শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৩৪ পি.এম
পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপি ফটোসেশনের রাজনীতি করে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফটো শো’র রাজনীতিতেও তাদের কোনো আগ্রহ নেই।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে, তাই এই সময়ের মধ্যে সব কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা করা সঠিক নয়।
আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর পৌর এলাকার রহমতখালী খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে সারা দেশে নদী-নালা, খাল ও জলাশয় পরিষ্কারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে লক্ষ্মীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষক দল যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনেক বেশি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের গুম, খুন ও নির্যাতনের পর জনগণের রায়ে গঠিত সরকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছে।
বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় জামায়াত লংমার্চ করার পরিকল্পনা করছে, এটি সঠিক নয়। বিরোধী দলের উচিত কেবল সমালোচনা না করে সরকারের ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়ে সহযোগিতা করা। তিনি আরও বলেন, "আর আমরাও সেই প্রত্যাশাই করি।"
এ সময় সারা দেশে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক নেতা নিজেদের দূরদর্শী মনে করলেও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করে জনগণের সুবিধা দেওয়ার কাজ কেউ করেননি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী চিন্তা ও পরিকল্পনা থেকেই এই বিশাল কাজটি হাতে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ একটি চলমান প্রক্রিয়া, এটি ছয় মাসে শেষ হওয়ার সুযোগ নেই। তবে খাল পুনঃখননের সুফল জনগণ ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছে। এর ফলে পানি নিষ্কাশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মহসিন কবির স্বপন, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, জেলা কৃষকদলের সভাপতি মাহাবুব আলম মামুন এবং সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলসহ স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও এর অধীন দপ্তরগুলোতে ২০তম গ্রেডের ৫৭টি পদে নিয়োগ পেয়েছেন প্রার্থীরা। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে কোনো ধরনের তদবির বা আর্থিক লেনদেনের প্রয়োজন হয়নি।
নবনিয়োগপ্রাপ্তদের দাবি, চাকরি পাওয়ার জন্য আবেদনপত্রের জন্য নির্ধারিত ৬০ টাকা ব্যতীত তাদের অন্য কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয়নি। বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদও এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা চাপের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২০তম গ্রেডে নবনিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের নিয়ে আয়োজিত ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান সংশ্লিষ্টরা। নিয়োগপ্রাপ্ত জুলহাস হোসেন, হাসি আক্তার, মোহাম্মদ বুলবুল ইসলামসহ কয়েকজন জানান, তারা এর আগে একাধিকবার চাকরির মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। মেধা থাকা সত্ত্বেও তখন চাকরি পাননি।
এবার তারা কোনো ধরনের তদবির বা আর্থিক লেনদেন ছাড়াই চাকরি পাওয়ায় অত্যন্ত আনন্দিত। কর্মজীবনে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, এর অধীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়গুলো এবং বরিশাল সার্কিট হাউসে ২০তম গ্রেডের ৮২টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ৩০ অক্টোবর থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে নিয়োগ পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করে ৮২টি পদের মধ্যে ৫৭টি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুন তালুকদার বলেন, "কোনো ধরনের তদবির ও আর্থিক লেনদেন ছাড়াও যে সরকারি চাকরি পাওয়া যায়, নবনিয়োগপ্রাপ্তরা তার প্রমাণ। নিয়োগপ্রাপ্তরাই জানেন কিভাবে তারা চাকরি পেয়েছেন।"
বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ বাসসকে জানান, তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের চাপের কাছে নতিস্বীকার করেননি। বরিশালে যোগদানের পর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় শতাধিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, "কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ হয়েছে, তাহলে আমি চাকরি ছেড়ে দেব।"
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল বৈষম্যহীন ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্তরা এর সুফল পেয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে তারা কর্মক্ষেত্রে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন যে, দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আজ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিলেটে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে হাসপাতালের ড্রেনেজ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সমস্যা সাত দিনের মধ্যে সমাধান করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
মন্ত্রী বলেন, "দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে একটি চক্র রোগীদেরকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যায়।" তিনি আরও জানান, এই দালাল চক্রকে ধরার জন্য ডিজিএফআই, র্যাবসহ সকল আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী একযোগে কাজ করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, "ইতোমধ্যে বহু হাসপাতালে তারা অভিযান পরিচালনা করেছেন।" এসব অভিযানের ফলে পূর্বের তুলনায় দালাল চক্রের উৎপাত কমেছে বলে জানান তিনি।
অবৈধ ক্লিনিক এবং ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান সম্পর্কে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ক্লিনিক সিলগালা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, "যেসব ক্লিনিকে অবৈধ চিকিৎসক এবং ভুয়া সনদধারী টেকনিশিয়ান দিয়ে অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে, সেসব প্রতিষ্ঠানও সিলগালা করা হচ্ছে।" তিনি নিজে এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংগ্রহ করে অভিযান পরিচালনার বিষয়টি তদারকি করছেন বলেও জানান।
ডাক্তারদের উপস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "গত এক মাসে ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করে চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি পেয়েছি।" তিনি জানান, চিকিৎসকদের আচরণ এবং হাসপাতালের খাবারের মান আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন নৌবাহিনী, থাইল্যান্ডের পাতায়া বিনোদনকেন্দ্রে মদ্যপ অবস্থায় মারামারিতে জড়িত দুই নাবিককে রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এ ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে। স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, এই বিতর্কিত ঘটনার পর কোনো থাই আইন লঙ্ঘন না হওয়ায় ওই নাবিকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।
পাতায়া সিটি পুলিশের প্রধান কর্নেল আনেক শ্রাথংইউ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে প্রখ্যাত নাইটলাইফ এলাকা 'ওয়াকিং স্ট্রিট'-এর কাছে দুই নাবিকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা আকস্মিক আওয়াজ ও বিশৃঙ্খলা লক্ষ্য করে পুলিশে খবর দেন যাতে সংঘাত বড় আকার ধারণ না করে। তবে পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাটিকে অত্যন্ত সামান্য উল্লেখ করে জানান, তারা নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি করছিলেন এবং ঘটনাটি গুরুতর রূপ নেয়ার আগেই তাদের মার্কিন কর্তৃপক্ষের জিম্মায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ রণতরীটি ২৮০ দিনেরও বেশি সময় সাগরে কাটানোর পর সম্প্রতি পাতায়া বন্দরে ভিড়েছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের ফলে জাহাজের ভেতরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, খাবার সংকট এবং নৌসদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যয় নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। থাইল্যান্ডে মার্কিন রণতরীর এই যাত্রাকে কেন্দ্র করে পাতায়ার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মন্দা মৌসুমে বিপুল বাণিজ্যের আশা করলেও বাস্তবে এর প্রভাব এখনো বেশ কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ