুরু হতে পারে।
নির্বাচনে বসনিয়াকদের এসডিএ, সার্বদের এসএনএসডি এবং ক্রোয়াটদের এইচডিজেড বায়এইচ—জাতীয়তাবাদী দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বহুজাতিক বিরোধী জোট, যার নেতৃত্বে রয়েছে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসডিপি)।
রাজনৈতিক সংকট ও বিদেশি প্রভাব
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ব সীমান্ত এবং রাশিয়ার মিত্র সার্বিয়ার মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে বসনিয়া দীর্ঘদিন ধরে বড় বড় বিদেশি শক্তিগুলোর প্রভাব বিস্তারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে। বলকান অঞ্চলে নিজেদের সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করলেও ইইউর সঙ্গে বসনিয়ার ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।
রয়টার্স জানাচ্ছে, গত বছর সার্ব নেতা মিলোরাদ দোদিককে আন্তর্জাতিক শান্তি দূতের আদেশ অমান্যের দায়ে বসনিয়ার একটি আদালত এক বছরের কারাদণ্ড দেয়। পরে সেই সাজা জরিমানায় রূপান্তর করা হয়। দোদিকের প্রতি রাশিয়া সমর্থন জানালেও যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে গত বছর তার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে।
এদিকে, বসনিয়াক-ক্রোয়াট ফেডারেশন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির জন্য ১৫০ কোটি ডলারের একটি পাইপলাইন প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছে। তবে প্রকল্পটির সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা একটি প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা উদ্বেগ জানিয়েছেন।
বসনিয়ার ডেটন চুক্তি বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের ভূমিকা নিয়েও ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।
জার্মান সরকারের সাবেক কর্মকর্তা ক্রিশ্চিয়ান শ্মিট গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে পদত্যাগ করার পর এ পদটি এখনো শূন্য রয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ